২৫/১৫. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৯৮৫-[৩৯] - মুমিন মুমিনের আয়না
সৃষ্টির প্রতি দয়া ও অনুগ্রহ - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
মুমিন মুমিনের আয়না: ভাইয়ের ভালো চাওয়ার হাদিস
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৪৯৮৫-[৩৯]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪৯৮৫-[৩৯]
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ أَحَدَكُمْ مِرْآةُ أَخِيهِ فَإِنْ رَأَى بِهِ أَذًى فَلْيُمِطْ عَنْهُ». رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَضَعَّفَهُ. وَفِي رِوَايَةٍ لَهُ وَلِأَبِي دَاوُدَ: «الْمُؤْمِنُ مِرْآةُ الْمُؤْمِنِ وَالْمُؤْمِنُ أَخُو الْمُؤْمِنِ يَكُفُّ عَنْهُ ضَيْعَتَهُ وَيَحُوطُهُ مِنْ وَرَائِهِ»
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : তোমরা প্রত্যেকেই তোমাদের মুসলিম ভাইয়ের আয়না স্বরূপ। যদি কেউ খারাপ কিছু তার মধ্যে দেখে, সে যেন সেটা তার থেকে দূর করে।
[১] য‘ঈফ জিদ্দান (খুবই দুর্বল) : তিরমিযী ১৯২৯, য‘ঈফাহ্ ১৮৮৯, য‘ঈফুল জামি‘উস্ সগীর ১৩৭১। হাদীসটি য‘ঈফ হওয়ার কারণ, এর সনদে ‘‘ইয়াহ্ইয়া’’ নামের বর্ণনাকারী মাতরূক। দেখুন- য‘ঈফাহ্ ১৮৮৯, হাদীসটির বাকী অংশটুকু তথা আবূ দাঊদের বর্ণনাটি হাসান। আবূ দাঊদ ৪৯১৮, সিলসিলাতুস্ সহীহাহ্ ৯২৬, সহীহুল জামি‘উস্ সগীর ৬৬৫৬, শু‘আবুল ঈমান ৭৬৪৪, আল মু‘জামুল আওসাত্ব ২১১৪। (আর ইমাম তিরমিযী (রহঃ) এ হাদীসটি য'ঈফ বলেছেন। তিরমিযী ও আবূ দাউদ-এর অপর বর্ণনায় আছে যে, মুসলিম মুসলিমের আয়না স্বরূপ। মুসলিম মুসলিমের ভাই। যা তাকে ধ্বংস করবে, এমন বস্তু সে তার থেকে সরিয়ে দেয় এবং তার অনুপস্থিতিতে তার অধিকার সংরক্ষণ করে।)
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৯৮৫-[৩৯]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মুসলিম ভ্রাতৃত্বকে আয়নার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। আয়না যেমন মানুষকে তার অবস্থার খবর দেয়, তেমনি একজন মুমিন তার ভাইয়ের ভালো চায় এবং ক্ষতিকর কিছু দেখলে তা দূর করতে সাহায্য করে। বর্ণনায় আরও এসেছে, মুমিন মুমিনের ভাই; সে তাকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয় না, বরং তার ক্ষতির কারণ দূর করে এবং অনুপস্থিতিতে তার অধিকার রক্ষা করে। এখানে মূল শিক্ষা হলো—সমালোচনা করার জন্য নয়, সংশোধনে সাহায্য করার জন্য ভাইয়ের পাশে থাকা। হাদিসটির তাহকীকে দুর্বলতার কথা উল্লেখ আছে, তাই বিষয়টি লিখতে সতর্ক থাকা ভালো; তবে বর্ণনার অর্থ মুসলিম ভ্রাতৃত্ব ও ভালো চাওয়ার সঙ্গে যুক্ত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মুমিন ভাইয়ের ভুল দেখলে তাকে অপমান নয়, সহায়তা করা উচিত।
- ভাইয়ের ক্ষতিকর বিষয় দূর করা ভালোবাসার পরিচয় হতে পারে।
- অনুপস্থিতিতে ভাইয়ের অধিকার রক্ষা করার শিক্ষা এসেছে।
- দুর্বলতার মন্তব্য থাকলে হাদিস ব্যবহারেও সতর্ক ভাষা রাখা ভালো।
