২৮/৩. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫৫৫৩-[৫] - নূহ আ. ও উম্মতের সাক্ষ্য
হিসাব-নিকাশ, প্রতিশোধ গ্রহণ ও মিজানের বর্ণনা - প্রথম অনুচ্ছেদ
কিয়ামতে উম্মতে মুহাম্মাদীর সাক্ষ্য
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৫৫৫৩-[৫]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৫৫৫৩-[৫]
وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: يُجَاءُ بِنُوحٍ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَيُقَالُ لَهُ: هَلْ بَلَّغْتَ؟ فَيَقُولُ: نَعَمْ يَا رَبِّ فَتُسْأَلُ أُمَّتُهُ: هَلْ بَلَّغَكُمْ؟ فَيَقُولُونَ: مَا جَاءَنَا مِنْ نَذِيرٍ. فَيُقَالُ: مَنْ شُهُودُكَ؟ فَيَقُولُ: مُحَمَّدٌ وَأُمَّتُهُ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «فيجاء بكم فتشهدون على أنَّه قد بلَّغَ» ثُمَّ قَرَأَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ﴾وَكَذَلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا لِتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ وَيَكُونَ الرَّسُولُ عَلَيْكُمْ شَهِيدا﴿رَوَاهُ البُخَارِيّ رواہ البخاری (3339) ۔ (صَحِيح)
আবূ সা‘ঈদ আল্ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : কিয়ামতের দিন নূহ (আঃ)-কে উপস্থিত করে প্রশ্ন করা হবে, তুমি কি আমার হুকুম-আহকাম মানুষদের কাছে পৌছিয়েছিলে? তিনি বলবেন, হ্যাঁ, পৌঁছিয়ে ছিলাম হে আমার রব! তখন তাঁর উম্মাতগণকে প্রশ্ন করা হবে, তিনি কি তোমাদেরকে (আমার হুকুম-আহকাম) পৌছিয়ে দিয়ে ছিলেন? তাঁরা বলবে, আমাদের কাছে (এ দিন সম্পর্কে) কোন ভয় প্রদর্শনকারী আসেনি।তখন নূহ (আঃ)-কে বলা হবে, তোমার সাক্ষী কে আছে? উত্তরে নূহ (আঃ) বলবেন, মুহাম্মাদ (ﷺ) ও তাঁর উম্মাতগণ! রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, তোমাদেরকে তখন উপস্থিত করা হবে এবং তোমরা এ সাক্ষ্য দিবে যে, অবশ্যই নূহ (আঃ) তাঁর উম্মাতের কাছে আল্লাহর বাণী পৌঁছিয়ে দিয়েছিলেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এ আয়াতটি পাঠ করলেন- অর্থাৎ আর আমি তোমাদেরকে এভাবেই একটি মধ্যপন্থী উম্মাতরূপে প্রতিষ্ঠিত করেছি, যাতে তোমরা মানব জাতির সাক্ষী হতে পার। আর রাসূল (মুহাম্মাদ (ﷺ) তোমাদের জন্য সাক্ষী হন।
সহীহ: বুখারী ৩৭৪৯, তিরমিযী ২৯৬১, মা'রিফাতুস্ সুনান ওয়াল আসার লিল বায়হাকী ৫৩৬১, মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ্ ২৮৬৩৫, মুসনাদে আবদ ইবনু হুমায়দ ৯১৩, শুআবূল ঈমান ২৬৪, আস্ সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকী ১৭৪৫৯, আস্ সুনানুস্ সুগরা ৩৫১৮।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫৫৫৩-[৫]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে কিয়ামতের দিন নূহ আলাইহিস সালাম ও তাঁর উম্মতের বিষয়ে সাক্ষ্যের কথা এসেছে। নূহ আ.-কে জিজ্ঞেস করা হবে, তিনি আল্লাহর বাণী পৌঁছিয়েছেন কি না। তিনি বলবেন, হ্যাঁ। কিন্তু তাঁর উম্মত বলবে, তাদের কাছে কোনো সতর্ককারী আসেনি। তখন নূহ আ. সাক্ষী হিসেবে মুহাম্মাদ صلى الله عليه وسلم এবং তাঁর উম্মতের কথা বলবেন। এরপর এই উম্মত উপস্থিত হয়ে সাক্ষ্য দেবে যে নূহ আ. তাঁর জাতির কাছে আল্লাহর বাণী পৌঁছে দিয়েছিলেন। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم এরপর মধ্যপন্থী উম্মত হওয়ার আয়াত পড়েছেন। এই হাদিস উম্মতে মুহাম্মাদীর মর্যাদা, সত্য সাক্ষ্য এবং নবীদের দাওয়াতের দায়িত্বের কথা মনে করায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবীগণ আল্লাহর বাণী মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন।
- উম্মতে মুহাম্মাদী কিয়ামতে সাক্ষ্য দেওয়ার সম্মান পাবে।
- সত্য সাক্ষ্য দেওয়া বড় দায়িত্বের বিষয়।
- মধ্যপন্থী উম্মত হওয়া সম্মানের পাশাপাশি দায়িত্বও।
