২৫/১৯. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫০৭০-[৩] - লজ্জা ঈমানের অংশ
নম্রতা, লজ্জাশীলতা ও উত্তম স্বভাব - প্রথম অনুচ্ছেদ
লজ্জা ঈমানের অংশ: সুন্দর চরিত্রের শিক্ষা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৫০৭০-[৩]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৫০৭০-[৩]
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَرَّ عَلَى رَجُلٍ مِنَ الْأَنْصَارِ وَهُوَ يَعِظُ أَخَاهُ فِي الْحَيَاءِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «دَعْهُ فَإِنَّ الْحَيَاءَ مِنَ الْإِيمَانِ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আনসারদের এক ব্যক্তির নিকট দিয়ে গমন করছিলেন। সে আনসারী তখন তার ভাইকে লজ্জা সম্পর্কে উপদেশ দিচ্ছিল। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন : তাকে ছেড়ে দাও। কেননা লজ্জা ঈমানের অংশ।
[১] সহীহ : বুখারী ৬১১৮, মুসলিম ৫৯-(৩৬), আবূ দাঊদ ৪৭৯৫, তিরমিযী ২৬১৫, ইবনু মাজাহ ৫৮, নাসায়ী ৫০৩৩, সহীহ আত্ তারগীব ২৬২৫, সহীহ আল আদাবুল মুফরাদ ৪৭১, মুওয়াত্ত্বা মালিক ৩৩৬০, মুসান্নাফ ‘আবদুর রাযযাক ২০১৪৬, আহমাদ ৫১৮৩, শু‘আবুল ঈমান ৭৭০১, সুনানুন্ নাসায়ী আল কুবরা ১১৭৬৪, হিলইাতুল আওলিয়া ৬/৩৫২, আল মু‘জামুস্ সগীর লিত্ব ত্ববারানী ৭৪৪, আল মু‘জামুল আওসাত্ব ৪৯৩২।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫০৭০-[৩]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে দেখা যায়, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) এক আনসারী ব্যক্তির পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি তাঁর ভাইকে লজ্জা সম্পর্কে উপদেশ দিচ্ছিলেন। তখন নবী (صلى الله عليه وسلم) বললেন, তাকে ছেড়ে দাও, কারণ লজ্জা ঈমানের অংশ। এখানে লজ্জা বলতে এমন গুণ বোঝানো হয়েছে, যা মানুষকে খারাপ কথা, খারাপ কাজ এবং সীমা লঙ্ঘন থেকে থামায়। এই লজ্জা দুর্বলতা নয়; বরং ঈমানের সঙ্গে জড়িত একটি সুন্দর চরিত্র। কেউ যদি লজ্জাশীল হয়, তাকে সবসময় দোষের চোখে দেখা ঠিক নয়। তবে হাদিসের সীমার মধ্যে থেকে বলা যায়, ভালো লজ্জা মানুষকে পবিত্রতা ও শালীনতার দিকে সাহায্য করে। তাই লজ্জা, ঈমান ও চরিত্র একে অন্যের সঙ্গে যুক্ত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ভালো লজ্জা ঈমানের একটি অংশ।
- লজ্জাশীল মানুষকে অকারণে দোষ দেওয়া উচিত নয়।
- লজ্জা মানুষকে খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখতে সাহায্য করে।
- শালীনতা ও ঈমানের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে।
