২৫/১৯. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫০৬৯-[২] - নম্রতা থেকে বঞ্চিত হওয়া
নম্রতা, লজ্জাশীলতা ও উত্তম স্বভাব - প্রথম অনুচ্ছেদ
নম্রতা হারালে কল্যাণ কমে যায়
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৫০৬৯-[২]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৫০৬৯-[২]
وَعَنْ جَرِيرٍ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مِنْ يُحْرَمِ الرِّفْقَ يُحْرَمِ الْخَيْرَ». رَوَاهُ مُسْلِمٌ
জারীর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেন : যাকে নম্রতা থেকে বঞ্চিত করা হয়, যেন তাকে পুণ্য থেকে বঞ্চিত করা হয়।
[১] সহীহ : মুসলিম ৭৬-(২৫৯২), আহমাদ ১৯২০৮, আবূ দাঊদ ৪৮০৯, সহীহুল জামি‘ ৬৬০৬, ইবনু মাজাহ ৩৬৮৭, সহীহুল জামি‘ ৬৬০৬, সহীহ আত্ তারগীব ২৬৬৬, সহীহ আল আদাবুল মুফরাদ ৪৬২, মুসান্নাফ ইবনু আবূ শায়বাহ্ ২৫৩০৬, শু‘আবুল ঈমান ৮৪১৬, আল মু‘জামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী ২৩৮৭, আস্ সুনানুল কুবরা ২১৩১৫।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫০৬৯-[২]-এর সারসংক্ষেপ
এই সংক্ষিপ্ত হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) নম্রতার গুরুত্ব খুব স্পষ্টভাবে বলেছেন। যাকে নম্রতা থেকে বঞ্চিত করা হয়, যেন তাকে পুণ্য বা কল্যাণ থেকে বঞ্চিত করা হয়। অর্থাৎ নম্রতা শুধু ভালো ব্যবহার নয়; এটি কল্যাণের একটি বড় দরজা। কথায়, ব্যবহারে, সিদ্ধান্তে ও সম্পর্কের ক্ষেত্রে নম্রতা না থাকলে অনেক ভালো দিক নষ্ট হয়ে যায়। মানুষ কঠোর কথা শুনে দূরে সরে যায়, কিন্তু কোমল আচরণ মনকে কাছাকাছি আনে। এই হাদিস আমাদের নিজের ভাষা ও আচরণ পরীক্ষা করতে বলে। আমরা পরিবার, বন্ধু, সহকর্মী বা অধীনস্থ কারও সঙ্গে কথা বলার সময় নম্রতা রাখছি কি না, তা ভাবা দরকার। নম্রতা চরিত্রকে সুন্দর করে এবং কল্যাণের কারণ হয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নম্রতা কল্যাণের গুরুত্বপূর্ণ কারণ।
- কঠোর ব্যবহার মানুষকে কষ্ট দিতে পারে এবং সম্পর্ক দুর্বল করতে পারে।
- কথা ও আচরণে কোমলতা রাখা মুমিনের ভালো গুণ।
- নিজের রাগ ও ভাষা নিয়ন্ত্রণ করা নম্রতার অংশ।
