২৫/১০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৮৭৬-[৬৫] - গীবতের তাওবা নিয়ে কঠিন সতর্কতা
জিহ্বার হেফাজত, গীবত এবং গালমন্দ প্রসঙ্গে - তৃতীয় অনুচ্ছেদ
গীবতকারীর জন্য কঠিন সতর্কবার্তা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৪৮৭৬-[৬৫]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪৮৭৬-[৬৫]
وَفِي رِوَايَةِ أَنَسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: «صَاحِبُ الزِّنَا يَتُوبُ وَصَاحِبُ الْغِيبَةِ لَيْسَ لَهُ تَوْبَةٌ». رَوَى الْبَيْهَقِيُّ الْأَحَادِيثَ الثَّلَاثَةَ فِي «شُعَبِ الْإِيمَانِ»
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি (ﷺ) বলেছেন : যিনাকারী বা ব্যভিচারী তাওবাহ্ করে; কিন্তু পরোক্ষ নিন্দাকারীর জন্য তাওবাহ্ নেই।
[১] মাওযূ‘ : শু‘আবুল ঈমান ৬৭৪২। হাদীসটি মাওযূ‘ হওয়ার কারণ, এর সনদে ‘‘আহমাদ ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু জামীল ইবনু মিহরান’’ নামের বর্ণনাকারী মাজহূলুল হাল এবং অজ্ঞাত। আরো এক ব্যক্তি আছে যার পরিচয় জানা যায়নি (عن رجل)। জাওয়ামিউল কালিম সফটওয়্যার।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৮৭৬-[৬৫]-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় আনাস (রাঃ) থেকে এসেছে: যিনাকারী তাওবা করে, কিন্তু গীবতকারীর জন্য তাওবা নেই। কথাটি খুব কঠিন সতর্কতা। একই ধারার আগের বর্ণনায় ব্যাখ্যা এসেছে যে, গীবতের সাথে যার সম্মান নষ্ট হয়েছে, তার ক্ষমার বিষয় জড়িত। তাই এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো গীবতকে হালকা মনে না করা। মানুষ অনেক সময় গল্প, আড্ডা বা রাগের মধ্যে অন্যের দোষ বলে ফেলে। কিন্তু গীবত এমন গুনাহ, যা অন্য মানুষের অধিকার ও সম্মানের সাথে সম্পর্কিত। তাই গীবত করার আগে ভয় করা দরকার এবং করে ফেললে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির অধিকার নিয়েও ভাবা দরকার। এই হাদিস মুখের গুনাহ থেকে বাঁচার শক্ত সতর্কবার্তা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- গীবতকে ছোট গুনাহ মনে করা ঠিক নয়।
- গীবতের সাথে অন্য মানুষের সম্মান জড়িত।
- গল্প বা আড্ডায় কারো দোষ বলা থেকে বাঁচতে হবে।
- গীবত হয়ে গেলে তাওবা ও সংশোধনের পথে ফিরতে হবে।
