২৫/১৯. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫০৭৬-[৯] - নম্রতা দুনিয়া-আখিরাতের কল্যাণ
নম্রতা, লজ্জাশীলতা ও উত্তম স্বভাব - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
নম্রতা দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের কারণ
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৫০৭৬-[৯]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৫০৭৬-[৯]
عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ أُعْطِيَ حَظَّهُ مِنَ الرِّفْقِ أُعْطِي حَظَّهُ مِنْ خَيْرِ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَمَنْ حُرِمَ حَظَّهُ مِنَ الرِّفْقِ حُرِمَ حَظَّهُ مِنْ خَيْرِ الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ». رَوَاهُ فِي «شرح السّنة»
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেন : যাকে নম্রতার অংশ প্রদান করা হয়েছে, তাকে দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ প্রদান করা হয়েছে। আর যাকে নম্রতা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে, তাকে দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।
[১] সহীহ : শারহুস্ সুন্নাহ্ ৩৪৯১, সিলসিলাতুস্ সহীহাহ্ ৫১৯, তিরমিযী ২০১৩, মা‘রিফাতুস্ সুনান ওয়াল আসার লিল বায়হাক্বী ৬৩৫৩।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫০৭৬-[৯]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী (صلى الله عليه وسلم) নম্রতার ফল সম্পর্কে বলেছেন। যাকে নম্রতার অংশ দেওয়া হয়েছে, তাকে দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের অংশ দেওয়া হয়েছে। আর যাকে নম্রতা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে, সে দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের অংশ থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এখানে “অংশ” শব্দটি গুরুত্বপূর্ণ; তাই আমরা ভারসাম্য রেখে বলি, নম্রতা কল্যাণের বড় কারণ। নম্রতা মানুষের কথা, সম্পর্ক, কাজ ও সিদ্ধান্তকে সুন্দর করে। পরিবারে, সমাজে, নেতৃত্বে বা উপদেশে কঠোরতার বদলে কোমলতা অনেক ভালো ফল আনতে পারে। এই হাদিস ৫০৬৮ ও ৫০৬৯ নম্বরের শিক্ষার সঙ্গে মিল রেখে নম্রতার গুরুত্ব আরও স্পষ্ট করে। মুমিনের আচরণে রিফক বা কোমলতা থাকা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নম্রতা দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের কারণ হতে পারে।
- নম্রতা না থাকা বড় ক্ষতির দিকে নিয়ে যেতে পারে।
- কথা, সম্পর্ক ও সিদ্ধান্তে কোমলতা রাখা দরকার।
- কঠোরতার বদলে সুন্দর আচরণকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
