২৯/১. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫৭৬৫-[২৭] - কেয়ামতের মাঠে নবী صلى الله عليه وسلم-এর ভূমিকা
নবীকুল শিরোমণি (ﷺ)-র মর্যাদাসমূহ - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
কেয়ামতের মাঠে নবী صلى الله عليه وسلم-এর নেতৃত্ব ও শাফা'আত
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৫৭৬৫-[২৭]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৫৭৬৫-[২৭]
وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَنَا أَوَّلُ النَّاسِ خُرُوجًا إِذَا بُعِثُوا وَأَنَا قَائِدُهُمْ إِذَا وَفَدُوا وَأَنَا خَطِيبُهُمْ إِذَا أَنْصَتُوا وَأَنَا مُسْتَشْفِعُهُمْ إِذَا حُبِسُوا وَأَنَا مُبَشِّرُهُمْ إِذَا أَيِسُوا الْكَرَامَةُ وَالْمَفَاتِيحُ يَوْمَئِذٍ بِيَدِي وَلِوَاءُ الْحَمْدِ يَوْمَئِذٍ بِيَدِي وَأَنَا أَكْرَمُ وَلَدِ آدَمَ عَلَى رَبِّي يَطُوفُ عَلَيَّ أَلْفُ خادمٍ كأنَّهنَّ بَيْضٌ مُكْنُونٌ أَوْ لُؤْلُؤٌ مَنْثُورٌ». رَوَاهُ التِّرْمِذِيُّ وَالدَّارِمِيُّ وَقَالَ التِّرْمِذِيُّ: هَذَا حَدِيثٌ غَرِيب اسنادہ ضعیف، رواہ الترمذی (3610) و الدارمی (1 / 26 ۔ 27 ح 49) * فیہ لیث بن ابی سلیم : ضعیف ۔ (ضَعِيفٌ)
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : কিয়ামতের দিন যখন মানুষদেরকে কবর হতে উঠানো হবে, তখন আমিই সর্বপ্রথম কবর হতে বের হয়ে আসব। আর যখন লোকেরা দলবদ্ধ হয়ে আল্লাহ তা'আলার কাছে উপস্থিত হওয়ার জন্য রওয়ানা হবে, তখন আমিই হব তাদের অগ্রগামী ও প্রতিনিধি, আর আমিই হব তাদের মুখপাত্র, যখন তারা নীরব থাকবে। আর যখন তারা আটক হবে, তখন আমিই হব তাদের সুপারিশকারী। আর যখন তারা হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়বে, তখন আমিই তাদেরকে সুসংবাদ প্রদান করব।মর্যাদা এবং কল্যাণের চাবিসমূহ সেদিন আমার হাতে থাকবে। আল্লাহর প্রশংসার পতাকা সেদিন আমার হাতে থাকবে। আমার রবের কাছে আদামের সন্তানদের মধ্যে আমিই সর্বাপেক্ষা অধিক মর্যাদাবান ও সম্মানী লোক হব। সেদিন হাজারখানেক সেবক আমার চতুষ্পার্শ্বে ঘোরাফেরা করবে, যেন তারা সুরক্ষিত ডিম কিংবা বিক্ষিপ্ত মুক্তা।
যঈফ: তিরমিযী ৩৬১০, য'ঈফুল জামি ১৩০৯, দারিমী ৪৮, লায়স ইবনু আবূ সুলায়মান য'ঈফ। [তিরমিযী ও দারিমী, ইমাম তিরমিযী (রহঃ) বলেছেন, হাদীসটি গরীব]
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫৭৬৫-[২৭]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে কেয়ামতের দিনের কয়েকটি ভয়াবহ ও গুরুত্বপূর্ণ অবস্থায় নবী صلى الله عليه وسلم-এর ভূমিকা তুলে ধরা হয়েছে। মানুষ কবর থেকে উঠানো হলে তিনি প্রথম বের হবেন। মানুষ দলবদ্ধ হয়ে আল্লাহর কাছে উপস্থিত হতে গেলে তিনি তাদের অগ্রগামী হবেন। সবাই নীরব হলে তিনি মুখপাত্র হবেন। মানুষ আটকে গেলে তিনি শাফা'আতকারী হবেন। হতাশা দেখা দিলে তিনি সুসংবাদ দেবেন। হাদিসে আরও এসেছে, সেদিন সম্মান ও কল্যাণের চাবি তাঁর হাতে থাকবে এবং হামদের পতাকা তাঁর হাতে থাকবে। এই বর্ণনা “কেয়ামতের দিন নবী صلى الله عليه وسلم”, “শাফা'আত” এবং “হামদের পতাকা” বিষয়গুলোকে সামনে আনে। তবে বর্ণনার সনদ দুর্বল বলা হয়েছে, তাই অতিরিক্ত দাবি না করে প্রদত্ত কথাগুলোর মধ্যেই ব্যাখ্যা রাখা উচিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কেয়ামতের কঠিন অবস্থায় নবী صلى الله عليه وسلم-এর বিশেষ ভূমিকার কথা এই বর্ণনায় এসেছে।
- শাফা'আত আল্লাহর অনুমতি ও দয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি বড় বিষয়।
- হামদের পতাকা নবী صلى الله عليه وسلم-এর সম্মানিত অবস্থানের পরিচয় বহন করে।
- আখিরাতের কথা মানুষকে দায়িত্বশীল ও আল্লাহমুখী হতে সাহায্য করে।
