২৯/৭. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫৯৩২-[৬৫] - হুনায়নে রাতের পাহারা ও আনুগত্য
মুজিযার বর্ণনা - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
হুনায়নে রাতের পাহারা ও দায়িত্ব পালন
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৫৯৩২-[৬৫]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৫৯৩২-[৬৫]
وَعَن سهل ابْن الْحَنْظَلِيَّةِ أَنَّهُمْ سَارُوا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ حُنَيْنٍ فَأَطْنَبُوا السَّيْرَ حَتَّى كَانَت عَشِيَّةً فَجَاءَ فَارِسٌ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي طَلِعْتُ عَلَى جَبَلِ كَذَا وَكَذَا فَإِذَا أَنَا بِهَوَازِنَ عَلَى بَكْرَةِ أَبِيهِمْ بِظُعُنِهِمْ وَنَعَمِهِمُ اجْتَمَعُوا إِلَى حُنَيْنٍ فَتَبَسَّمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَالَ تِلْكَ غَنِيمَةٌ الْمُسْلِمِينَ غَدا إِن شَاءَ الله ثمَّ قَالَ مَنْ يَحْرُسُنَا اللَّيْلَةَ قَالَ أَنَسُ بْنُ أَبِي مَرْثَدٍ الْغَنَوِيُّ أَنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ ارْكَبْ فَرَكِبَ فَرَسًا لَهُ فَقَالَ: «اسْتَقْبِلْ هَذَا الشِّعْبَ حَتَّى تَكُونَ فِي أَعْلَاهُ». فَلَمَّا أَصْبَحْنَا خَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى مُصَلَّاهُ فَرَكَعَ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ قَالَ هَلْ حسستم فارسكم قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا حَسِسْنَا فَثُوِّبَ بِالصَّلَاةِ فَجَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُصَلِّي وَهُوَ يَلْتَفِتُ إِلَى الشِّعْبِ حَتَّى إِذَا قَضَى الصَّلَاةَ قَالَ أَبْشِرُوا فَقَدْ جَاءَ فَارِسُكُمْ فَجَعَلْنَا نَنْظُرُ إِلَى خِلَالِ الشَّجَرِ فِي الشِّعْبِ فَإِذَا هُوَ قَدْ جَاءَ حَتَّى وَقَفَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَسلم فَقَالَ إِنِّي انْطَلَقْتُ حَتَّى كُنْتُ فِي أَعْلَى هَذَا الشِّعْبِ حَيْثُ أَمَرَنِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَمَّا أَصبَحت اطَّلَعت الشِّعْبَيْنِ كِلَيْهِمَا فَلَمْ أَرَ أَحَدًا فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هَلْ نَزَلْتَ اللَّيْلَةَ قَالَ لَا إِلَّا مُصَلِّيَا أَوْ قَاضِيَ حَاجَةٍ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «فَلَا عَلَيْكَ أَنْ لَا تَعْمَلَ بعدَها».رَوَاهُ أَبُو دَاوُد اسنادہ حسن، رواہ ابوداؤد (2501) ۔ (صَحِيح)
সাহল ইবনু হানযালিয়্যাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
হুনায়নের যুদ্ধের দিন তাঁরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- এর সাথে ভ্রমণে বের হলেন। ভ্রমণটি কিছুটা দীর্ঘ হলো, এমনকি সন্ধ্যা এসে গেল। এমন সময় একজন অশ্বারোহী এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি অমুক অমুক পাহাড়ের উপর উঠেছিলাম, তখন দেখতে পেলাম, হাওয়াযিন গোত্রের লোকেরা সকলে এসে পড়েছে। তাদের সাথে তাদের মহিলাগণ, মালসম্পদ এবং সর্বপ্রকারের গবাদিপশু রয়েছে; আর তারা সকলে হুনায়ন এলাকায় একত্রিত হয়েছে। এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হালকা হেসে বললেন, ইন্শা-আল্ল-হ! আগামীকাল এ সমস্ত জিনিস মুসলিমদের গনীমাতের সম্পদে পরিণত হবে।অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আজ রাতে (তোমাদের) কে আমাদেরকে পাহারা দেবে? আনাস ইবনু আবূ মারসাদ আল গানবী (রাঃ) বললেন, আমিই হে আল্লাহর রাসূল! তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আচ্ছা আরোহণ কর। তখন তিনি তাঁর অশ্বে আরোহণ করলেন। তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তুমি এই পাহাড়ী রাস্তায় অগ্রসর হও, এমনকি এ পাহাড়ের উপরে পৌছে যাও।(বর্ণনাকারী বলেন,) যখন ভোর হলো, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সালাতের জন্য বের হলেন। দু' রাক্‘আত সুন্নাত পড়ে প্রশ্ন করলেন, তোমরা তোমাদের অশ্বারোহীর আভাস পেয়েছ কি? তখন এক লোক বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা আভাস পাইনি। অতঃপর সালাতের জন্য ইক্বামাত দেয়া হলো, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সালাত আদায় করাতে আড় চোখে সেই গিরিপথের দিকে তাকাচ্ছিলেন। সালাত শেষ করেই তিনি (ﷺ) বললেন, তোমরা সুসংবাদ গ্রহণ কর। তোমাদের অশ্বারোহী এসে পৌঁছেছে।(বর্ণনাকারী বলেন, আমরা বৃক্ষরাজির মাঝে পাহাড়ী পথে সেদিকে তাকিয়ে দেখলাম, তিনি এসে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সামনে দাঁড়ালেন। অতঃপর বললেন, আমি রওয়ানা হয়ে ঐ পাহাড়ের সর্বোচ্চ চূড়ায় উঠেছিলাম, যেখানে উঠার জন্য রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে নির্দেশ করেছিলেন। যখন আমি সকালে উপনীত হলাম, তখন আমি উভয় পাহাড়ের চূড়ায় উঠে এদিক-সেদিক দৃষ্টি দিলাম কিন্তু কাউকেই দেখতে পেলাম না। এমতাবস্থায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সে অশ্বারোহীকে প্রশ্ন করলেন, তুমি কি রাতের বেলায় অবতরণ করেছিলে? তিনি বললেন, না। তবে শুধু সালাতের জন্য অথবা প্রাকৃতিক প্রয়োজন মিটানোর জন্য। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, এরপর তুমি অন্য কোন প্রকারের (নাল) ‘আমাল না করলেও তোমার কোন ক্ষতি হবে না।
সহীহ: আবূ দাউদ ২৫০১, সহীহ আবূ দাউদ ২২৫৯, সিলসিলাতুস্ সহীহাহ্ ৩৭৮।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫৯৩২-[৬৫]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে হুনায়নের দিনের সফর ও রাতের পাহারার ঘটনা এসেছে। একজন অশ্বারোহী এসে হাওয়াযিন গোত্রের সমবেত হওয়ার খবর দেয়। নবী صلى الله عليه وسلم বলেন, ইনশা-আল্লাহ আগামীকাল এগুলো মুসলিমদের গনীমত হবে। এরপর তিনি জানতে চান, কে রাতে পাহারা দেবে। আনাস ইবনু আবূ মারসাদ (রাঃ) দায়িত্ব নেন। নবী صلى الله عليه وسلم তাকে পাহাড়ি পথে ওপর পর্যন্ত যেতে বলেন। তিনি রাতে কেবল সালাত বা প্রয়োজন ছাড়া নিচে নামেননি। ভোরে তিনি ফিরে এসে জানালেন, কাউকে দেখতে পাননি। নবী صلى الله عليه وسلم তাঁর দায়িত্ব পালনের জন্য প্রশংসাসূচক কথা বলেন। হাদিসটির প্রধান কীওয়ার্ড হলো হুনায়নের যুদ্ধ, রাতের পাহারা, সাহাবীর আনুগত্য এবং আল্লাহর পথে দায়িত্ব পালন।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দায়িত্ব পেলে তা মনোযোগ দিয়ে পালন করা উচিত।
- নবী صلى الله عليه وسلم সাহাবীদের নিরাপত্তার জন্য ব্যবস্থা নিতেন।
- সালাত ও প্রয়োজন ছাড়া পাহারার স্থান না ছাড়া দায়িত্ববোধের পরিচয়।
- ইনশা-আল্লাহ বলা নবী صلى الله عليه وسلم-এর কথায় এসেছে।
