২৫/১৯. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫০৭১-[৪] - লজ্জাশীলতা কল্যাণ আনে
নম্রতা, লজ্জাশীলতা ও উত্তম স্বভাব - প্রথম অনুচ্ছেদ
লজ্জাশীলতা কল্যাণের পথ দেখায়
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৫০৭১-[৪]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৫০৭১-[৪]
وَعَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «الْحَيَاءُ لَا يَأْتِي إِلَّا بِخَيْرٍ». وَفِي رِوَايَةٍ: «الْحيَاء خير كُله» مُتَّفق عَلَيْهِ
‘ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : লজ্জাশীলতা পুণ্য বৈ কিছুই আনয়ন করে না। অপর এক বর্ণনায় আছে যে, লজ্জাশীলতার সব প্রকারই উত্তম।
[১] সহীহ : বুখারী ৬১১৭, মুসলিম ৬০-(৩৭), আহমাদ ১৯৮৩০, সহীহুল জামি‘ ৫৫১৩, সহীহ আত্ তারগীব ২৬২৬, সহীহ আল আদাবুল মুফরাদ ৯৯০, শু‘আবুল ঈমান ৭৭০৩, হিলইয়াতুল আওলিয়া ২/২৫১, আল মু‘জামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী ১৪৬৫৮।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫০৭১-[৪]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, লজ্জাশীলতা পুণ্য ছাড়া কিছু আনে না। আরেক বর্ণনায় আছে, লজ্জাশীলতার সব প্রকারই উত্তম। এর অর্থ, যে লজ্জা মানুষকে খারাপ কাজ থেকে ফিরিয়ে রাখে, অশালীন কথা থেকে বাঁচায় এবং ভালো আচরণের দিকে নিয়ে যায়, সেটি কল্যাণকর। আজ অনেক সময় লজ্জাকে দুর্বলতা মনে করা হয়। কিন্তু এই হাদিস জানায়, শালীন ও সুন্দর লজ্জা মানুষের চরিত্রকে রক্ষা করে। এটি মানুষকে সীমা মানতে শেখায়। তবে লজ্জার নামে সত্য বলা বা প্রয়োজনীয় ভালো কাজ ছেড়ে দেওয়া এই হাদিসের আলোচ্য নয়; এখানে মূল কথা হলো ভালো লজ্জাশীলতা। তাই লজ্জা, শালীনতা ও উত্তম চরিত্রের সম্পর্ক বুঝে চলা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- লজ্জাশীলতা মানুষকে পুণ্যের দিকে সাহায্য করে।
- ভালো লজ্জা খারাপ কথা ও কাজ থেকে বাঁচাতে পারে।
- লজ্জাশীলতাকে দুর্বলতা মনে করা ঠিক নয়।
- শালীন আচরণ চরিত্রকে সুন্দর করে।
