২৫/১০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৮৪৮-[৩৭] - মুমিন অভিসম্পাতকারী নয়
জিহ্বার হেফাজত, গীবত এবং গালমন্দ প্রসঙ্গে - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
মুমিনের মুখে বেশি অভিশাপ মানায় না
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৪৮৪৮-[৩৭]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪৮৪৮-[৩৭]
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا يَكُونُ الْمُؤْمِنُ لعانا». وَفِي رِوَايَة: «لاينبغي لِلْمُؤمنِ أَن يكون لعانا». رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : একজন পরিপূর্ণ মুমিন অধিক অভিসম্পাতকারী হতে পারে না। অপর এক বর্ণনায় আছে, একজন মুমিনের পক্ষে খুব অভিসম্পাতকারী হওয়া সমীচীন নয়।
[১] সহীহ : তিরমিযী ২০১৯, সহীহুল জামি‘ ৭৭৭৪, সহীহ আত্ তারগীব ওয়াত্ তারহীব ২৭৮৭, মুসনাদে আবূ ইয়া‘লা ৫৫৬২, সহীহ আল আদাবুল মুফরাদ ২৩৫, সিলসিলাতুস্ সহীহাহ্ ২৬৩৬, আহমাদ ৮৭৬৭, শু‘আবুল ঈ‘মান ৫১৫১, আল মুসতাদরাক ১৪৫।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৮৪৮-[৩৭]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, একজন পরিপূর্ণ মুমিন অধিক অভিসম্পাতকারী হতে পারে না। আরেক বর্ণনায় এসেছে, মুমিনের পক্ষে খুব অভিসম্পাতকারী হওয়া সমীচীন নয়। এখানে মূল বিষয় হলো অভিশাপকে অভ্যাস বানানো থেকে বাঁচা। অনেক সময় রাগে মানুষ মানুষকে, জিনিসকে বা অবস্থাকে অভিশাপ দেয়। কিন্তু হাদিসটি মুমিনকে সংযত হতে শেখায়। মুমিনের মুখে দোয়া, ভালো কথা ও নরম ভাষা বেশি মানায়। অভিসম্পাতের ভাষা হৃদয়কে কঠোর করে এবং সম্পর্কেও ক্ষতি আনে। তাই জিহ্বার হেফাজতের অংশ হলো—অভিশাপকে সাধারণ কথা বানিয়ে না ফেলা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মুমিনের জন্য বেশি অভিশাপ দেওয়া শোভন নয়।
- রাগের সময় ভাষা নিয়ন্ত্রণ করা দরকার।
- ভালো কথা ও দোয়া মুমিনের মুখের সৌন্দর্য।
- অভিশাপকে অভ্যাস বানানো থেকে দূরে থাকা উচিত।
