১/৩. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৮৩-[৫] - আমলের শেষ পরিণতির গুরুত্ব
তাকদীরের প্রতি ঈমান - প্রথম অনুচ্ছেদ
ক্বদর (কদর) বা তাক্বদীর তাই, যা আল্লাহ ফায়সালা করেছেন এবং কোন বিষয়ে নির্দেশ জারী করেছেন।তাক্বদীরের প্রতি ঈমান আনার অর্থঃ এ বিশ্বাস রাখা যে, পৃথিবীতে যা কিছু ঘটে তা ভালো হোক আর মন্দ হোক, ক্ষতিকর হোক বা উপকারী হোক তা’ নির্ধারিত। এমনকি বান্দার কর্মকান্ড যার মধ্যে ঈমান আনা, কুফরী করা, আনুগত্য করা, অবাধ্য হওয়া, পথভ্রষ্ট হওয়া ও সৎ পথে চলা- সব কিছুই আল্লাহর ফায়সালা। এসব তাঁরই নির্ধারণ, ইচ্ছা, সৃষ্টি ও প্রভাবের ফল। তবে তিনি ঈমান আনয়নে ও তাঁর আনুগত্যে সন্তুষ্ট হন এবং এজন্য তিনি প্রতিদানের অঙ্গীকারও করেছেন।পক্ষান্তরে কুফরী ও অবাধ্যতায় সন্তুষ্ট হন না বরং এজন্য তিনি শাস্তির ভয়প্রদর্শন করেছেন। আল্লাহ তা‘আলা সবকিছু নির্ধারণ করেছেন। অর্থাৎ- তিনি কোন কিছু অস্তিত্বে আনার আগেই তার পরিমাণ, অবস্থা ও তার অস্তিত্বে আসার কাল বা সময় সম্পর্কে অবহিত। অতঃপর তিনি তা অস্তিত্বে এনেছেন। অতএব উর্ধ্বজগতে বা অধঃজগতে আল্লাহ ব্যতীত কোন স্রষ্টা ও নির্ধারণকারী নেই। সবকিছুই তাঁর জ্ঞান, ক্ষমতা ও ইচ্ছানুযায়ী হয়। এতে সৃষ্টি জগতের কারো ইচ্ছা বা প্রভাব নেই।
শেষ আমলই পরিণতির বড় শিক্ষা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৮৩-[৫]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৮৩-[৫]
وَعَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ : «إِنَّ الْعَبْدَ لَيَعْمَلُ عَمَلَ أَهْلِ النَّارِ وَإِنَّهٗ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ وَيَعْمَلُ عَمَلَ أَهْلِ الْجَنَّةِ وَإِنَّهٗ مِنْ أَهْلِ النَّارِ وَإِنَّمَا الْأَعْمَالُ بِالْخَوَاتِيْمِ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
সাহল ইবনু সা'দ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: কোন বান্দা জাহান্নামীদের আমল করতে থাকবে, অথচ সে জান্নাতী। এভাবে কোন জান্নাতীদের আমল করবে অথচ সে জাহান্নামী। কেননা মানুষের আমল নির্ভর করে ‘খাওয়া-তীম’ বা সর্বশেষ আমলের উপর। [১]
[১] সহীহ : বুখারী ৬৬০৭, মুসলিম ১১২, আহমাদ ২২৮৩৫, মু‘জামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী ৫৭৯৮। বুখারী মুসলিমে فِيْمَا يَرَى النَّاسُ অংশটুকু অতিরিক্ত রয়েছে। অর্থাৎ- অর্থাৎ- মানুষের দৃষ্টিতে যা প্রতীয়মান হয় (বাহ্যিকভাবে সে জান্নাতী বা জাহান্নামীদের ‘আমাল করে)।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৮৩-[৫]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) মানুষের শেষ আমলের গুরুত্ব খুব সংক্ষেপে বলেছেন। কোনো বান্দা বাহ্যিকভাবে জাহান্নামীদের মতো আমল করতে পারে, অথচ তার শেষ পরিণতি জান্নাতের দিকে হতে পারে। আবার কেউ জান্নাতীদের মতো আমল করতে পারে, অথচ তার শেষ পরিণতি জাহান্নামের দিকে হতে পারে। হাদিসের মূল বাক্য হলো, আমল নির্ভর করে শেষ অবস্থার উপর। তাই কোনো মানুষের বর্তমান অবস্থা দেখে তার চূড়ান্ত পরিণতি নিয়ে নিশ্চিত কথা বলা উচিত নয়। নিজের ব্যাপারেও আত্মতৃপ্ত হওয়া ঠিক নয়। বরং শেষ পর্যন্ত ঈমান, তাওবা ও ভালো আমলে স্থির থাকার চেষ্টা করতে হবে। এই হাদিস মানুষকে সতর্ক করে, যেন সে নিজের আমলকে হালকা না ভাবে এবং শেষ পরিণতির জন্য আল্লাহর কাছে সাহায্য চায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মানুষের শেষ আমল তার পরিণতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
- কারও বাহ্যিক আমল দেখে চূড়ান্ত বিচার করা ঠিক নয়।
- নিজের ভালো আমল নিয়ে অতিরিক্ত নিশ্চিন্ত হওয়া উচিত নয়।
- শেষ পর্যন্ত ভালো পথে থাকার জন্য সতর্ক থাকা দরকার।
