২৫/৯. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৮০৯-[২৭] - কবিতায় অতিরিক্ত ডুবে যাওয়া
বক্তৃতা ও কবিতা আবৃত্তি - তৃতীয় অনুচ্ছেদ
কবিতায় অতিরিক্ত ডুবে যাওয়া: সতর্কতার হাদিস
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৪৮০৯-[২৭]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪৮০৯-[২৭]
وَعَن أبي سعيدٍ الخدريِّ قَالَ: بَيْنَا نَحْنُ نَسِيرُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بالعرج إِذْ عَرَضَ شَاعِرٌ يُنْشِدُ. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «خُذُوا الشَّيْطَانَ أَوْ أَمْسِكُوا الشَّيْطَانَ لِأَنْ يَمْتَلِئَ جَوْفُ رَجُلٍ قَيْحًا خَيْرٌ لَهُ مِنْ أَنْ يَمْتَلِئَ شِعْرًا». رَوَاهُ مُسْلِمٌ
আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদিন আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- এর সাথে 'আরজ নামক এক গ্রামের মধ্য দিয়ে ভ্রমণ করছিলাম। এমন সময় একজন কবি কবিতা আবৃত্তি করতে করতে সামনে এসে উপস্থিত হলো। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন : এ শয়তানকে ধরে ফেলো অথবা বলেছেন : এ শয়তানকে থামিয়ে দাও। কোন ব্যক্তির উদর কবিতা দ্বারা পরিপূর্ণ করার চেয়ে পুঁজ দ্বারা ভর্তি করা অনেক উত্তম।
[১] সহীহ : মুসলিম ৯-(২২৫৯), সিলসিলাতুস্ সহীহাহ্ ৩৩৬, মুসান্নাফ ইবনু আবূ শায়বাহ্ ২৬০৮৪, আহমাদ ১১০৭২, আস্ সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ২১৬৭৬।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৮০৯-[২৭]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে কবিতার অতিরিক্ত প্রভাব সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে। আবু সাঈদ খুদরী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে ‘আরজ নামক স্থানে যাচ্ছিলেন। তখন একজন কবি কবিতা আবৃত্তি করতে করতে সামনে আসে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে থামাতে বলেন এবং বলেন, কোনো ব্যক্তির পেট কবিতায় ভরে যাওয়ার চেয়ে পুঁজে ভরে যাওয়া তার জন্য ভালো। এই কথার শিক্ষা হলো—কবিতা যদি মানুষের মন, সময় ও ভেতরকে এমনভাবে দখল করে নেয় যে ভালো কথা, সত্য ও আল্লাহর স্মরণ থেকে দূরে সরায়, তাহলে তা বড় ক্ষতির কারণ। তাই কবিতা বা বিনোদনে সীমা থাকা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কবিতায় অতিরিক্ত ডুবে যাওয়া নিন্দনীয় হতে পারে।
- যে কথা মানুষকে ভালো থেকে সরিয়ে দেয়, তা থেকে সতর্ক থাকা দরকার।
- বিনোদন বা সাহিত্য জীবনের মূল উদ্দেশ্যকে ঢেকে ফেলতে পারে না।
- কথা ও কবিতার প্রভাব মানুষের অন্তরে জায়গা করে নেয়।
