২৬/৮. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫৩৭১-[১] - ফিতরাত, কিতাব ও নবীর দায়িত্ব
ভীতি প্রদর্শন ও সতর্কীকরণ - প্রথম অনুচ্ছেদ
ফিতরাত ও শয়তানের বিভ্রান্তি
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৫৩৭১-[১]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৫৩৭১-[১]
عَن عِيَاض بن حمَار الْمُجَاشِعِي أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ ذَاتَ يَوْمٍ فِي خُطْبَتِهِ: أَلَا إِنَّ رَبِّي أَمَرَنِي أَنْ أُعَلِّمَكُمْ مَا جَهِلْتُمْ مِمَّا عَلَّمَنِي يَوْمِي هَذَا: كُلُّ مَالٍ نَحَلْتُهُ عَبْدًا حلالٌ وإِني خلقت عبَادي حنفَاء كلهم وَإنَّهُ أَتَتْهُمُ الشَّيَاطِينُ فَاجْتَالَتْهُمْ عَنْ دِينِهِمْ وَحَرَّمَتْ عَلَيْهِمْ مَا أَحْلَلْتُ لَهُمْ وَأَمَرَتْهُمْ أَنْ يُشْرِكُوا بِي مَا لَمْ أُنْزِلْ بِهِ سُلْطَانًا وَإِنَّ اللَّهَ نَظَرَ إِلَى أَهْلِ الْأَرْضِ فَمَقَتَهُمْ عَرَبَهُمْ وَعَجَمَهُمْ إِلَّا بَقَايَا مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ وَقَالَ: إِنَّمَا بَعَثْتُكَ لِأَبْتَلِيَكَ وَأَبْتَلِيَ بِكَ وَأَنْزَلَتُ عَلَيْكَ كِتَابًا لَا يَغْسِلُهُ الْمَاءُ تَقْرَؤُهُ نَائِمًا وَيَقْظَانَ وَإِنَّ الله أَمرنِي أَن أحرقَ قُريْشًا فَقلت: يَا رَبِّ إِذًا يَثْلَغُوا رَأْسِي فَيَدَعُوهُ خُبْزَةً قَالَ: اسْتَخْرِجْهُمْ كَمَا أَخْرَجُوكَ وَاغْزُهُمْ نُغْزِكَ وَأَنْفِقْ فَسَنُنْفِقُ عَلَيْكَ وَابْعَثْ جَيْشًا نَبْعَثْ خَمْسَةً مِثْلَهُ وَقَاتِلْ بِمن أطاعك من عصاك.رَوَاهُ مُسلم رواہ مسلم (62 / 2865)، (7207) ۔ (صَحِيح)
‘ইয়ায ইবনু হিমার আল মুজাশি‘ঈ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও তাঁর ভাষণে বললেন, জেনে রাখ! আল্লাহ তা’আলা আমাকে আদেশ করেছেন যে, আমি তোমাদেরকে ঐ কথাটি অবহিত করি যা তোমরা জান না। আল্লাহ তা’আলা আজ আমাকে যে সমস্ত বিষয়ে অবগত করেছেন, (আল্লাহ বলেন, আমি আমার বান্দাকে যে সমস্ত সম্পদ দান করেছি, তা হালাল। আল্লাহ তা’আলা আরো বলেছেন, আমি আমার বান্দাদেরকে ন্যায় ও সত্যের উপরে সৃজন করেছি।অতঃপর তাদের নিকট শয়তান এসে তাদেরকে দীন হতে ঘুরিয়ে দেয়, আর আমি তাদের জন্য যা হালাল করেছিলাম শয়তান তাকে তাদের জন্য হারাম করে দেয় এবং শয়তান তাদেরকে এ আদেশ করে যে, তারা যেন আমার সাথে ঐ জিনিসকে শরীক করে নেয় যার সম্পর্কে কোন দলীল বা প্রমাণ অবতীর্ণ করা হয়নি। আর আল্লাহ জমিনবাসীদের প্রতি দৃষ্টি দিলেন, তখন (তাদের চরম গোমরাহির কারণে) কতিপয় আহলে কিতাব ছাড়া আরবী, আজমী সকলের ওপর খুবই ক্ষুব্ধ হলেন।আল্লাহ তা’আলা আরো বলেছেন, আমি তোমাকে [হে মুহাম্মাদ (ﷺ)] এজন্যই নবী বানিয়ে পাঠিয়েছি যে, তোমাকে পরীক্ষা করব আর তোমার সাথে তোমার উম্মতেরও পরীক্ষা করব আমি তোমার ওপর একটি কিতাব অবতীর্ণ করেছি যাকে পানিতে ধুতে পারবে না (তা অন্তরে সংরক্ষিত, কাজেই কেউ মেটাতে পারবে না)। তুমি তা ঘুমন্ত ও জাগ্রত অবস্থায় পাঠ করবে। আর আল্লাহ আমাকে এটাও নির্দেশ করেছেন- আমি যেন কুরায়শদেরকে জ্বালিয়ে (ধ্বংস করে) ফেলি আমি বললাম, এতে কুরায়শগণ তো আমার মস্তক পিষে রুটির মতো চ্যাপ্টা করে ফেলবে।(সংখ্যাগরিষ্ঠতার দরুন) তখন আল্লাহ তা’আলা বললেন, তারা তোমাকে যেভাবে (মক্কা হতে) বের করে দিয়েছে, সেভাবে আমিও তাদেরকে (বাড়িঘর হতে) বের করে দেব। তুমি তাদের সাথে যুদ্ধ কর, আমি তোমার যুদ্ধের সরঞ্জাম প্রস্তুত করে দেব। তুমি আল্লাহর রাস্তায় খরচ কর। আমি শীঘ্রই তোমার খরচের ব্যবস্থা করে দেব। তুমি তাদের (কুরায়শদের) বিরুদ্ধে সেনাদল প্রেরণ করবে, আমি শত্রু-শক্তির পাঁচ গুণ বেশি সৈন্য আর তোমার অনুসরণ করে তাদের সঙ্গে নিয়ে ঐ সমস্ত লোকেদের বিরুদ্ধে লড়াই কর, যারা তোমার নাফরমানি করে।
সহীহ: মুসলিম ৬৩-(২৮৬৫), সহীহুল জামি ২৬৩৭, মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ২০০৮৮, মুসনাদে বাযযার ৩৪৯১, মুসনাদে আহমাদ ১৭৫১৯, সহীহ ইবনু হিব্বান ৬৫৩।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫৩৭১-[১]-এর সারসংক্ষেপ
এই দীর্ঘ হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم আল্লাহর পক্ষ থেকে জানানো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন। আল্লাহ বান্দাদের যে সম্পদ দেন, তা মূলত হালাল; তিনি বান্দাদের ন্যায় ও সত্যের ওপর সৃষ্টি করেছেন। তারপর শয়তান এসে মানুষকে দীন থেকে সরিয়ে দেয়, আল্লাহ যা হালাল করেছেন তা হারাম বানায় এবং এমন শিরকের দিকে ডাকে যার পক্ষে আল্লাহ কোনো দলীল দেননি। হাদিসে আরও এসেছে, আল্লাহ নবী صلى الله عليه وسلم-কে পরীক্ষা করবেন এবং তাঁর মাধ্যমে উম্মতকেও পরীক্ষা করবেন। তাঁর ওপর এমন কিতাব নাযিল করা হয়েছে, যা পানিতে ধুয়ে মুছে ফেলা যাবে না; তিনি তা জাগ্রত ও ঘুমন্ত অবস্থায় পাঠ করবেন। এরপর কুরায়শের সঙ্গে সংগ্রাম, আল্লাহর সাহায্য ও খরচের প্রতিশ্রুতির কথাও এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মানুষকে সত্যের ওপর সৃষ্টি করা হয়েছে।
- শয়তান মানুষকে দীন থেকে সরিয়ে দিতে চেষ্টা করে।
- শিরক এমন বিষয় যার পক্ষে আল্লাহ কোনো প্রমাণ দেননি।
- নবী صلى الله عليه وسلم-এর ওপর নাযিল কিতাব আল্লাহর সংরক্ষিত শিক্ষা।
