১/১. অধ্যায়ঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, সর্বোত্তম কাজ হল আল্লাহর জন্য ভালোবাসা এবং আল্লাহর জন্য শত্রুতা করা।”
তাহক্বীক্ব : হাদীসটির সনদ যঈফ। ইয়াযীদ ইবনু আবী যিয়াদ নামের ব্যক্তি যঈফ। এছাড়া আরেকজন রাবী আছে, তার নাম উল্লেখ করা হয়নি, সে অপরিচিত।
রাসূল (ﷺ) আমাকে বলেছেন, জান্নাতের চাবি হল, ‘লা ইলা-হা ইল্লাল্লাহু’ বলে সাক্ষ্য প্রদান করা।
তাহক্বীক্ব : যঈফ। উক্ত হাদীসের সনদে শাহর ইবনু হাওশাব আছে। সে মু’আয (রাঃ) থেকে হাদীস শ্রবণ করেনি। এছাড়াও ইসমাঈল ইবনু আইয়াশ নামের রাবীও যঈফ।
নবী করীম (ﷺ) যখন মারা গেলেন তখন তাঁর সাহাবীদের অনেকে চিন্তিত হয়ে পড়লেন। এমনকি তাঁদের কারো মনে দ্বিধাও সৃষ্টি হল। ওছমান (রাঃ) বলেন, আমিও তাঁদের অন্যতম। এমন সময় ওমর (রাঃ) আমার নিকট দিয়ে গেলেন এবং আমাকে সালাম দিলেন। কিন্তু আমি বুঝতে পারলাম না। ওমর (রাঃ) আবুবকর (রাঃ)-এর নিকট গিয়ে অভিযোগ করলেন। অতঃপর উভয়ে আমার নিকট আসলেন এবং আমাকে সালাম করলেন।অতঃপর আবুবকর (রাঃ) আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, ওছমান আপনার কী হয়েছে? আপনি কেন আপনার ভাই ওমরের সালামের জবাব দেননি? আমি বললাম, আমি তো এরূপ করিনি। ওমর (রাঃ) বললেন, আল্লাহর কসম! আপনি এরূপ করেছেন। ওছমান (রাঃ) বললেন, আল্লাহর কসম! আমি বুঝতে পারিনি যে আপনি এই দিক দিয়ে গেছেন বা আমাকে সালাম দিয়েছেন।এরপর আবুবকর (রাঃ) বললেন, ওছমান ঠিকই বলেছেন। অতঃপর আবুবকর (রাঃ) বললেন, নিশ্চয় আপনাকে কোন দুশ্চিন্তা এ থেকে বিরত রেখেছিল। আমি বললাম, জি। তিনি আবার জিজ্ঞেস করলেন, সেটা কী? আমি বললাম, আল্লাহ তা'আলা তাঁর নবীকে তুলে নিলেন। অথচ আমরা তাঁকে এই বিষয়টি থেকে বাঁচার উপায় জানতে পারলাম না।আবুবকর (রাঃ) বললেন, দুশ্চিন্তার কারণ নেই। আমি তাঁকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলাম। একথা শুনে আমি তাঁর দিকে অগ্রসর হলাম এবং বললাম, আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য কুরবান হোক! আপনিই এর জন্য উপযুক্ত ব্যক্তি। আবুবকর (রাঃ) বলেন, আমি একদা রাসূল (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করলাম এ থেকে বাঁচার উপায় কী? তিনি বললেন, যে ব্যক্তি ঐ কালেমা গ্রহণ করল। যা আমি আমার চাচার কাছে পেশ করেছিলাম; আর তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। ঐটাই নাজাতের পথ।
তাহক্বীক্ব : যঈফ।
তিনি একদা নবী করীম (ﷺ)-কে জিজ্ঞেস করেন, কোন ঈমান সর্বোত্তম? উত্তরে তিনি বললেন, কাউকে মিত্র ভাবলে আল্লাহর জন্যই ভাববে। আর কাউকে শত্রু ভাবলে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই ভাববে। আর নিজের জিহ্বাকে আল্লাহর যিকিরে ব্যস্ত রাখবে। মু’আয (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! সেটা কী। তিনি বললেন, অন্যের জন্য তাই পসন্দ করবে যা তোমার জন্য পসন্দ কর। এভাবে নিজের জন্য যা অপসন্দ করবে অন্যের জন্যও তা অপসন্দ করবে।
তাহক্বীক্ব : যঈফ। এর সনদে যুবান ইবনু ফায়েদ ও ইবনু লাহিয়া নামে দুইজন দুর্বল রাবী আছে।
