২৫/১০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৮৬৫-[৫৪] - চুপ থাকার মর্যাদা
জিহ্বার হেফাজত, গীবত এবং গালমন্দ প্রসঙ্গে - তৃতীয় অনুচ্ছেদ
নীরব থাকার ফজিলত ও কথার আদব
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৪৮৬৫-[৫৪]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪৮৬৫-[৫৪]
وَعَن عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَقَامُ الرَّجُلِ بِالصَّمْتِ أَفْضَلُ مِنْ عِبَادَةِ سِتِّينَ سنة»
‘ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : কোন ব্যক্তির নীরব থাকায় যে মর্যাদা লাভ হয়, তা ষাট বছরের নফল ইবাদতের চেয়েও উত্তম।
[১] সহীহ : আলবানী (রহঃ) বলেনঃ হাদীসে (بالصمت) শব্দটি تصحيف (তাসহীফ) বা ভুল করে বানানো হয়েছে। মিশকাত গ্রন্থকার এ অধ্যায়ে হাদীসটিকে দলীল হিসেবে পেশ করাতে বুঝা যাচ্ছে তিনি তাসহীফ তথা লিখতে ভুল করেছেন। সঠিক হলো : الصف। দারিমী, হাকিম সহ অন্যরা এভাবেই বর্ণনা করেছেন। আর তাদের সেই বর্ণনাগুলো সহীহ। যেমনিভাবে আমি (আলবানী) ‘‘আস্ সহীহাহ্’’ এর ৯০২ নং এ বর্ণনা করেছি। দেখুন- হিদায়াতুর্ রুওয়াত ৪/৩৯০ পৃঃ, শু‘আবুল ঈমান ৪৯৫৩।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৮৬৫-[৫৪]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, কোনো ব্যক্তির নীরব থাকার যে মর্যাদা, তা ষাট বছরের নফল ইবাদতের চেয়েও উত্তম। এখানে মূল বিষয় হলো নীরবতা ও জিহ্বা সংযম। হাদিসের ভাষা খুব শক্তভাবে নীরবতার মূল্য বোঝাচ্ছে। এর মানে এই নয় যে সব সময় কথা বলা বন্ধ করে দিতে হবে; বরং অপ্রয়োজনীয়, ক্ষতিকর ও গুনাহের কথা থেকে নিজেকে বাঁচানো দরকার। যখন কথায় গীবত, মিথ্যা, ঝগড়া বা কাউকে কষ্ট দেওয়ার আশঙ্কা থাকে, তখন চুপ থাকা নিরাপদ। এই বর্ণনা মানুষকে মনে করিয়ে দেয়—মুখের কথা ছোট মনে হলেও তার প্রভাব বড় হতে পারে। তাই নীরবতা কখনো ইবাদতের মতোই আত্মাকে রক্ষা করার কারণ হয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অপ্রয়োজনীয় কথা কমানো ভালো চরিত্রের অংশ।
- মুখের কথা গুনাহের কারণ হতে পারে, তাই সতর্ক থাকা দরকার।
- ক্ষতিকর কথা বলার চেয়ে নীরব থাকা ভালো।
- নীরবতা মানুষকে নিজের ভুল নিয়ে ভাবতে সাহায্য করে।
