২৫/১০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৮৫১-[৪০] - বাতাসকে অভিশাপ না দেওয়া
জিহ্বার হেফাজত, গীবত এবং গালমন্দ প্রসঙ্গে - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
বাতাসকে অভিশাপ নয়: কথার সংযমের শিক্ষা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৪৮৫১-[৪০]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪৮৫১-[৪০]
وَعَن ابنِ عبَّاسٍ أَنَّ رَجُلًا نَازَعَتْهُ الرِّيحُ رِدَاءَهُ فَلَعَنَهَا. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا تَلْعَنْهَا فَإِنَّهَا مَأْمُورَةٌ وَأَنَّهُ مَنْ لَعَنَ شَيْئًا لَيْسَ لَهُ بِأَهْلٍ رَجَعَتِ اللَّعْنَةُ عَلَيْهِ». رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَأَبُو دَاوُد
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
জনৈক ব্যক্তির চাদর বাতাসে উড়ছিল। তখন লোকটি বাতাসকে অভিসম্পাত করল। এটা শুনে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন : বাতাসকে অভিসম্পাত করো না। কেননা তা তো আদিষ্ট। প্রকৃত ঘটনা এই যে, যে ব্যক্তি কোন বস্তুকে অভিসম্পাত করে, যদি সে বস্তুটি অভিসম্পাতযোগ্য না হয়, তবে তা অভিসম্পাতকারীর দিকেই ফিরে আসে।
[১] সহীহ : আবূ দাঊদ ৪৯০৮, তিরমিযী ২০৬১, সিলসিলাতুস্ সহীহাহ্ ৫২৮, আল মু‘জামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী ১২৫৮৮, আল মু‘জামুস্ সগীর ৯৫৭, শু‘আবুল ঈ‘মান ৫২৩৫, সহীহ আত্ তারগীব ওয়াত্ তারহীব ২৮০০, সহীহুল জামি‘ ৭৮৮৭।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৮৫১-[৪০]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে একজন ব্যক্তির চাদর বাতাসে উড়ছিল। লোকটি বাতাসকে অভিসম্পাত করলে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেন, বাতাসকে অভিসম্পাত করো না; কারণ তা আদিষ্ট। এরপর তিনি বলেন, যে ব্যক্তি এমন কিছুকে অভিসম্পাত করে যা অভিসম্পাতের উপযুক্ত নয়, সেই অভিশাপ তার দিকেই ফিরে আসে। এখানে শিক্ষা খুব বাস্তব। আমরা বিরক্ত হলে অনেক সময় বাতাস, সময়, জিনিস বা পরিস্থিতিকে দোষ দিয়ে কঠিন কথা বলি। কিন্তু হাদিসটি শেখায়, এমন কথা থেকে জিহ্বাকে বাঁচাতে হবে। সব বিরক্তিকর ঘটনা অভিশাপের যোগ্য নয়। মুমিন রাগে নয়, সংযমে কথা বলে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বাতাসকে অভিসম্পাত করতে নিষেধ করা হয়েছে।
- যা অভিশাপের উপযুক্ত নয়, তাকে অভিশাপ দিলে তা ফিরে আসতে পারে।
- বিরক্তির সময়ও ভাষা সংযত রাখা দরকার।
- প্রকৃতির ঘটনাকে গালি না দিয়ে ধৈর্য ধরা ভালো।
