২৫/১৬. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫০২৫-[২৩] - যিকর ও আল্লাহর জন্য সাক্ষাৎ
আল্লাহ তা‘আলার প্রতি ভালোবাসা এবং আল্লাহ তা‘আলার জন্য বান্দার প্রতি ভালোবাসা - তৃতীয় অনুচ্ছেদ
যিকর ও মুসলিম ভাইয়ের সাক্ষাতের ফজিলত
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৫০২৫-[২৩]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৫০২৫-[২৩]
وَعَن أبي رَزِينٍ أَنَّهُ قَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَلَا أَدُلُّكَ عَلَى مِلَاكِ هَذَا الْأَمْرِ الَّذِي تُصِيبُ بِهِ خَيْرَ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ؟ عَلَيْكَ بِمَجَالِسِ أَهْلِ الذِّكْرِ وَإِذَا خَلَوْتَ فَحَرِّكْ لِسَانَكَ مَا اسْتَطَعْتَ بِذِكْرِ اللَّهِ وَأَحِبَّ فِي اللَّهِ وَأَبْغِضْ فِي اللَّهِ يَا أَبَا رَزِينٍ هَلْ شَعَرْتَ أَنَّ الرَّجُلَ إِذَا خَرَجَ مَنْ بَيْتِهِ زَائِرًا أَخَاهُ شَيَّعَهُ سَبْعُونَ أَلْفَ مَلَكٍ كُلُّهُمْ يُصَلُّونَ عَلَيْهِ وَيَقُولُونَ: رَبَّنَا إِنَّهُ وَصَلَ فِيكَ فَصِلْهُ؟ فَإِنِ اسْتَطَعْتَ أَنْ تُعْمِلَ جَسَدَكَ فِي ذَلِك فافعل
আবু রযীন (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেন : হে আবূ রযীন। আমি কি তোমাকে ঐ দীনী কাজের শেকড় সম্পর্কে বলে দেব, যা দ্বারা তুমি দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ লাভ করতে পারবে? তুমি আল্লাহকে যিক্রকারীদের বৈঠকে অবশ্যই বসবে। আর যখন একা থাক, তখন যতটা সম্ভব আল্লাহর যিকরে নিজের রসনাকে নাড়াতে থাক। একমাত্র আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টির জন্যই কাউকে ভালোবাসবে এবং আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টির জন্যই কাউকে ঘৃণা করবে।হে আবূ রযীন! তুমি কি জানো, যখন কোন ব্যক্তি তার কোন মুসলিম ভাইয়ের সাথে দেখা-সাক্ষাতের উদ্দেশে ঘর থেকে বের হয়, তখন সত্তর হাজার মালাক (ফেরেশতা) তার জন্য দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনা করে এবং বলে, হে রব! এ ব্যক্তি একমাত্র তোমারই সন্তুষ্টির জন্য সাক্ষাৎ করল, তুমি তাকে তোমার রহমাত ও কল্যাণ দ্বারা পরিপূর্ণ করে দাও। সুতরাং তোমার পক্ষে যদি সম্ভব হয় তোমার কোন মুসলিম ভাইয়ের সাক্ষাতে যাওয়া, তবে এরূপ করবে। অর্থাৎ- মুসলিম ভাইয়ের সাথে সাক্ষাৎ করবে।
[১] য‘ঈফ : বায়হাক্বী ৯০২৪। হাদীসটি য‘ঈফ হওয়ার কারণ, এর সনদে ‘‘আমর ইবনু হাসান’’ নামের একজন বর্ণনাকারী আছেন যিনি মাতরূক। দেখুন- হিদায়াতুর্ রুওয়াত ৪/৪৪৫ পৃঃ।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫০২৫-[২৩]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم আবূ রযীনকে এমন কয়েকটি দীনী কাজের কথা বলেন, যার মাধ্যমে দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ লাভের পথ তৈরি হয়। প্রথম শিক্ষা হলো আল্লাহকে যিকরকারীদের বৈঠকে বসা। দ্বিতীয় শিক্ষা হলো একা থাকলে যতটা সম্ভব জিহ্বা আল্লাহর যিকরে ব্যস্ত রাখা। তৃতীয় শিক্ষা হলো আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ভালোবাসা ও ঘৃণা করা। এরপর নবী صلى الله عليه وسلم বলেন, কোনো ব্যক্তি যদি তার মুসলিম ভাইয়ের সাথে দেখা করতে ঘর থেকে বের হয়, তখন সত্তর হাজার ফেরেশতা তার জন্য দোয়া ও ক্ষমা প্রার্থনা করে। তারা আল্লাহর কাছে বলে, সে তোমার জন্য সম্পর্ক রক্ষা করেছে, তুমি তাকে রহমত দাও। তাই এই হাদিস যিকর, ভ্রাতৃত্ব এবং আল্লাহর জন্য সাক্ষাতের মূল্য শেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- যিকরকারীদের সঙ্গ নেওয়া কল্যাণের একটি পথ।
- একাকী অবস্থাতেও আল্লাহর যিকর করা উচিত।
- আল্লাহর জন্য মুসলিম ভাইকে দেখতে যাওয়া মর্যাদাপূর্ণ কাজ।
- ভালোবাসা ও অপছন্দে আল্লাহর সন্তুষ্টিকে সামনে রাখা দরকার।
