২৫/১৯. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫০৮৮-[২১] - ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও রাগ সংযম
নম্রতা, লজ্জাশীলতা ও উত্তম স্বভাব - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
রাগ নিয়ন্ত্রণের ফজিলত ও আখিরাতের সম্মান
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৫০৮৮-[২১]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৫০৮৮-[২১]
وَعَن سهلِ بن معاذٍ عَنْ أَبِيهِ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَنْ كَظَمَ غَيْظًا وَهُوَ يَقْدِرُ عَلَى أَنْ يُنفِّذَه دعاهُ اللَّهُ على رؤوسِ الْخَلَائِقِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ حَتَّى يُخَيِّرَهُ فِي أَيِّ الْحُورِ شَاءَ». رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَأَبُو دَاوُدَ وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ: هَذَا حَدِيث غَرِيب
মু'আয (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেন : যে ব্যক্তি তার নিজের রাগকে সংযত করে রাখে এমন অবস্থায় যে, সে নিজের রাগ দ্বারা নিজের মনোবৃত্তিকে চরিতার্থ করতে পারে, কেয়ামতের দিন আল্লাহ তা'আলা তাকে সৃষ্টিকুলের সম্মুখে ডাকবেন এবং যে হূরকে সে পছন্দ করে, তাকে সে হূরকেই বেছে নেয়ার জন্য অনুমতি দেয়া হবে।
[১] হাসান : আবূ দাঊদ ৪৭৭৭, তিরমিযী ২০২১, ইবনু মাজাহ ৪১৮৬, আহমাদ ১৫৬৩৭, মুসনাদে আবূ ইয়া‘লা ১৪৯৭, শু‘আবুল ঈমান ৮৩০৩, আস্ সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ১৭০৮।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫০৮৮-[২১]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাগ নিয়ন্ত্রণের এক বড় ফজিলত বলা হয়েছে। মানুষ যখন রাগ করে, তখন অনেক সময় প্রতিশোধ নিতে পারে, জবাব দিতে পারে বা নিজের মনকে খুশি করতে কঠিন আচরণ করতে পারে। কিন্তু হাদিসে সেই ব্যক্তির কথা এসেছে, যে ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও নিজের রাগকে সংযত করে রাখে। তার জন্য কেয়ামতের দিন আল্লাহর পক্ষ থেকে সম্মানিত ডাকার কথা বলা হয়েছে এবং জান্নাতি পুরস্কারের কথা এসেছে। এখানে মূল শিক্ষা হলো, শক্তি থাকলেই তা ব্যবহার করতে হবে—এমন নয়। বরং নিজের মনকে থামানো, জিহ্বা সামলানো এবং অন্যকে কষ্ট না দেওয়া বড় সাহসের কাজ। রাগ দমন করা তাই শুধু সামাজিক ভদ্রতা নয়; এটি আখিরাতের আশার একটি মূল্যবান আমল।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও রাগ দমন করা প্রশংসিত কাজ।
- রাগের সময় নিজেকে সামলানো প্রকৃত শক্তির পরিচয়।
- প্রতিশোধের সুযোগ থাকলেও সংযম বড় গুণ।
- রাগ নিয়ন্ত্রণ আখিরাতের সম্মানের কারণ হতে পারে।
