২৫/১০. অধ্যায়ঃ

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৮৬৬-[৫৫] - তাকওয়া, কুরআন ও নীরবতার উপদেশ

জিহ্বার হেফাজত, গীবত এবং গালমন্দ প্রসঙ্গে - তৃতীয় অনুচ্ছেদ

রাসূলের উপদেশ: তাকওয়া, যিকর ও নীরবতা

মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪৮৬৬-[৫৫]

وَعَن أبي ذرٍّ قَالَ: دَخَلْتُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَذَكَرَ الْحَدِيثَ بِطُولِهِ إِلَى أَنْ قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَوْصِنِي قَالَ: «أُوصِيكَ بِتَقْوَى اللَّهِ فَإِنَّهُ أَزْيَنُ لِأَمْرِكَ كُلِّهِ» قُلْتُ: زِدْنِي قَالَ: «عَلَيْكَ بِتِلَاوَةِ الْقُرْآنِ وَذِكْرِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ فَإِنَّهُ ذِكْرٌ لَكَ فِي السَّمَاءِ وَنُورٌ لَكَ فِي الْأَرْضِ». قُلْتُ: زِدْنِي. قَالَ: «عَلَيْكَ بِطُولِ الصَّمْتِ فَإِنَّهُ مَطْرَدَةٌ لِلشَّيْطَانِ وَعَوْنٌ لَكَ عَلَى أَمْرِ دِينِكَ» قُلْتُ: زِدْنِي. قَالَ: «إِيَّاكَ والضحك فَإِنَّهُ يُمِيتُ الْقَلْبَ وَيَذْهَبُ بِنُورِ الْوَجْهِ» قُلْتُ: زِدْنِي. قَالَ: قُلِ الْحَقَّ وَإِنْ كَانَ مُرًّا . قُلْتُ: زِدْنِي. قَالَ: «لَا تَخَفْ فِي اللَّهِ لومة لائم». قلت: زِدْنِي. لِيَحْجُزْكَ عَنِ النَّاسِ مَا تَعْلَمُ مِنْ نَفْسِكَ

আবূ যার গিফারী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

একদিন আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর নিকট উপস্থিত হলাম। অতঃপর আবূ যার (রাঃ) দীর্ঘ হাদীস বর্ণনা করলেন। তিনি এতটুকু পর্যন্ত বললেন যে, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে জিজ্ঞেস করলাম : হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমাকে উপদেশ দিন। তিনি (ﷺ) বললেন : আমি তোমাকে আল্লাহভীতির উপদেশ দিচ্ছি। কেননা এটা তোমার সকল কাজের অধিক সৌন্দর্যের কারণ হবে।আমি বললাম : আরো কিছু উপদেশ দিন। তিনি (ﷺ) বললেন : কোরআন পাঠ ও আল্লাহর স্মরণকে তোমার জন্য আবশ্যিক করে নাও। কেননা এটা তোমার জন্য আকাশে স্মরণযোগ্য এবং জমিনে আলোকস্বরূপ। আমি জিজ্ঞেস করলাম, আরো কিছু উপদেশ দিন। তিনি (ﷺ) বললেন : দীর্ঘ সময় নীরব থাকো। কেননা নীরবতা শয়তানকে দূরীভূত করে এবং তোমার দীনী কাজে তোমার জন্য সহায়ক হয়। আমি জিজ্ঞেস করলাম : আরো কিছু উপদেশ দিন। তিনি (ﷺ) বললেন : অধিক হাসি থেকে নিরাপদে থাকো। কেননা এটা অন্তরকে মৃত করে ফেলে এবং মুখমণ্ডলের জ্যোতিকে দূর করে দেয়।আমি বললাম : আরো কিছু বলুন। তিনি (ﷺ) বললেন : তিক্ত হলেও ন্যায় কথা বলবে। আমি অনুরোধ করলাম : আরো উপদেশ দিন। তিনি (ﷺ) বললেন : আল্লাহর রাস্তায় কাজ করতে গিয়ে কোন নিন্দুকের তিরস্কারকে ভয় করো না। আমি বললাম : আমাকে আরো কিছু বলুন। তিনি (ﷺ) বললেন : যখন তোমার অন্তরে অপরের কুৎসা রটানোর ইচ্ছা হয়, তখন এই ভেবে তোমার ইচ্ছাকে থামিয়ে দেবে যে, তোমার মধ্যে ত্রুটি রয়েছে।

[১] য‘ঈফ জিদ্দান (খুবই দুর্বল) : শু‘আবুল ঈ‘মান ৪৯৪২, য‘ঈফ আত্ তারহীব ১৭০৬, য‘ঈফুল জামি‘ ২১২২। হাদীসটি য‘ঈফ হওয়ার কারণ, এর সনদে ‘‘ইয়াহ্ইয়া ইবনু সা‘ঈদ’’ নামের রাবীর জীবনীতে বলা হয়েছে, সে ‘আবদুল মালিক ইবনু জুরায়জ থেকে অনেক উল্টাপাল্টা বর্ণনা করত। আর ‘উকায়লী তাঁর ‘‘আয্ যু‘আফাহ্’’ নামক কিতাবে ৪/৪০৪ পৃঃ উল্লেখ করেছেন, তার হাদীসের অনুসরণ করা যায়নি, আর হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে সে প্রসিদ্ধ নয়। বিস্তারিত দেখুন- সিলসিলাতুয্ য‘ঈফাহ্ ১২/৩১৭ পৃঃ।

অনুবাদের উৎস

প্রকাশক:
হাদিস একাডেমী
মতামত ও সংশোধনের শর্তাবলি

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৮৬৬-[৫৫]-এর সারসংক্ষেপ

এই দীর্ঘ হাদিসে আবূ যার (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে বারবার উপদেশ চান। প্রথমে তিনি তাকওয়ার উপদেশ দেন এবং বলেন, এটি সব কাজের সৌন্দর্যের কারণ। এরপর কুরআন পাঠ ও আল্লাহর স্মরণকে আঁকড়ে ধরতে বলেন; কারণ তা আকাশে স্মরণযোগ্য এবং জমিনে আলোস্বরূপ। তারপর দীর্ঘ নীরবতার কথা বলেন—এটি শয়তানকে দূরে রাখে এবং দীনী কাজে সহায়ক হয়। তিনি বেশি হাসি থেকে সতর্ক করেন, কারণ তা অন্তরকে মেরে ফেলে এবং মুখের জ্যোতি দূর করে। এরপর বলেন, তিক্ত হলেও সত্য কথা বলতে হবে, আল্লাহর পথে নিন্দুকের তিরস্কারকে ভয় করা যাবে না, আর অন্যের দোষ বলার আগে নিজের দোষ মনে করতে হবে। এই হাদিসটি মুসলিম চরিত্র গঠনের সহজ কিন্তু গভীর দিকনির্দেশনা।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • তাকওয়া মানুষের সব কাজকে সুন্দর করার কারণ।
  • কুরআন তিলাওয়াত ও আল্লাহর যিকর মানুষের জন্য আলোস্বরূপ।
  • দীর্ঘ নীরবতা শয়তান থেকে বাঁচার সহায়ক হতে পারে।
  • অন্যের দোষ বলার আগে নিজের ভুল মনে করা দরকার।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন