২৭/২. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫৪৩৯-[৩] - আমানত নষ্ট হওয়ার আলামত
কেয়ামতের আলামত - প্রথম অনুচ্ছেদ
আমানত নষ্ট হওয়া কেয়ামতের আলামত
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৫৪৩৯-[৩]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৫৪৩৯-[৩]
وَعَن أبي هريرةَ قَالَ: بَيْنَمَا كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُحَدِّثُ إِذْ جَاءَ أَعْرَابِيٌّ فَقَالَ: مَتَى السَّاعَةُ؟ قَالَ: «إِذَا ضُيِّعَتِ الْأَمَانَةُ فَانْتَظِرِ السَّاعَةَ» . قَالَ: كَيْفَ إِضَاعَتُهَا؟ قَالَ: «إِذَا وُسِّدَ الْأَمْرُ إِلَى غَيْرِ أَهْلِهِ فَانْتَظِرِ السَّاعَةَ» . رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ رواہ البخاری (59) ۔ (صَحِيح)
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদিন নবী (ﷺ) লোকেদের সাথে কথা বলছিলেন। এমন সময় এক বেদুইন এসে প্রশ্ন করল, কেয়ামত কখন হবে? উত্তরে তিনি (ﷺ) বললেন, আমানত যখন নষ্ট করা হবে তখন কেয়ামতের প্রতীক্ষা কর। লোকটি প্রশ্ন করল, তা কিভাবে নষ্ট করা হবে? তিনি (ﷺ) বললেন, কাজের দায়িত্ব যখন অনুপযুক্ত লোককে দেয়া হবে তখন কেয়ামতের প্রতীক্ষা কর।
সহীহ: বুখারী ৬৪৯৬, মুসনাদে আহমাদ ৮৭১৪, আস সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকী ২০৮৬০, সিলসিলাতুস্ সহীহাহ ৬৯৪৭।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫৪৩৯-[৩]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে এক বেদুইন নবী (صلى الله عليه وسلم)-কে জিজ্ঞেস করেন, কেয়ামত কখন হবে। নবী (صلى الله عليه وسلم) উত্তরে বলেন, যখন আমানত নষ্ট করা হবে, তখন কেয়ামতের প্রতীক্ষা কর। লোকটি আবার জিজ্ঞেস করে, আমানত নষ্ট হওয়া কীভাবে হবে। তখন নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেন, যখন কাজের দায়িত্ব অনুপযুক্ত লোককে দেওয়া হবে, তখন কেয়ামতের প্রতীক্ষা কর। এই হাদিসে আমানত শুধু টাকা-পয়সার নিরাপত্তা নয়; দায়িত্ব, যোগ্যতা এবং নেতৃত্বের বিষয়ও এর সঙ্গে যুক্ত। কোনো কাজের দায়িত্ব যার যোগ্য নয়, তার হাতে দেওয়া সমাজের জন্য ক্ষতিকর। হাদিসটি আমাদের শেখায়, দায়িত্ব বণ্টনে যোগ্যতা ও সততা দেখা জরুরি। আমানত নষ্ট হওয়া কেয়ামতের আলামত হিসেবে এসেছে, তাই নিজের দায়িত্বের ব্যাপারেও সতর্ক থাকা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আমানত নষ্ট হওয়া কেয়ামতের আলামতের মধ্যে একটি।
- দায়িত্ব অনুপযুক্ত ব্যক্তির হাতে দেওয়া আমানত নষ্ট করার একটি রূপ।
- যোগ্যতা ও সততা ছাড়া নেতৃত্ব বা দায়িত্ব দেওয়া ক্ষতিকর।
- নিজের দায়িত্বও আমানত হিসেবে দেখা উচিত।
