৪/৫. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৬৬৭-[১৪] - মুয়াযযিনের ক্ষমা ও সাক্ষ্য
আজানের ফজিলত ও মুয়াজ্জিনের উত্তর দান - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
মুয়াযযিনের ফজিলত ও আযানের সাক্ষ্য
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৬৬৭-[১৪]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৬৬৭-[১৪]
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ الْمُؤَذِّنُ يُغْفَرُ لَه مَدى صَوْتِه وَيَشْهَدُ لَه كُلُّ رَطْبٍ وَيَابِسٍ وَشَاهِدُ الصَّلَاةِ يُكْتَبُ لَه خَمْسٌ وَعِشْرُونَ صَلَاةً وَيُكَفَّرُ عَنْهُ مَا بَيْنَهُمَا. رَوَاهُ أَحْمَد وأَبُوْ دَاوٗدَ وابن مَاجَةَ وَرَوَى النِّسَائِىُّ اِلى قَوْلِه رَطْبٍ وَّيَابِسٍ وَقالَ وَلَه مِثْلُ اَجْرِ مَنْ صَلّى
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : মুয়াজ্জিন, তাকে মাফ করে দেয়া হবে। তার আজানের আওয়াজের শেষ সীমা পর্যন্ত তার জন্য সাক্ষ্য দেবে প্রতিটা সজীব এ নির্জীব জিনিস। যে সালাতে উপস্থিত হবে, তার জন্য প্রতি সালাতে পঁচিশ সালাতের সওয়াব লিখা হবে। মাফ করে দেয়া হবে তার দুই সালাতের মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহগুলো। [১] কিন্তু নাসায়ী, প্রত্যেক সজীব নির্জীব পর্যন্ত বর্ণনা করেছেন। তারপর তিনি আরও বলেছেন, তার জন্য সওয়াব রয়েছে যারা সালাত আদায় করেছে তাদের সমান। [২]
[১] সহীহ : আহমাদ ৪/২৮৪, আবূ দাঊদ ৫১৫, ইবনু মাজাহ্ ৭২৪, সহীহ আল জামি‘ ৬৬৪৪। তবে ইমাম নাসায়ী হাদীসটি সাহাবী বারা ইবনু ‘আযীব (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন।[২] সহীহ : নাসায়ী ৬৪৬, সহীহ আল জামি‘ ১৮৪১।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৬৬৭-[১৪]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মুয়াযযিনের মর্যাদা ও আযানের প্রভাব তুলে ধরা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, মুয়াযযিনকে মাফ করে দেওয়া হবে তার আওয়াজের শেষ সীমা পর্যন্ত। আরও বলা হয়েছে, তার জন্য প্রতিটি সজীব ও নির্জীব জিনিস সাক্ষ্য দেবে। এতে বোঝা যায়, আযান শুধু মানুষের কানে পৌঁছায় না; এটি আল্লাহর দিকে আহ্বান হিসেবে বড় মর্যাদার কাজ। হাদিসে সালাতে উপস্থিত ব্যক্তির কথাও এসেছে। যে সালাতে উপস্থিত হয়, তার জন্য প্রতি সালাতে পঁচিশ সালাতের সাওয়াব লেখা হবে এবং দুই সালাতের মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহ মাফ করা হবে। নাসায়ীর বর্ণনায় মুয়াযযিনের জন্য সালাত আদায়কারীদের সমান সাওয়াবের কথাও এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মুয়াযযিনের আযান আল্লাহর দিকে ডাক, তাই এটি সম্মানিত কাজ।
- আযানের আওয়াজ যে সীমায় পৌঁছে, সেই সীমা পর্যন্ত সাক্ষ্যের কথা এসেছে।
- জামাতে উপস্থিত হওয়া সাওয়াব ও ক্ষমার কারণ হতে পারে।
- সালাতের ডাক দেওয়া এবং সালাতে সাড়া দেওয়া—দুটিই মূল্যবান আমল।
