৪/১২. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৮৫৬-[৩৫] - সালাতে কুরআন তিলাওয়াতের আদব
সালাতে কিরাআতের বর্ণনা - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
সালাতে তিলাওয়াতের শব্দে অন্যকে কষ্ট না দেওয়া
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৮৫৬-[৩৫]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৮৫৬-[৩৫]
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ وَالْبَيَاضِيِّ قَالَا: قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِنَّ الْمُصَلِّي يُنَاجِي رَبَّه فَلْيَنْظُرْ مَا يُنَاجِيهِ وَلَا يَجْهَرْ بَعْضُكُمْ عَلى بَعْضٍ بِالْقُرْآنِ. رَوَاهُ أَحْمَد
ইবনু ‘উমার (রাঃ) এবং ‘আবদুল্লাহ ইবনু আনাস আল-বায়াযী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তাঁরা বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ সালাত আদায়কারী সালাতরত অবস্থায় তার পরওয়ারদিগারের সাথে একান্তে আলাপ করে। তাই তার উচিত সে কি আলাপ করে তার প্রতি লক্ষ্য রাখা। অতএব একজনের কোরআন তিলাওয়াতের শব্দ অন্যজনের কানে যেন না পৌঁছে। [১]
[১] সহীহ : আহমাদ ৬০৯২, সহীহাহ্ ১০৬৩।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৮৫৬-[৩৫]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ইবনু উমর ও আল বায়াযী (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, সালাত আদায়কারী ব্যক্তি সালাতরত অবস্থায় তার রবের সঙ্গে একান্তে আলাপ করে। তাই সে কী বলছে, তা লক্ষ্য করা উচিত। এরপর নবীজি صلى الله عليه وسلم বলেছেন, তোমাদের একজনের কুরআন তিলাওয়াতের শব্দ যেন অন্যজনের ওপর উচ্চ হয়ে না যায়। এই হাদিসে সালাতের ভেতরে মনোযোগ, বিনয় এবং অন্য মুসল্লির প্রতি খেয়াল রাখার শিক্ষা আছে। কুরআন তিলাওয়াত অবশ্যই সম্মানের বিষয়; কিন্তু এমনভাবে পড়া ঠিক নয়, যাতে পাশের মানুষের সালাতের মনোযোগ নষ্ট হয়। তাই তিলাওয়াতের আদব এখানে মূল শিক্ষা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সালাতরত ব্যক্তি তার রবের সঙ্গে একান্তে কথা বলে।
- সালাতে কী বলা হচ্ছে, তা মন দিয়ে খেয়াল করা উচিত।
- নিজের তিলাওয়াতের শব্দ দিয়ে অন্যকে বিরক্ত করা ঠিক নয়।
- জামাতে বা একসঙ্গে সালাতে পরস্পরের মনোযোগ রক্ষা করা দরকার।
