২৯/৩. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫৮১৯-[১৯] - আনাস রা.-এর সাথে নবীজির ধৈর্য
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর স্বভাব-চরিত্রের বর্ণনা - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
সেবকের ভুলে নবীজির ধৈর্য ও ভাগ্যের প্রতি বিশ্বাস
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৫৮১৯-[১৯]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৫৮১৯-[১৯]
عَنْ أَنَسٍ قَالَ: خَدَمْتُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَنَا ابْنُ ثَمَانِ سِنِينَ خَدَمْتُهُ عَشْرَ سِنِينَ فَمَا لَامَنِي عَلَى شَيْءٍ قَطُّ أَتَى فِيهِ عَلَى يَدَيَّ فَإِنْ لَامَنِي لَائِمٌ مِنْ أَهْلِهِ قَالَ: «دَعُوهُ فَإِنَّهُ لَوْ قُضِيَ شَيْءٌ كَانَ» .هَذَا لَفَظُ «الْمَصَابِيحِ» وَرَوَى الْبَيْهَقِيُّ فِي «شُعَبِ الْإِيمَانِ» . مَعَ تَغْيِيرٍ يَسِيرٍ صحیح، ذکرہ البغوی فی المصابیح السنۃ (4 / 57 ۔ 58 ح 4538) و رواہ البیھقی فی شعب الایمان (8070 و کتاب القدر : 212 و سندہ صحیح) ولہ شواھد عند احمد (3 / 231 و ابن سعد (7 / 17) و البخاری (2768 ، 6038 ، 6911) و مسلم (2309) و الخطیب فی تاریخ بغداد (3 / 303) و ابن حبان (الموارد : 1816) وغیرھم ۔ * و رواہ الخرائطی فی مکارم الاخلاق (71) ۔ (صَحِيح)
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমার বয়স যখন আট বছর তখন আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সেবায় যোগ দেই এবং দশ বছর তাঁর সেবা করি। কোন সময় কোন বস্তু আমার হাতে নষ্ট হয়ে গেলেও তিনি (ﷺ) আমাকে কখনো তিরস্কার করেননি। পরিবারবর্গের কেউ যদি আমাকে তিরস্কার করতেন, তখন তিনি (ﷺ) বলতেন, তাকে ছেড়ে দাও। কেননা যা ভাগ্যে লিপিবদ্ধ ছিল তা তো হবেই। [এটা মাসাবীহ-এর শব্দ, আর ইমাম বায়হাক্বী (রহঃ) শু'আবুল ঈমানে কিছু পরিবর্তনসহ বর্ণনা করেছেন।
সহীহ: সহীহ ইবনু হিব্বান ১৮১৬, বায়হাকী ৮০৭০।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫৮১৯-[১৯]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আনাস রা. রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর সেবক হিসেবে নিজের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আট বছর বয়সে তিনি নবী صلى الله عليه وسلم-এর সেবায় যোগ দেন এবং দশ বছর সেবা করেন। কোনো বস্তু তাঁর হাতে নষ্ট হয়ে গেলেও রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم কখনো তাঁকে তিরস্কার করেননি। পরিবারের কেউ যদি তাঁকে তিরস্কার করতেন, নবী صلى الله عليه وسلم বলতেন, “তাকে ছেড়ে দাও। যা নির্ধারিত ছিল, তা তো হবেই।” এই বর্ণনায় নবীজির ধৈর্য, ছোটদের প্রতি কোমল আচরণ, সেবকের ভুলে সহনশীলতা এবং ভাগ্যের প্রতি বিশ্বাসের শিক্ষা আছে। তিনি ভুলের কারণে কঠোরতা বাড়াননি। বরং মানুষের সীমাবদ্ধতা বুঝে নরম আচরণ করেছেন। পরিবার ও কর্মস্থলে এই শিক্ষা খুব বাস্তব: ভুল হলে ধৈর্য, কথা হলে কোমলতা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সেবকের ভুলে তাড়াহুড়া করে তিরস্কার না করা নবীজির শিক্ষা।
- শিশু ও ছোটদের সাথে ধৈর্য রাখা দরকার।
- যা ঘটে গেছে, তা নিয়ে অতিরিক্ত কঠোরতা না দেখানো ভালো।
- ভাগ্যের প্রতি বিশ্বাস মানুষের আচরণকে শান্ত করতে সাহায্য করে।
