২৯/৯. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫৯৫৮-[৩] - হাওযে কাওসার ও দুনিয়ার প্রতিযোগিতা
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ওফাত সম্পর্কে বর্ণনা - প্রথম অনুচ্ছেদ
হাওযে কাওসার ও দুনিয়ার প্রতিযোগিতা নিয়ে নবী صلى الله عليه وسلم-এর সতর্কতা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৫৯৫৮-[৩]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৫৯৫৮-[৩]
وَعَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ قَالَ: صَلَّى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى قَتْلَى أحد بعد ثَمَانِي سِنِينَ كَالْمُوَدِّعِ لِلْأَحْيَاءِ وَالْأَمْوَاتِ ثُمَّ طَلَعَ الْمِنْبَرَ فَقَالَ: «إِنِّي بَيْنَ أَيْدِيكُمْ فَرَطٌ وَأَنَا عَلَيْكُمْ شَهِيدٌ وَإِنَّ مَوْعِدَكُمُ الْحَوْضُ وَإِنِّي لَأَنْظُرُ إِلَيْهِ من مَقَامِي هَذَا وَإِنِّي قَدْ أُعْطِيتُ مَفَاتِيحَ خَزَائِنِ الْأَرْضِ وَإِنِّي لَسْتُ أَخْشَى عَلَيْكُمْ أَنْ تُشْرِكُوا بعدِي وَلَكِنِّي أخْشَى عَلَيْكُم الدُّنْيَا أَن تنافسوها فِيهَا». وَزَادَ بَعْضُهُمْ:: «فَتَقْتَتِلُوا فَتَهْلِكُوا كَمَا هَلَكَ من كَانَ قبلكُمْ». مُتَّفق عَلَيْهِ متفق علیہ، رواہ البخاری (4042) و مسلم (30 / 2296 و الزیادۃ لہ 31 / 2296)، (5976) ۔ (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
‘উক্ববাহ্ ইবনু ‘আমির (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) উহুদ যুদ্ধে নিহত শহীদদের ওপর আট বছর পর (জানাযার) সালাত আদায় করলেন। সেদিনের সালাতে মনে হলো তিনি (ﷺ) যেন জীবিত এবং মৃতদেরকে বিদায় করছেন।অতঃপর তিনি মিম্বারে আরোহণ করে বললেন, আমি তোমাদের সম্মুখে অগ্রবর্তী লোক এবং আমি তোমাদের পক্ষে সাক্ষী এবং তোমাদের সাথে আমার সাক্ষাতের স্থান হলো হাওযে কাওসার। আমি এখন আমার এ স্থানে দাঁড়িয়েও হাওযে কাওসার দেখতে পাচ্ছি। আর পৃথিবীর ধনভাণ্ডারের চাবিসমূহ অবশ্যই আমাকে দেয়া হয়েছে। আমি তোমাদের ওপর এই আশঙ্কা করি না যে, আমার পরে তোমরা সকলে শিরকে লিপ্ত হয়ে যাবে; বরং আমি দুনিয়ার বিষয়ে তোমাদের প্রতি আশঙ্কা করি যে, তোমরা তার প্রতি আসক্ত হয়ে পড়বে। কোন না কোন বর্ণনাকারী এর সাথে এ বাক্যগুলোও বৃদ্ধি করেছেন, অতঃপর তোমরা পরস্পর খুনাখুনি করবে এবং এমনভাবে ধ্বংস হয়ে যাবে, যেভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে তোমাদের পূর্ববর্তীগণ।
সহীহ: বুখারী ৪০৪২, মুসলিম ৩১-(২২৯৬), আবূ দাউদ ৩২২৪, মুসনাদে আহমাদ ১৭৪৩৮, রিয়াযুস সলিহীন ১৮৬৯, মা'রিফাতুস সুনান ওয়াল আসার ২১৯৮, আবূ ইয়া'লা ১৭৪৮, আল মু'জামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী ১৪১৮৮, আস্ সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকী ৭০৫৮।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫৯৫৮-[৩]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে উকবা ইবনু আমির রাঃ বলেন, রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم উহুদ যুদ্ধের শহীদদের ওপর আট বছর পর সালাত আদায় করেন। সেই সালাত যেন জীবিত ও মৃতদের বিদায়ের মতো ছিল। এরপর তিনি মিম্বারে উঠে বলেন, তিনি উম্মতের আগে অগ্রবর্তী এবং তাদের ওপর সাক্ষী। তাদের সঙ্গে সাক্ষাতের স্থান হাওযে কাওসার। তিনি বলেন, তিনি তাঁর স্থান থেকেই হাওযে কাওসার দেখতে পাচ্ছেন। পৃথিবীর ধনভাণ্ডারের চাবি তাঁকে দেওয়া হয়েছে। তিনি উম্মতের ব্যাপারে শিরকে ফিরে যাওয়ার চেয়ে দুনিয়ার প্রতিযোগিতা নিয়ে বেশি আশঙ্কা করেছেন। কোনো বর্ণনায় অতিরিক্ত এসেছে, দুনিয়ার জন্য প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে তারা পরস্পর লড়াই করে ধ্বংস হতে পারে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবী صلى الله عليه وسلم উম্মতের জন্য সাক্ষী ও অগ্রবর্তী হিসেবে বর্ণিত হয়েছেন।
- হাওযে কাওসার মুমিনদের জন্য বড় আশার বিষয়।
- দুনিয়ার সম্পদ নিয়ে প্রতিযোগিতা মানুষের ক্ষতির কারণ হতে পারে।
- উহুদের শহীদদের স্মরণ নবী صلى الله عليه وسلم-এর ভালোবাসা ও সম্মান প্রকাশ করে।
