৪/১২. অধ্যায়ঃ

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৮৫৪-[৩৩] - ইমামের পেছনে ফাতিহা পাঠ

সালাতে কিরাআতের বর্ণনা - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

ইমামের পেছনে সূরা ফাতিহা পাঠের হাদিস

মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৮৫৪-[৩৩]

وَعَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ قَالَ كُنَّا خَلْفَ النَّبِيِّ ﷺ فِي صَلَاةِ الْفَجْرِ فَقَرَأَ فَثَقُلَتْ عَلَيْهِ الْقِرَاءَةُ فَلَمَّا فَرَغَ قَالَ لَعَلَّكُمْ تَقْرَءُونَ خَلْفَ إِمَامِكُمْ قُلْنَا نَعَمْ يَا رَسُولَ اللهِ قَالَ لَا تَفْعَلُوا اِلَّا بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ فَإِنَّه لَا صَلَاةَ لِمَنْ لَمْ يَقْرَأْ بِهَا. رَوَاهُ أَبُوْ دَاوٗدَ وَالتِّرْمِذِيُّ وَالنَّسَائِيُّ مَعْنَاهُ وَفِيْ رِوَايَةٍ لأَبِيْ دَاؤُدَ قَالَ وَأَنَا أَقُوْلُ مَالِيْ يُنَازِعُنِيَ الْقُرْآنُ فَلَا تَقْرَءُوْا بِشَيْءٍ مِن الْقُرْآنِ إِذَا جَهَرْتُ اِلَّا بِأُمِّ الْقُرْآنِ

'উবাদাহ্ ইবনুস্ সামিত (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

আমরা রাসূল (ﷺ)–এর পিছনে ফজরের সালাতে ছিলাম। তিনি যখন ক্বিরাআত শুরু করলেন, তখন তাঁর তিলাওয়াত করা কষ্টকর ঠেকল। তিনি সালাত শেষ করে বললেন, তোমরা মনে হয় ইমামের পিছনে ক্বিরাআত পড়। আমরা আরজ করলাম, হ্যাঁ, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা ক্বিরাআত পাঠ করি। তিনি বললেন, সূরা ফাতিহা ছাড়া আর কিছু পাঠ করবে না। কারণ যে ব্যক্তি এ সূরা পাঠ করবে না তার সালাত হবে না। [১]নাসায়ী এ অর্থে বর্ণনা করেছেন, কিন্তু আবূ দাঊদের আর এক বর্ণনায় আছেঃ নবী (ﷺ) বললেন, কি হল কোরআন আমার সাথে এভাবে টানাটানি করছে কেন? আমি যখন সশব্দে ক্বিরাআত পাঠ করি তখন তোমরা সূরা‌ ফাতিহাহ্‌ ছাড়া আর কিছু পাঠ করবে না। [২]

[১] য‘ঈফ : আবূ দাঊদ ৮২৩, ৮২৪; নাসায়ী ৯১১। আলবানী বলেনঃ لَا تَفْعَلُوا اِلَّا بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ ‘‘আন্ওয়ার শাহ কাশ্মীর-এর ধারণা মতে এ ইবারতের মাধ্যমে ইমামের পিছনে সূরা আল ফাতিহা পড়া ওয়াজিব সাব্যস্ত হয় না, বরং জায়িয সাব্যস্ত হয়। কারণ নাসির পরে ইযতিযনা বৈধতার উপকারিতা দেয় কুরআনে যার অনেক দৃষ্টান্ত রয়েছে। যে আরো বিস্তারিত জানতে চায় সে যেন আন্ওয়ার শাহ কাশ্মীরী’র রচিত গ্রন্থ فَيْضُ الْقَدِيْرِ দেখে নেই। আর একটি সহীহ হাদীসের বর্ণনা لَا تَفْعَلُوا اِلَّا أَنْ يَقْرَأَ أَحَدُكُمْ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ টি তার সে কথাকেই প্রমাণ করা। অতএব এটি যেন ইমামের পিছনে সূরা আল ফাতিহা পড়া ওয়াজিব না হওয়ার দলীল। হাদীসটি ইমাম তিরমিযী হাসান বলেছেন। তবে আবূ দাঊদ-এর সানাদটি দুর্বল। কারণ তার সানাদে নাফি‘ ইবনু মাহমূদ ইবনু রাবি‘ রয়েছে যাকে ইমাম যাহাবী অপরিচিত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।[২] য‘ঈফ : আবূ দাঊদ ৮২৪। কারণ মাকহূল মুদাল্লিস রাবী সে عنعن দিয়ে হাদীস বর্ণনা করে থাকে।

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৮৫৪-[৩৩]-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে উবাদাহ ইবনুস সামিত (রাঃ) বলেন, তারা ফজরের সালাতে নবীজি صلى الله عليه وسلم-এর পেছনে ছিলেন। নবীজি صلى الله عليه وسلم যখন কিরাআত শুরু করলেন, তখন তাঁর তিলাওয়াত কষ্টকর হয়ে গেল। সালাত শেষে তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তোমরা কি ইমামের পেছনে কিরাআত পড়? তারা বললেন, হ্যাঁ। তখন নবীজি صلى الله عليه وسلم বললেন, সূরা ফাতিহা ছাড়া আর কিছু পড়বে না; কারণ যে ব্যক্তি এই সূরা পড়বে না তার সালাত হবে না। অন্য বর্ণনায় এসেছে, নবীজি صلى الله عليه وسلم সশব্দে কিরাআত করলে সূরা ফাতিহা ছাড়া অন্য কিছু না পড়তে বলেছেন। এই হাদিসে ইমামের পেছনে ফাতিহা, জেহরী সালাত ও কিরাআতের আদব স্পষ্ট হয়েছে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • ইমামের পেছনে সূরা ফাতিহা পাঠের কথা এই বর্ণনায় এসেছে।
  • জেহরী সালাতে ফাতিহা ছাড়া অন্য কিরাআত না করার নির্দেশ আছে।
  • ইমামের কিরাআতের সময় নিজের পড়া ইমামের তিলাওয়াতে প্রভাব ফেলতে পারে।
  • সালাতে কিরাআতের আদব মানা জরুরি।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন