২৫/১৯. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫০৮২-[১৫] - রাতের ইবাদত ও রোজার মর্যাদা
নম্রতা, লজ্জাশীলতা ও উত্তম স্বভাব - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
উত্তম চরিত্রে রোজা ও রাতের ইবাদতের মর্যাদা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৫০৮২-[১৫]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৫০৮২-[১৫]
وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا قَالَتْ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «إِنَّ الْمُؤْمِنَ لَيُدْرِكُ بِحُسْنِ خُلُقِهِ دَرَجَةَ قَائِمِ اللَّيْل وصائم النَّهَار». رَوَاهُ أَبُو دَاوُد
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি যে, মুমিনগণ তাদের উত্তম চরিত্র দ্বারা রাতে ইবাদতকারীর ও দিনে সাযিমের (রোজাদারের) মর্যাদা লাভ করে থাকবে।
[১] সহীহ : আবূ দাঊদ ৪৭৯৮, সহীহুল জামি‘ ১৯৩২, সহীহ আত্ তাগীব ওয়াত্ তারহীব ২৬৪৩, আহমাদ ২৪৫৯৫, শু‘আবুল ঈমান ৭৯৯৭।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫০৮২-[১৫]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে উত্তম চরিত্রের এমন এক মর্যাদা বলা হয়েছে, যা মুমিনকে নিজের আচরণ নিয়ে ভাবতে শেখায়। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, মুমিন তার ভালো চরিত্রের মাধ্যমে রাতে ইবাদতকারী এবং দিনে রোজা পালনকারীর মর্যাদা লাভ করতে পারে। অর্থাৎ মানুষের সাথে সদাচরণ, কোমল কথা, ধৈর্য, ভদ্রতা এবং কষ্ট না দেওয়া—এসব শুধু সামাজিক গুণ নয়, আল্লাহর কাছে মূল্যবান আমলও। এখানে রাতের ইবাদত ও দিনের রোজার মর্যাদাকে উদাহরণ হিসেবে আনা হয়েছে, যাতে বোঝা যায় ভালো চরিত্র ছোট বিষয় নয়। তবে হাদিসটি রোজা বা নামাজের বদলি বলে না; বরং চরিত্রের বড় ফজিলত বুঝিয়ে দেয়। তাই মুমিনের উচিত নিজের আচরণকে ইবাদতের মানসিকতা দিয়ে দেখা। এটি প্রতিদিনের আচরণকে আমল হিসেবে দেখার দরজা খুলে দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ভালো চরিত্র আল্লাহর কাছে সম্মানজনক আমল।
- সদাচরণ মুমিনের মর্যাদা বাড়ার কারণ হতে পারে।
- ইবাদতের সাথে চরিত্রের সম্পর্ক গভীরভাবে জড়িত।
- মানুষের সাথে ভালো ব্যবহারকে হালকা করে দেখা উচিত নয়।
