২৫/৯. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৮০৫-[২৩] - সত্যের পক্ষে কবিতা
বক্তৃতা ও কবিতা আবৃত্তি - তৃতীয় অনুচ্ছেদ
সত্যের পক্ষে কবিতা: হাস্সান রা.-এর ঘটনা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৪৮০৫-[২৩]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪৮০৫-[২৩]
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَضَعُ لِحَسَّانَ مِنْبَرًا فِي الْمَسْجِدِ يَقُومُ عَلَيْهِ قَائِمًا يُفَاخِرُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أوينافح. وَيَقُولُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ اللَّهَ يُؤَيِّدُ حَسَّانَ بِرُوحِ الْقُدُسِ مَا نَافَحَ أَوْ فَاخَرَ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ». رَوَاهُ البُخَارِيّ
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হাস্সান ইবনু সাবিত (রাঃ)- এর জন্য মসজিদে মিম্বার স্থাপন করতেন। হাস্সান (রাঃ) তার উপর দণ্ডায়মান হতেন এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সম্পর্কে গর্বের কবিতা আবৃত্তি করতেন অথবা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পক্ষ হতে বিদ্রূপাত্মক কবিতা পাঠ করতেন। আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলতেন : আল্লাহ তা'আলা “রূহুল কুদ্স” অর্থাৎ- জিব্রীল (আঃ)-এর দ্বারা হাস্সানকে সাহায্য করছেন, যতক্ষণ পর্যন্ত সে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর পক্ষ থেকে ভর্ৎসনার প্রতিউত্তর দিতে থাকে বা সত্য গৌরব প্রকাশ করতে থাকে।
[১] হাসান সহীহ : হাদীসটি বুখারীতে মুসনাদ ও তা‘লীকরূপে বর্ণিত হয়নি। দেখুন- হিদায়াতুর্ রুওয়াত ৪/৩৭২, সিলসিলাতুস্ সহীহাহ্ ১৬৫৭, তিরমিযী ২৮৪৬, আবূ দাঊদ ৫০১৫, আবূ ইয়া‘লা ৪৭৪৬, মুসতাদরাকে হাকিম ৬০৫৮।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৮০৫-[২৩]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে কবিতার একটি ভালো দিক দেখা যায়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাস্সান ইবনু সাবিত রাদিয়াল্লাহু আনহুর জন্য মসজিদে মিম্বার স্থাপন করতেন। তিনি সেখানে দাঁড়িয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষে গৌরব প্রকাশ করতেন বা বিদ্রূপের জবাব দিতেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ হাস্সানকে রূহুল কুদস অর্থাৎ জিবরীল আলাইহিস সালামের মাধ্যমে সাহায্য করছেন, যতক্ষণ সে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পক্ষ থেকে জবাব দিতে থাকে। এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, কবিতা বা ভাষার শিল্প নিজে খারাপ নয়; তা সত্য, সম্মান ও ন্যায়ের পক্ষে ব্যবহৃত হলে ভালো কাজের অংশ হতে পারে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কবিতা সত্যের পক্ষে ব্যবহার হলে তা ভালো কাজ হতে পারে।
- রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর সম্মান রক্ষায় ভাষা ও কবিতার ভূমিকা ছিল।
- ভালো উদ্দেশ্যে বলা কথা বা কবিতা প্রশংসনীয় হতে পারে।
- মসজিদেও ন্যায়ের পক্ষে উপকারী কথা বলার সুযোগ ছিল।
