১/৩. অধ্যায়ঃ

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৮৫-[৭] - তাকদীর জানলেও আমল করুন

তাকদীরের প্রতি ঈমান - প্রথম অনুচ্ছেদ

ক্বদর (কদর) বা তাক্বদীর তাই, যা আল্লাহ ফায়সালা করেছেন এবং কোন বিষয়ে নির্দেশ জারী করেছেন।তাক্বদীরের প্রতি ঈমান আনার অর্থঃ এ বিশ্বাস রাখা যে, পৃথিবীতে যা কিছু ঘটে তা ভালো হোক আর মন্দ হোক, ক্ষতিকর হোক বা উপকারী হোক তা’ নির্ধারিত। এমনকি বান্দার কর্মকান্ড যার মধ্যে ঈমান আনা, কুফরী করা, আনুগত্য করা, অবাধ্য হওয়া, পথভ্রষ্ট হওয়া ও সৎ পথে চলা- সব কিছুই আল্লাহর ফায়সালা। এসব তাঁরই নির্ধারণ, ইচ্ছা, সৃষ্টি ও প্রভাবের ফল। তবে তিনি ঈমান আনয়নে ও তাঁর আনুগত্যে সন্তুষ্ট হন এবং এজন্য তিনি প্রতিদানের অঙ্গীকারও করেছেন।পক্ষান্তরে কুফরী ও অবাধ্যতায় সন্তুষ্ট হন না বরং এজন্য তিনি শাস্তির ভয়প্রদর্শন করেছেন। আল্লাহ তা‘আলা সবকিছু নির্ধারণ করেছেন। অর্থাৎ- তিনি কোন কিছু অস্তিত্বে আনার আগেই তার পরিমাণ, অবস্থা ও তার অস্তিত্বে আসার কাল বা সময় সম্পর্কে অবহিত। অতঃপর তিনি তা অস্তিত্বে এনেছেন। অতএব উর্ধ্বজগতে বা অধঃজগতে আল্লাহ ব্যতীত কোন স্রষ্টা ও নির্ধারণকারী নেই। সবকিছুই তাঁর জ্ঞান, ক্ষমতা ও ইচ্ছানুযায়ী হয়। এতে সৃষ্টি জগতের কারো ইচ্ছা বা প্রভাব নেই।

তাকদীরের বিশ্বাস ও আমল চালিয়ে যাওয়ার শিক্ষা

মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৮৫-[৭]

وَعَنْ عَلِىٍّ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ : «مَا مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ اِلَّا وَقَدْ كُتِبَ مَقْعَدُهٗ مِنْ الْجَنَّةِ» وَمَقْعَدُهٗ مِنْ النَّارِ قَالُوا يَا رَسُولَ اللهِ! أَفَلَا نَتَّكِلُ عَلى كِتَابِنَا وَنَدَعُ الْعَمَلَ؟ قَالَ : اعْمَلُوْا فَكُلُّ مُّيَسَّرُ لِّمَا خُلِقَ لَهٗ أَمَّا مَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ السَّعَادَةِ فَيُيَسَّرُ لِعَمَلِ السَّعَادَةِ وَأَمَّا مَنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الشَّقَاوَةِ فَيُيَسَّرُونَ لِعَمَلِ الشَّقَاءِ ثُمَّ قَرَأَ : (فَأَمَّا مَنْ أَعْطى وَاتَّقى - وَصَدَّقَ بِالْحُسْنى﴿ الْاۤيَةَ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

আলী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : তোমাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যার অবস্থান জান্নাতে কিংবা জাহান্নামে লিখে রাখেননি। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! তাহলে আমরা কি আমাদের তাকদীরের লেখার উপর নির্ভর করে আমল ছেড়ে দিব না? নবী (ﷺ) বললেন, (না, বরং) আমল করে যেতে থাক। কেননা প্রত্যেক ব্যক্তিকে যে জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে, সে কাজ তার জন্য সহজ করে দেয়া হবে। সুতরাং যে ব্যক্তি সৌভাগ্যবান তাকে আল্লাহ সৌভাগ্যের কাজ করার জন্য সহজ ব্যবস্থা করে দিবেন। আর সে ব্যক্তি দুর্ভাগা হবে যার জন্য দুর্ভাগ্যের কাজ সহজ করে দেয়া হবে।অতঃপর রাসূল (ﷺ) (কোরআনের এ আয়াতটি) পাঠ করলেন: “যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে (সময় ও অর্থ) ব্যয় করেছে, আল্লাহকে ভয় করেছে, হক কথাকে (দ্বীনকে) সমর্থন জানিয়েছে"- সূরা আল লায়ল ৫-৬ নং আয়াতের শেষ পর্যন্ত। [১]

[১] সহীহ : বুখারী ৪৯৪৯, মুসলিম ২৬৪৭, তিরমিযী ৩৩৪৪।

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৮৫-[৭]-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে সাহাবীগণ একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন করেন। যখন জান্নাত বা জাহান্নামে মানুষের অবস্থান লেখা আছে, তাহলে কি আমল ছেড়ে দিয়ে সেই লেখার উপর নির্ভর করা যাবে? রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) স্পষ্টভাবে বলেন, আমল করে যেতে থাক। কারণ প্রত্যেককে যে কাজের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে, সে কাজ তার জন্য সহজ করে দেওয়া হবে। সৌভাগ্যবান ব্যক্তির জন্য সৌভাগ্যের কাজ সহজ হয়, আর দুর্ভাগার জন্য দুর্ভাগ্যের কাজ সহজ হয়। এরপর রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) সূরা আল-লাইলের আয়াত পাঠ করেন, যেখানে দান করা, তাকওয়া অবলম্বন করা এবং হক কথাকে সত্য বলে মানার কথা এসেছে। তাই তাকদীরের প্রতি ঈমান মানুষকে অলস করে না; বরং সঠিক আমলে স্থির থাকতে শেখায়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • তাকদীরের কথা জেনে আমল ছেড়ে দেওয়া ঠিক নয়।
  • রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) আমল করে যেতে বলেছেন।
  • সৌভাগ্যের পথে চলা আল্লাহর সহজ করে দেওয়া কাজের অংশ।
  • দান, তাকওয়া ও সত্যকে মানা ভালো পথের লক্ষণ।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন