২৫/১. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৬৪৫-[১৮] - সালামে সাওয়াব বৃদ্ধির শিক্ষা
সালাম - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
সালামে সাওয়াব বৃদ্ধি: চল্লিশ নেকির বর্ণনা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৪৬৪৫-[১৮]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪৬৪৫-[১৮]
وَعَن معَاذ بْنِ أَنَسٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِمَعْنَاهُ وَزَاد ثُمَّ أَتَى آخَرُ فَقَالَ: السَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ وَمَغْفِرَتُهُ فَقَالَ: «أَرْبَعُونَ» وَقَالَ: «هَكَذَا تكون الْفَضَائِل». رَوَاهُ أَبُو دَاوُد
মু'আয ইবনু আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি নবী (ﷺ) হতে উপরিউক্ত হাদীসের সমার্থক হাদীস বর্ণনা করেন। তিনি নিম্নোক্ত বাক্যগুলো বর্ধিত করেন, অতঃপর আরো এক ব্যক্তি এসে বলল : “আস্সালা-মু ‘আলায়কুম ওয়া রহমাতুল্লা-হি ওয়া বারাকা-তুহু ওয়া মাগফিরাতুহ”। তখন তিনি (ﷺ) বললেন : এ ব্যক্তির জন্য চল্লিশ নেকি লেখা হলো। তিনি (ﷺ) আরো বললেন : এভাবে সাওয়াব বৃদ্ধি পায়।
[১] য‘ঈফ : আবূ দাঊদ ৫১৯৬, য‘ঈফ আত্ তারগীব ওয়াত্ তারহীব ১৬২১। হাদীসটি য‘ঈফ হওয়ার কারণ, এর সনদে ‘‘আব্দ মারহুম ‘আবদুর রহমান ইবনু মায়মূন’’ এবং ‘‘সাহল ইবনু মু‘আয’’ নামের দুজন বর্ণনাকারীর দ্বারা দলীল গ্রহণ করা যায় না। দেখুন- ‘আওনুল মা‘বূদ ১৪/৭০ পৃঃ, হাঃ ৫১৯৬।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৬৪৫-[১৮]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসটি আগের সালামের হাদিসের সমার্থক বর্ণনা। এতে আরও একটি বাক্য যোগ হয়েছে। একজন ব্যক্তি আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু ওয়া মাগফিরাতুহ বললে নবী صلى الله عليه وسلم বলেন, তার জন্য চল্লিশ নেকি লেখা হলো। এরপর তিনি বলেন, এভাবেই সাওয়াব বৃদ্ধি পায়। হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, সালাম একটি দোয়া এবং এতে শান্তি, রহমত, বারাকাত ও মাগফিরাতের আবেদন থাকে। বাক্য যত পূর্ণ হয়, তত বেশি কল্যাণের দিক দেখানো হয়েছে। তবে ব্যাখ্যায় অতিরিক্ত কিছু যোগ করার দরকার নেই; হাদিসের কথাই যথেষ্ট। মুসলিম জীবনে সালাম ছোট কাজ হলেও এর ভেতর বড় আদব আছে। এটি কথার শুরুতে ভালোবাসা, দোয়া ও নিরাপত্তার বার্তা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সালামের বাক্য পূর্ণ করলে সাওয়াব বৃদ্ধির শিক্ষা পাওয়া যায়।
- সালাম শান্তি, রহমত, বারাকাত ও মাগফিরাতের দোয়া বহন করে।
- মুসলিমের অভিবাদন দোয়ার ভাষায় হওয়া উচিত।
- ছোট আমলও নিয়ত ও আদবের কারণে মূল্যবান হতে পারে।
