২৫/২২. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫১৫৩-[১৭] - মন্দ দেখেও লোকভয়ে চুপ থাকা
ভালো কাজের আদেশ - তৃতীয় অনুচ্ছেদ
লোকভয়ে মন্দ কাজ নিষেধ না করার জবাবদিহি
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৫১৫৩-[১৭]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৫১৫৩-[১৭]
وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ يَسْأَلُ الْعَبْدَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَيَقُولُ: مَا لَكَ إِذَا رَأَيْتَ الْمُنْكَرَ فَلَمْ تُنْكِرْهُ؟ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: فَيُلَقَّى حُجَّتَهُ فَيَقُولُ: يَا رَبِّ خِفْتُ النَّاسَ وَرَجَوْتُكَ «. رَوَى الْبَيْهَقِيُّ الْأَحَادِيثَ الثَّلَاثَةَ فِي» شُعَبِ الْإِيمَانِ
আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : আল্লাহ মহীয়ান-গরীয়ান কেয়ামতের দিন বান্দাকে জিজ্ঞেস করবেন এবং বলবেন, যখন শারী'আত বিরোধী কাজ সংঘটিত হতে দেখছিলে, তখন তোমার কি হয়েছিল যে, তুমি এতে নিষেধ করতে পারনি? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন : ঐ বান্দাকে আল্লাহ তা'আলার পক্ষ থেকে প্রমাণ শিখিয়ে দেয়া হবে। যখন আল্লাহ তা'আলা তাকে ক্ষমা করার মর্জি করবেন, তখন সে বলবে, হে আল্লাহ! আমি মানুষের যুলম-অত্যাচারের ভয়ে ভীত ছিলাম এবং তোমারই ক্ষমার আশা পোষণ করেছিলাম।
[১] সানাদ জায়্যিদ (إسند جيد) : শু‘আবুল ঈমান ৭৫৭৫, সহীহ ইবনু হিব্বান ৭৩৬৮, মুসনাদে আবূ ইয়া‘লা ১০৮৯, সিলসিলাতুস্ সহীহাহ্ ৯২৯।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫১৫৩-[১৭]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে কেয়ামতের দিনের একটি প্রশ্নের কথা এসেছে। আল্লাহ বান্দাকে জিজ্ঞেস করবেন, যখন তুমি শরীয়ত বিরোধী কাজ হতে দেখছিলে, তখন কেন তা নিষেধ করোনি? এরপর রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, আল্লাহ যখন তাকে ক্ষমা করার ইচ্ছা করবেন, তখন তাকে তার ওজর শিখিয়ে দেওয়া হবে। সে বলবে, হে আল্লাহ, আমি মানুষের জুলুমের ভয় করেছিলাম এবং তোমার ক্ষমার আশা রেখেছিলাম। হাদিসে লোকভয়, মন্দ কাজ নিষেধ, জবাবদিহি এবং আল্লাহর ক্ষমার আশা—এসব বিষয় এসেছে। এটি মানুষকে শেখায়, ভয় থাকলেও মন্দকে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করা ঠিক নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মন্দ কাজ দেখে চুপ থাকার বিষয়ে কেয়ামতে প্রশ্ন হতে পারে।
- মানুষের ভয় সত্য বলা থেকে বিরত করতে পারে, তবে বিষয়টি হালকা নয়।
- আল্লাহর ক্ষমার আশা রাখা দরকার, কিন্তু দায়িত্ব ভুলে নয়।
- মন্দ কাজকে নিষেধ করার সাহস ঈমানি দায়িত্বের অংশ।
