১/৩. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৮৪-[৬] - শিশুর জানাযা ও তাকদীর
তাকদীরের প্রতি ঈমান - প্রথম অনুচ্ছেদ
ক্বদর (কদর) বা তাক্বদীর তাই, যা আল্লাহ ফায়সালা করেছেন এবং কোন বিষয়ে নির্দেশ জারী করেছেন।তাক্বদীরের প্রতি ঈমান আনার অর্থঃ এ বিশ্বাস রাখা যে, পৃথিবীতে যা কিছু ঘটে তা ভালো হোক আর মন্দ হোক, ক্ষতিকর হোক বা উপকারী হোক তা’ নির্ধারিত। এমনকি বান্দার কর্মকান্ড যার মধ্যে ঈমান আনা, কুফরী করা, আনুগত্য করা, অবাধ্য হওয়া, পথভ্রষ্ট হওয়া ও সৎ পথে চলা- সব কিছুই আল্লাহর ফায়সালা। এসব তাঁরই নির্ধারণ, ইচ্ছা, সৃষ্টি ও প্রভাবের ফল। তবে তিনি ঈমান আনয়নে ও তাঁর আনুগত্যে সন্তুষ্ট হন এবং এজন্য তিনি প্রতিদানের অঙ্গীকারও করেছেন।পক্ষান্তরে কুফরী ও অবাধ্যতায় সন্তুষ্ট হন না বরং এজন্য তিনি শাস্তির ভয়প্রদর্শন করেছেন। আল্লাহ তা‘আলা সবকিছু নির্ধারণ করেছেন। অর্থাৎ- তিনি কোন কিছু অস্তিত্বে আনার আগেই তার পরিমাণ, অবস্থা ও তার অস্তিত্বে আসার কাল বা সময় সম্পর্কে অবহিত। অতঃপর তিনি তা অস্তিত্বে এনেছেন। অতএব উর্ধ্বজগতে বা অধঃজগতে আল্লাহ ব্যতীত কোন স্রষ্টা ও নির্ধারণকারী নেই। সবকিছুই তাঁর জ্ঞান, ক্ষমতা ও ইচ্ছানুযায়ী হয়। এতে সৃষ্টি জগতের কারো ইচ্ছা বা প্রভাব নেই।
শিশুর জানাযা ও আল্লাহর পূর্বনির্ধারণ
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৮৪-[৬]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৮৪-[৬]
وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِىَ اللهُ عَنْهَا قَالَتْ دُعِيَ رَسُولُ اللهِ ﷺ إِلى جَنَازَةِ صَبِيٍّ مِنَ الْأَنْصَارِ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ طُوْبى لِهذَا عُصْفُورٌ مِنْ عَصَافِيرِ الْجَنَّةِ لَمْ يَعْمَلِ السُّوءَ وَلَمْ يُدْرِكْهُ فَقَالَ : أَوَ غَيْرَ ذلِكَ يَا عَائِشَةُ إِنَّ اللهَ خَلَقَ لِلْجَنَّةِ أَهْلًا خَلَقَهُمْ لَهَا وَهُمْ فِي أَصْلَابِ اۤبَائِهِمْ وَخَلَقَ لِلنَّارِ أَهْلًا خَلَقَهُمْ لَهَا وَهُمْ فِي أَصْلَابِ اۤبَائِهِمْ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদা একজন আনসারীর বাচ্চার জানাজার সালাত আদায়ের জন্য রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে ডাকা হল। আমি (‘আয়িশাহ্) বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! এ বাচ্চার কি সৌভাগ্য, সে তো জান্নাতের চড়ুই পাখিদের মধ্যে একটি চড়ুই। সে তো কোন গুনাহ করেনি বা গুনাহ করার বয়সও পায়নি। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, এছাড়া অন্য কিছু কি হতে পারে না হে ‘আয়িশাহ্! আল্লাহ তা’আলা একদল লোককে জান্নাতের জন্য সৃষ্টি করে রেখেছেন, যখন তারা তাদের পিতার মেরুদণ্ডে ছিল। এভাবে জাহান্নামের জন্যও একদল লোক সৃষ্টি করে রেখেছেন অথচ তখন তারা তাদের পিতার মেরুদণ্ডে ছিল। [১]
[১] সহীহ : মুসলিম ২৬৬২, নাসায়ী ১৯৪৭, ইবনু মাজাহ ৮২, আহমাদ ২৫৭৪২, সহীহ ইবনু হিব্বান ৬১৭৩।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৮৪-[৬]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ‘আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর একটি কথার জবাবে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাকদীরের শিক্ষা দেন। একজন আনসারী শিশুর জানাযায় তাঁকে ডাকা হয়। ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) বলেন, শিশুটি জান্নাতের চড়ুই পাখিদের মতো, কারণ সে গুনাহ করেনি এবং গুনাহ করার বয়সও পায়নি। তখন রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাঁকে সতর্ক করে বলেন, বিষয়টি অন্যরকমও হতে পারে। আল্লাহ একদলকে জান্নাতের জন্য সৃষ্টি করেছেন, যখন তারা তাদের পিতার মেরুদণ্ডে ছিল; আবার একদলকে জাহান্নামের জন্য সৃষ্টি করেছেন, তখনও তারা পিতার মেরুদণ্ডে ছিল। এই হাদিসে মূল শিক্ষা হলো, অদৃশ্য পরিণতি নিয়ে নিশ্চিত দাবি করা মানুষের কাজ নয়। আল্লাহর জ্ঞান পূর্ণ, আর বান্দার জ্ঞান সীমিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অদৃশ্য বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত দেওয়া থেকে সতর্ক থাকা দরকার।
- আল্লাহ জান্নাত ও জাহান্নামের লোকদের সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান রাখেন।
- মানুষের জ্ঞান সীমিত, তাই বিনয়ীভাবে কথা বলা উচিত।
- তাকদীরের বিষয় আল্লাহর জ্ঞানের সঙ্গে সম্পর্কিত।
