২৫/১৮. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫০৬১-[৯] - গোপন কথার আমানত রক্ষা
আত্মসংযম ও কাজে ধীরস্থিরতা - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
গোপন কথা আমানত: মুমিনের দায়িত্ব
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৫০৬১-[৯]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৫০৬১-[৯]
وَعَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِذَا حَدَّثَ الرَّجُلُ الْحَدِيثَ ثُمَّ الْتَفَتَ فَهِيَ أَمَانَةٌ». رَوَاهُ التِّرْمِذِيّ وَأَبُو دَاوُد
জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : যখন কোন ব্যক্তি কোন কথা বলে, অতঃপর এদিক-ওদিক দৃষ্টিপাত করে, তবে তা (শ্রোতার জন্য) আমানত তথা গচ্ছিত বস্তু।
[১] সহীহ : তিরমিযী ১৯৫৯, আবূ দাঊদ ৪৮৬৮, সিলসিলাতুস্ সহীহাহ্ ১০৮৯, সহীহুল জামি‘ ৪৮৬, আবূ ইয়া‘লা ২২১২, আল মু‘জামুল আওসাত্ব ২৪৫৮, আস্ সুনানুল কুবরা ২১৬৯৩।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫০৬১-[৯]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) খুব সহজ একটি নীতি শিখিয়েছেন। কেউ যদি কোনো কথা বলার পর এদিক-ওদিক তাকায়, তাহলে বুঝতে হবে সে কথাটি প্রকাশ করতে চায় না। এমন কথা শ্রোতার কাছে আমানত। তাই গোপন কথা রক্ষা করা মুমিনের চরিত্রের অংশ। এখানে আলাদা করে “এটা কাউকে বলো না” বলা জরুরি নয়; কথার ভঙ্গি ও সতর্ক দৃষ্টি থেকেই বিষয়টি বোঝা যায়। এই শিক্ষা আমাদের দৈনন্দিন জীবনেও খুব দরকার। পরিবার, বন্ধু, কাজের জায়গা বা সামাজিক বৈঠকে কেউ বিশ্বাস করে কিছু বললে তা ছড়িয়ে দেওয়া ঠিক নয়। গোপনীয়তা রক্ষা, আমানতদারি এবং কথার নিরাপত্তা—এই হাদিসের মূল বার্তা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কেউ গোপন ভঙ্গিতে কথা বললে তা শ্রোতার কাছে আমানত হিসেবে গণ্য হবে।
- বিশ্বাস করে বলা কথা অন্যের কাছে ছড়িয়ে দেওয়া উচিত নয়।
- মানুষের ইঙ্গিত ও অবস্থার প্রতি খেয়াল রাখা ভালো চরিত্রের অংশ।
- কথার আমানত রক্ষা করলে সম্পর্কের ভরসা টিকে থাকে।
