২৫/১৬. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫০২৪-[২২] - আল্লাহর জন্য ভালোবাসার মিলন
আল্লাহ তা‘আলার প্রতি ভালোবাসা এবং আল্লাহ তা‘আলার জন্য বান্দার প্রতি ভালোবাসা - তৃতীয় অনুচ্ছেদ
আল্লাহর জন্য ভালোবাসা: কেয়ামতের মিলন
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৫০২৪-[২২]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৫০২৪-[২২]
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَوْ أَنَّ عَبْدَيْنِ تَحَابَّا فِي اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ وَاحِدٌ فِي الْمَشْرِقِ وَآخَرُ فِي الْمَغْرِبِ لَجَمَعَ اللَّهُ بَيْنَهُمَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ. يَقُولُ: هَذَا الَّذِي كُنْتَ تُحِبُّهُ فِي
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : যদি দু'জন ব্যক্তি একমাত্র আল্লাহ মহীয়ান-গরীয়ানের উদ্দেশে একে অপরকে ভালোবাসে, তন্মধ্যে একজন পূর্বদেশীয় বাস করে এবং অপরজন পাশ্চাত্যে বাস করে, আল্লাহ তা'আলা উভয়কে কেয়ামতের দিন একত্র করে বলবেন, এ সেই ব্যক্তি, যাকে তুমি আমার জন্য ভালোবাসতে।
[১] য‘ঈফ : শু‘আবুল ঈমান ৯০২২, য‘ঈফুল জামি‘ ৪৮০৮। হাদীসটি য‘ঈফ হওয়ার কারণ, এর সনদে আছে ‘‘হাকীম ইবনু নাফি‘’’। যাহাবী বলেছেনঃ আযদী বলেন, হাকীম ইবনু নাফি‘ মাতরূক বা পরিত্যক্ত। দেখুন- হিদায়াতুর্ রুওয়াত ৪/৪৪৪ পৃঃ।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫০২৪-[২২]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم আল্লাহর জন্য ভালোবাসার গভীর মর্যাদা তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, যদি দুজন বান্দা আল্লাহর উদ্দেশে একে অপরকে ভালোবাসে, একজন পূর্বদিকে থাকে আর অন্যজন পশ্চিমদিকে থাকে, তবুও কেয়ামতের দিন আল্লাহ তাদের একত্র করবেন। এরপর বলা হবে, এ সেই ব্যক্তি, যাকে তুমি আমার জন্য ভালোবাসতে। এখানে দূরত্ব সম্পর্কের বাধা নয়। আসল বিষয় হলো ভালোবাসার নিয়ত। স্বার্থ, পরিচিতি বা সুবিধার জন্য নয়; বরং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সম্পর্ক হলে তা দুনিয়ার সীমা ছাড়িয়ে আখিরাতের কথাও মনে করায়। হাদিসটি মুসলিম ভ্রাতৃত্ব, ঈমানী সম্পর্ক এবং আল্লাহর জন্য ভালোবাসার গুরুত্ব খুব সুন্দরভাবে বোঝায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আল্লাহর জন্য ভালোবাসা দূরত্বের সীমায় আটকে থাকে না।
- মুমিনের সম্পর্কের ভিত্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি হওয়া উচিত।
- আখিরাতের কথা মনে রেখে ভালো সম্পর্ক গড়া দরকার।
- সৎ ভালোবাসা মানুষকে ঈমানী ভ্রাতৃত্বের দিকে নিয়ে যায়।
