২৮/৬. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫৬৫৫-[১] - আল্লাহর দর্শন ও দুই সালাতের গুরুত্ব
আল্লাহ তা‘আলার দর্শনলাভ - প্রথম অনুচ্ছেদ
রবের দর্শন ও ফজর-আসরের সালাতের গুরুত্ব
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৫৬৫৫-[১]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৫৬৫৫-[১]
عَن جَرِيرِ بْنِ عَبْدُ اللَّهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّكُمْ سَتَرَوْنَ رَبَّكُمْ عِيَانًا». وَفِي رِوَايَةٍ: قَالَ: كُنَّا جُلُوسًا عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَنَظَرَ إِلَى الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ فَقَالَ: «إِنَّكُمْ سَتَرَوْنَ رَبَّكُمْ كَمَا تَرَوْنَ هَذَا الْقَمَرَ لَا تُضَامُونَ فِي رُؤْيَتِهِ فَإِنِ اسْتَطَعْتُمْ أَنْ لَا تُغْلَبُوا عَلَى صَلَاةٍ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ غُرُوبِهَا فَافْعَلُوا» ثُمَّ قَرَأَ (وَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ غُرُوبهَا﴿ مُتَّفق عَلَيْهِ متفق علیہ، رواہ البخاری (554) و مسلم (211 / 632)، (1432) ۔ (مُتَّفق عَلَيْهِ)
জারীর ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : শীঘ্রই তোমরা নিশ্চিত তোমাদের প্রভুকে স্বচক্ষে প্রকাশ্যে দেখতে পাবে। আর অপর এক বর্ণনাতে আছে- জারীর (রাঃ) বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে বসা ছিলাম। তিনি (ﷺ) পূর্ণিমার রাত্রে চাঁদের দিকে তাকিয়ে বললেন, তোমরা অচিরেই তোমাদের প্রভুকে দেখতে পাবে, যেমন তোমরা এই চাঁদকে দেখছ। তাঁর দর্শনে তোমরা কোনরূপ বাধাপ্রাপ্ত হবে না। অতএব তোমরা সাধ্যমত চেষ্টা করবে সূর্য উদয়ের পূর্বের, সালাত সূর্যোদয়ের আগে এবং সূর্যাস্তের আগের সালাত সূর্যাস্তের আগে আদায় করতে যেন ব্যর্থ না হও।অতঃপর তিনি এ আয়াতটি পাঠ করলেন - وَ سَبِّحۡ بِحَمۡدِ رَبِّکَ قَبۡلَ طُلُوۡعِ الشَّمۡسِ وَ قَبۡلَ غُرُوۡبِهَا “সূর্যোদয়ের পূর্বে এবং সূর্যাস্তের পূর্বে আপন প্রভুর প্রশংসা ও স্তুতি বর্ণনা কর”- (সূরা ত্ব-হা- ২০ : ১৩০)।
সহীহ: বুখারী ৫৫৪, মুসলিম ২১১-(৬৩৩), আবূ দাউদ ৪৭২৯, ইবনু মাজাহ ১৭৭, সহীহুল জামি ২৩০৬, মুসনাদে আহমাদ ১১১৩৫, সহীহ ইবনু হিব্বান ৭৪৪২, আস্ সুনানুল কুবরা লিন্ নাসায়ী ৪৬০, আল মু'জামুল কাবীর লিত্ব তবারানী ২১৮০, আল মু'জামুল আওসাত্ব ৮০৫৭, আস্ সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকী ১৭৫১।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫৬৫৫-[১]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে কিয়ামাতের দিন বা জান্নাতে আল্লাহর দর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বর্ণনা এসেছে। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেন, তোমরা তোমাদের প্রভুকে প্রকাশ্যে দেখতে পাবে। আরেক বর্ণনায় জারীর রাঃ বলেন, তাঁরা নবী صلى الله عليه وسلم-এর কাছে বসে ছিলেন। তিনি পূর্ণিমার চাঁদের দিকে তাকিয়ে বললেন, তোমরা তোমাদের প্রভুকে এমনভাবে দেখতে পাবে, যেমন এই চাঁদকে দেখছ; তাঁর দর্শনে তোমরা বাধাগ্রস্ত হবে না। এরপর তিনি বিশেষভাবে সূর্যোদয়ের আগের সালাত এবং সূর্যাস্তের আগের সালাত রক্ষার চেষ্টা করতে বলেন। অর্থাৎ ফজর ও আসর সালাতের প্রতি যত্ন নেওয়ার শিক্ষা এখানে স্পষ্ট। শেষে তিনি সূরা ত্ব-হার আয়াত পাঠ করেন, যাতে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের আগে রবের প্রশংসার কথা আছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মুমিনদের জন্য রবের দর্শন এক মহামূল্য সম্মানের বিষয় হিসেবে এসেছে।
- ফজর ও আসরের সালাত রক্ষার ওপর বিশেষভাবে জোর দেওয়া হয়েছে।
- কুরআনের আয়াত দিয়ে সালাত ও তাসবীহের গুরুত্ব বোঝানো হয়েছে।
