২৫/১০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৮৪৯-[৩৮] - আল্লাহর অভিশাপ বলে বদদোয়া নয়
জিহ্বার হেফাজত, গীবত এবং গালমন্দ প্রসঙ্গে - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
অন্যকে অভিশাপ ও জাহান্নামের বদদোয়া থেকে বাঁচা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৪৮৪৯-[৩৮]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪৮৪৯-[৩৮]
وَعَن سَمُرَةَ بْنِ جُنْدُبٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا تَلَاعَنُوا بِلَعْنَةِ اللَّهِ وَلَا بِغَضَبِ اللَّهِ وَلَا بِجَهَنَّمَ». وَفِي رِوَايَةٍ «وَلَا بِالنَّارِ». رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَأَبُو دَاوُد
সামুরাহ্ ইবনু জুনদুব (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : তোমরা একে অপরকে “তোমার ওপর আল্লাহর অভিসম্পাত হোক”, “আল্লাহর গজব হোক” বলে অভিশাপ দেবে না এবং জাহান্নামে প্রবেশের বদ্দোয়াও করবে না। অপর এক বর্ণনায় جَهَنَّمَ -এর শব্দের স্থলে اَلنَّارْ (তথা ‘জাহান্নাম' শব্দটি) উল্লেখ রয়েছে।
[১] সহীহ : তিরমিযী ১৯৭৬, আবূ দাঊদ ৪৯০৬, সিলসিলাতুস্ সহীহাহ্ ৮৯৩, সহীহুল জামি‘ ৭৪৪৩, সহীহ আত্ তারগীব ওয়াত্ তারহীব ২৭৮৯, মুসান্নাফ আবুর রাযযাক ১৯৫৩১, আহমাদ ২০১৭৫, শু‘আবুল ঈ‘মান ৫১৬০, আল মু‘জামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী ৬৭১৫, আল মুসতাদরাক ১৫০।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৮৪৯-[৩৮]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) সরাসরি নিষেধ করেছেন—তোমরা একে অপরকে “তোমার ওপর আল্লাহর অভিসম্পাত হোক”, “আল্লাহর গজব হোক” বলবে না এবং জাহান্নামে প্রবেশের বদদোয়াও করবে না। আরেক বর্ণনায় “জাহান্নাম” শব্দের স্থলে “আগুন” শব্দ এসেছে। এই হাদিস রাগের ভাষা ঠিক করার শিক্ষা দেয়। মানুষের ভুল হতে পারে, বিরোধও হতে পারে; কিন্তু মুখে এমন বদদোয়া আনা বিপজ্জনক। এখানে মূল বিষয় হলো, মানুষের বিরুদ্ধে কঠিন আখিরাতি শাস্তি কামনা না করা। মুমিনের ভাষা সংযত হওয়া উচিত, বিশেষ করে রাগের মুহূর্তে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আল্লাহর অভিসম্পাত বা গজব বলে কাউকে বদদোয়া করা উচিত নয়।
- জাহান্নামের বদদোয়া মুখে আনা থেকে বাঁচতে হবে।
- রাগের সময়ও কথার সীমা রাখা দরকার।
- মুমিনের ভাষা দোয়া ও নসিহতের দিকে বেশি হওয়া উচিত।
