৪/৫. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৬৬৮-[১৫] - ইমামতির আদব ও দুর্বলের খেয়াল
আজানের ফজিলত ও মুয়াজ্জিনের উত্তর দান - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
ইমামতির সময় দুর্বল ব্যক্তির খেয়াল রাখা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৬৬৮-[১৫]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৬৬৮-[১৫]
وَعَنْ عُثْمَانَ بْنِ أَبِي الْعَاصِ قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ اجْعَلْنِيْ إِمَامَ قَوْمِي قَالَ أَنْتَ إِمَامُهُمْ وَاقْتَدِ بِأَضْعَفِهِمْ وَاتَّخِذْ مُؤَذِّنًا لَا يَأْخُذُ عَلى أَذَانِه أَجْرًا. رَوَاهُ أَحْمَد وأَبُوْ دَاوٗدَ وَالنَّسَآئِىُّ
‘উসমান ইবনু আবুল ‘আস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে আবেদন করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে আমার জাতির ইমাম নিযুক্ত করে দিন। নবী (ﷺ) বললেন, আচ্ছা ঠিক আছে। তুমি তাদের ইমাম। তবে ইমামতির সময় তাদের সবচেয়ে দুর্বল ব্যক্তির প্রতি লক্ষ্য রেখ। একজন মুয়াজ্জিন নিযুক্ত করে নিও, যে আজান দেবার বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণ করবে না। [১]
[১] সহীহ : আহমাদ ১৫৮৩৬, আবূ দাঊদ ৫৩১, নাসায়ী ২৭২, সহীহ আল জামি‘ ১৪৮০।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৬৬৮-[১৫]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ইমামতির একটি গুরুত্বপূর্ণ আদব শেখানো হয়েছে। উসমান ইবনু আবুল আস রাদিয়াল্লাহু আনহু রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর কাছে তাঁর জাতির ইমাম হওয়ার আবেদন করেন। নবী صلى الله عليه وسلم তাঁকে ইমাম হওয়ার অনুমতি দেন, তবে বলেন, ইমামতির সময় তাদের সবচেয়ে দুর্বল ব্যক্তির প্রতি লক্ষ্য রেখ। অর্থাৎ সালাত পরিচালনায় এমনভাবে আচরণ করতে হবে যাতে দুর্বল, অসুস্থ বা প্রয়োজনগ্রস্ত মানুষ কষ্টে না পড়ে। একই সঙ্গে নবী صلى الله عليه وسلم বলেন, এমন মুয়াযযিন নিযুক্ত করতে, যে আযানের বিনিময়ে পারিশ্রমিক গ্রহণ করবে না। এই হাদিসে ইমামতি, মানুষের প্রতি দয়া এবং আযানের কাজে আন্তরিকতার শিক্ষা একসঙ্গে এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইমামতির সময় দুর্বল মুসল্লির অবস্থা খেয়াল রাখা দরকার।
- নেতৃত্ব মানে মানুষের কষ্ট কমানো ও দায়িত্বশীল হওয়া।
- আযানের কাজে আন্তরিকতা ও সাওয়াবের আশা বড় বিষয়।
- ইমাম ও মুয়াযযিনের দায়িত্ব মসজিদের গুরুত্বপূর্ণ আমানত।
