২৫/১৯. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫০৯৮-[৩১] - আয়না দেখে চরিত্রের দোয়া
নম্রতা, লজ্জাশীলতা ও উত্তম স্বভাব - তৃতীয় অনুচ্ছেদ
আয়না দেখে উত্তম চরিত্রের দোয়া
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৫০৯৮-[৩১]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৫০৯৮-[৩১]
وَعَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ عَنْ أَبِيهِ قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا نَظَرَ فِي الْمِرْآةِ قَالَ: «الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي حَسَّنَ خُلُقِي وَخَلْقِي وَزَانَ مِنِّي مَا شَانَ مِنْ غَيْرِي». رَوَاهُ الْبَيْهَقِيُّ فِي «شُعَبِ الْإِيمَان» مُرْسلا
জাফার ইবনু মুহাম্মাদ (রহঃ) তাঁর পিতার নিকট থেকে বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন আয়না দেখতেন, তখন বলতেন, সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহ তা'আলার জন্য, যিনি আমার গঠন-আকৃতিকে সুন্দর করেছেন এবং আমার স্বভাবকেও উত্তম করেছেন। আর যেসব গঠন আকৃতি এবং স্বভাব ত্রুটিযুক্ত, আমাকে সেগুলো থেকে মুক্ত করেছেন।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫০৯৮-[৩১]-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর একটি সুন্দর দোয়া এসেছে। তিনি আয়না দেখলে আল্লাহর প্রশংসা করতেন—যিনি তাঁর গঠন-আকৃতিকে সুন্দর করেছেন এবং তাঁর স্বভাবকেও উত্তম করেছেন। একই সঙ্গে তিনি আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতেন যে, অন্যদের মধ্যে যেসব ত্রুটি থাকতে পারে, সেগুলো থেকে তাঁকে মুক্ত রাখা হয়েছে। এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, বাহ্যিক সৌন্দর্য দেখলে শুধু নিজের দিকে মুগ্ধ হওয়া নয়; বরং আল্লাহর নেয়ামত মনে করে কৃতজ্ঞ হওয়া। পাশাপাশি সুন্দর চেহারার সঙ্গে সুন্দর চরিত্রের কথাও এসেছে। একজন মুমিনের জন্য আয়না দেখা তাই আত্মপ্রশংসার মুহূর্ত নয়; এটি কৃতজ্ঞতা, বিনয় এবং চরিত্র ভালো রাখার স্মরণ হতে পারে। বর্ণনাটি মুরসাল হিসেবে এসেছে, তাই অতিরিক্ত দাবি না করাই ভালো।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বাহ্যিক সৌন্দর্য আল্লাহর নেয়ামত হিসেবে দেখা উচিত।
- সুন্দর গঠনের সাথে সুন্দর চরিত্রের কথাও মনে রাখা দরকার।
- আয়না দেখা কৃতজ্ঞতা ও বিনয়ের সুযোগ হতে পারে।
- দোয়ার মাধ্যমে চরিত্রের সৌন্দর্য চাওয়া সুন্দর শিক্ষা।
