২৫/২১. অধ্যায়ঃ

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫১৩১-[৯] - যুলমের অর্থ শিরক

অত্যাচার - তৃতীয় অনুচ্ছেদ

ঈমানে যুলম মানে শিরক: হাদিসের ব্যাখ্যা

মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৫১৩১-[৯]

عَن ابْن مَسْعُود قَالَ: لَمَّا نَزَلَتْ: (الَّذِينَ آمَنُوا وَلَمْ يَلْبِسُوا إِيمانهم بظُلْم) شَقَّ ذَلِكَ عَلَى أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَالُوا: يَا رَسُول اله: أَيُّنَا لَمْ يَظْلِمْ نَفْسِهِ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لَيْسَ ذَاكَ إِنَّمَا هُوَ الشِّرْكُ أَلَمْ تَسْمَعُوا قَوْلَ لُقْمَانَ لِابْنِهِ: (يَا بني لَا تُشْرِكْ بِاللَّهِ إِنَّ الشِّرْكَ لَظُلْمٌ عَظِيمٌ؟) فِي رِوَايَةٍ: «لَيْسَ هُوَ كَمَا تَظُنُّونَ إِنَّمَا هُوَ كَمَا قَالَ لُقْمَان لِابْنِهِ». مُتَّفق عَلَيْهِ

‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস’উদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

যখন এ আয়াতটি নাযিল হলো— (الَّذِيْنَ آمَنُوْا وَلَمْ يَلْبِسُوْا إِيْمَانَهُمْ بِظُلْمٍ)। অর্থাৎ- “সেসব লোক যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের ঈমানে তাঁরা যুল্‌মকে শামিল করেনি”- (সূরা আল আন্'আম ৬ : ৮২)।রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাহাবীদের কাছে বিষয়টি কঠিন ঠেকল। তাঁরা জিজ্ঞেস করল : হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের মধ্যে এমন কে আছে, যে নিজের ওপর অত্যাচার করেনি? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন : অত্যাচার দ্বারা এ কথা বুঝানো হয়নি; বরং শিরককে বুঝানো হয়েছে। তোমরা লুকমান (আঃ)-এর উপদেশ কি শুনোনি, যা তিনি তাঁর পুত্রকে দান করেছেন? সেটা এই যে, “হে বৎস! আল্লাহ তা'আলার সাথে কাউকে শারীক করো না, যেহেতু আল্লাহর সাথে শারীক করা ভয়ঙ্কর অত্যাচার।” অপর এক বর্ণনায় আছে, তিনি বলেছেন : তোমরা যা মনে করছ প্রকৃতপক্ষে তা নয়। অত্যাচার (যুলম) দ্বারা এ কথাই বুঝানো হয়েছে, যা লুক্বমান (আঃ) তাঁর পুত্রকে বলেছেন।

[১] সহীহ : বুখারী ৪৭৭৬, মুসলিম ১৯৭-(১২৪), আহমাদ ৪২৪০, আস্ সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ২১২৬০, সহীহ ইবনু হিব্বান ২৫৩।

অনুবাদের উৎস

প্রকাশক:
হাদিস একাডেমী
মতামত ও সংশোধনের শর্তাবলি

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫১৩১-[৯]-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে কুরআনের একটি আয়াত বোঝার ক্ষেত্রে নবী صلى الله عليه وسلم-এর ব্যাখ্যা এসেছে। যখন আয়াত নাযিল হলো—যারা ঈমান এনেছে এবং নিজেদের ঈমানকে যুলমের সাথে মিশায়নি—তখন সাহাবীদের কাছে বিষয়টি কঠিন মনে হলো। তারা ভাবলেন, আমাদের মধ্যে কে আছে যে নিজের ওপর কোনো যুলম করেনি? তখন রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বললেন, এখানে সেই অর্থ নয়; বরং যুলম বলতে শিরক বোঝানো হয়েছে। তিনি লুকমান (আঃ)-এর উপদেশ স্মরণ করালেন—আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করো না, নিশ্চয় শিরক বড় যুলম। এই হাদিস শেখায়, কুরআনের আয়াত বোঝার ক্ষেত্রে রাসূল صلى الله عليه وسلم-এর ব্যাখ্যা সবচেয়ে নিরাপদ পথ।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • সব যুলমের মধ্যে শিরক সবচেয়ে ভয়ংকর যুলম।
  • সাহাবীরা আয়াত বুঝতে অসুবিধা হলে নবী صلى الله عليه وسلم-এর কাছে জিজ্ঞেস করতেন।
  • কুরআন বুঝতে নবী صلى الله عليه وسلم-এর ব্যাখ্যা অনুসরণ করা দরকার।
  • তাওহীদ রক্ষা ঈমানের মূল বিষয়।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন