২৯/৯. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫৯৫৯-[৪] - নবী صلى الله عليه وسلم-এর শেষ মুহূর্ত ও মিসওয়াক
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর ওফাত সম্পর্কে বর্ণনা - প্রথম অনুচ্ছেদ
নবী صلى الله عليه وسلم-এর শেষ মুহূর্ত: মিসওয়াক ও রফীকুল আ'লা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৫৯৫৯-[৪]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৫৯৫৯-[৪]
وَعَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ: إِنَّ مِنْ نِعَمِ اللَّهِ عَلِيٍّ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تُوِفِّيَ فِي بَيْتِي وَفِي يَوْمِي وَبَيْنَ سَحْرِي وَنَحْرِي وَإِنَّ اللَّهَ جَمَعَ بَيْنَ رِيقِي وَرِيقِهِ عِنْدَ مَوْتِهِ دَخَلَ عَلَيَّ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي بَكْرٍ وَبِيَدِهِ سِوَاكٌ وَأَنَا مُسْنِدَةُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَرَأَيْتُهُ يَنْظُرُ إِلَيْهِ وَعَرَفْتُ أَنَّهُ يُحِبُّ السِّوَاكَ فَقُلْتُ: آخُذُهُ لَكَ؟ فَأَشَارَ بِرَأْسِهِ أَنْ نَعَمْ فَتَنَاوَلْتُهُ فَاشْتَدَّ عَلَيْهِ وَقُلْتُ: أُلَيِّنُهُ لَكَ؟ فَأَشَارَ بِرَأْسِهِ أَنْ نَعَمْ فَلَيَّنْتُهُ فَأَمَرَّهُ وَبَيْنَ يَدَيْهِ رَكْوَةٌ فِيهَا مَاءٌ فَجَعَلَ يُدْخِلُ يَدَيْهِ فِي الْمَاءِ فَيَمْسَحُ بِهِمَا وَجْهَهُ وَيَقُولُ: «لَا إِلَهَ إِلَّا الله إِنَّ للموتِ سَكَراتٍ». ثمَّ نصب يَده فَجَعَلَ يَقُولُ: «فِي الرَّفِيقِ الْأَعْلَى». حَتَّى قُبِضَ ومالت يَده.رَوَاهُ البُخَارِيّ رواہ البخاری (4449) ۔ (صَحِيح)
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমার ওপর আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ হলো এই যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার ঘরে, আমার পালার দিন এবং আমার বুক ও গলার মধ্যবর্তী স্থানে হেলান দেয়া অবস্থায় ইন্তিকাল করেছেন। আর তাঁর ইন্তিকালের আগ মুহূর্তে আল্লাহ তা'আলা আমার মুখের লালার সাথে তাঁর মুখের লালাও মিশিয়ে দিয়েছেন।‘আবদুর রহমান ইবনু আবূ বাক্র মিসওয়াক হাতে আমার কাছে আসলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তখন আমার সাথে হেলান দেয়া অবস্থায় ছিলেন। তখন আমি দেখলাম, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঐ মিসওয়াকটির দিকে তাকাচ্ছেন। আমি বুঝতে পারলাম, তিনি মিসওয়াক করতে চাচ্ছেন। অতএব আমি বললাম, আমি কি মিসওয়াকটি আপনার জন্য নেব? তিনি (ﷺ) মাথা নেড়ে হ্যাঁ-বোধক ইঙ্গিত করলেন। অতএব আমি মিসওয়াকটি তাঁর কাছ হতে নিয়ে তাঁকে দিলাম। তা তাঁর জন্য কষ্টকর হলো। তখন বললাম, আমি কি তাকে আপনার জন্য নরম করে দেব? তিনি (ﷺ) মাথা হেলিয়ে হ্যাঁ-বোধক ইঙ্গিত করলেন। অতএব তখন আমি তাকে নরম করে দিলাম।অতঃপর তিনি (ﷺ) তা ব্যবহার করলেন। আর তাঁর সামনে একটি পাত্রে পানি রাখা ছিল। তাতে তিনি (ﷺ) উভয় হাত ঢুকিয়ে হাত দু'টি দ্বারা আপন চেহারা মাসেহ করতে লাগলেন। এ সময় তিনি (ﷺ) বলছিলেন- 'লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ’, অবশ্য মৃত্যুর যন্ত্রণা ভীষণ। অতঃপর তিনি হাত উঠিয়ে আকাশের দিকে ইঙ্গিত করে বলতে থাকলেন- ‘ফির্ রফীক্বল আ'লা-' অর্থাৎ- উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন বন্ধুর সাথে (আমাকে মিলিত কর), এ কথা বলতে বলতে তিনি ইন্তিকাল করেন এবং তাঁর হাত নিচে নেমে আসে।
সহীহ: বুখারী ৪৪৪৯, মুসলিম ৮৪ (২৪৪৩), মুসনাদে আহমাদ ২৪২৬২, মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ ৮, আবূ ইয়া'লা ৪৫৮৬, সহীহ ইবনু হিব্বান ৬৬১৭, আল মু'জামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী ১৮৬০৫, আল মু'জামুল আওসাত্ব ৬৮৮৭, আস্ সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকী ১৩৮১২।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫৯৫৯-[৪]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আয়িশাহ রাঃ রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর ইন্তিকালের শেষ মুহূর্তের কথা বলেছেন। তিনি এটিকে আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ মনে করেছেন যে নবী صلى الله عليه وسلم তাঁর ঘরে, তাঁর পালার দিনে এবং তাঁর বুকে হেলান দেওয়া অবস্থায় ইন্তিকাল করেন। আবদুর রহমান ইবনু আবূ বাকর রাঃ মিসওয়াক হাতে এলে নবী صلى الله عليه وسلم তার দিকে তাকান। আয়িশাহ রাঃ বুঝতে পারেন তিনি মিসওয়াক চান। তিনি মিসওয়াকটি নেন, নরম করেন এবং নবী صلى الله عليه وسلم তা ব্যবহার করেন। এরপর তিনি পানিতে হাত দিয়ে মুখ মুছতে থাকেন এবং বলেন, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, নিশ্চয় মৃত্যুর কষ্ট আছে।’ তারপর হাত উঠিয়ে বলেন, ‘রফীকুল আ'লা’—উচ্চ মর্যাদার সঙ্গীর সঙ্গে। এভাবেই তাঁর ইন্তিকাল হয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবী صلى الله عليه وسلم শেষ মুহূর্তেও মিসওয়াক পছন্দ করেছেন।
- মৃত্যুর কষ্ট বাস্তব—এ কথা নবী صلى الله عليه وسلم নিজেই বলেছেন।
- আয়িশাহ রাঃ নবী صلى الله عليه وسلم-এর শেষ মুহূর্তে সেবার সুযোগ পেয়েছিলেন।
- শেষ সময়ে আল্লাহর সান্নিধ্য ও আখিরাতের প্রতি মনোযোগ ছিল।