১/২. অধ্যায়ঃ
একদিন এক ইহুদী তার সাথীকে বলল, এই নবীর কাছে আমাকে নিয়ে চল। তার সাথী বলল, তাকে নবী বল না। কারণ তোমার মুখে এই কথা শুনলে সে গর্বে আটখানা হয়ে যাবে। অতঃপর তারা উভয়ে রাসূল (ﷺ)-এর নিকট আসল এবং তাঁকে মূসা (আঃ)-এর নয়টি মু'জিযা সম্পর্কে প্রশ্ন করল। তিনি উত্তরে বললেন,(১) আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করবে না।(২) চুরি করবে না(৩) ব্যভিচার করবে না(৪) অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করবে না- যা আল্লাহ হারাম করেছেন(৫) কোন নিরপরাধ ব্যক্তিকে কোন ক্ষমতাবান হাকিমের কাছে নিয়ে যাবে না- যাতে তিনি তাকে প্রাণদণ্ডে দণ্ডিত করেন(৬) জাদু করবে না(৭) সুদ খাবে না(৮) কোন সতী-সাধ্বী নারীকে ব্যভিচারের অপবাদ দিবে না(৯) জিহাদকালে পলায়ন করবে না এবং বিশেষ করে তোমরা ইহুদীদের শনিবারের নিয়ম পালন করবে না।ছাফওয়ান (রাঃ) বলেন, তারা উভয়ে রাসূল (ﷺ)-এর পায়ে চুম্বন করল এবং বলল, আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আপনি সত্য নবী। রাসূল (ﷺ) বললেন, তাহলে আমার অনুসরণে তোমাদের অন্তরায় কোথায়? তারা বলল, দাউদ (আঃ) আল্লাহর নিকট দোয়া করেছিলেন যে, নবী যেন বরাবর তাঁর বংশের মধ্যেই হন। সুতরাং আমাদের আশঙ্কা হয় আমরা আপনার অনুসরণ করলে ইহুদীরা আমাদেরকে হত্যা করবে।”
তাহক্বীক্ব : যঈফ। উক্ত হাদীসের সনদে আব্দুল্লাহ ইবনু সালামা নামে দুর্বল রাবী আছে। ইমাম বুখারী (রহঃ), ইবনু কাছীর (রহঃ) তাকে যঈফ বলেছেন।
রাসূল (ﷺ) বলেছেন, তিনটি বিষয় ঈমানের বুনিয়াদের অন্তর্ভুক্ত।(১) যে ব্যক্তি ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ কালেমা পড়বে, তার প্রতি আক্রমণ করা হতে বিরত থাকবে; কোন গুনাহর দরুন তাকে কাফের মনে করবে না এবং কোন আমলের দরুন তাকে ইসলাম হতে খারিজ করে দিবে না।(২) জিহাদ- যেদিন হতে আল্লাহ আমাকে জিহাদের হুকুম দিয়েছেন সেদিন হতে এই উম্মতের শেষ যামানার লোকেরা দাজ্জালের সাথে জিহাদ করতে থাকবে, কোন অত্যাচারী শাসকের অত্যাচার বা কোন সুবিচারকের সুবিচার জিহাদকে বাতিল করতে পারবে না এবং(৩) তাকদীরে বিশ্বাস করা।
তাহক্বীক্ব : যঈফ। ইয়াযীদ ইবনু আবী নুশবাহ নামে একজন যঈফ রাবী আছে।
১/৩. অধ্যায়ঃ
রাসূল (ﷺ) বলেছেন, মানুষের সাথে শয়তানের একটি ছোঁয়া আছে এবং ফেরেশতারও একটি ছোঁয়া আছে। শয়তানের ছোঁয়া হল অমঙ্গলের ভীতি প্রদর্শন এবং সত্যকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা। পক্ষান্তরে ফেরেশতার ছোঁয়া হল মঙ্গলের সুসংবাদ প্রদান এবং সত্যের প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন। সুতরাং যে ব্যক্তি দ্বিতীয় অবস্থা গ্রহণ করবে সে যেন মনে করে এটা আল্লাহর পক্ষ হতে এবং আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি অপর অবস্থা অনুভব করবে, সে যেন শয়তান হতে আল্লাহর নিকট পরিত্রাণ চায়।
তাহক্বীক্ব : যঈফ।
এক ব্যক্তি তাঁকে জিজ্ঞেস করল, সালাতের মধ্যে আমার মনে সন্দেহ সৃষ্টি হয়। এটা আমার পক্ষে বড় কষ্টদায়ক। কাসেম (রহঃ) উত্তরে বললেন, তুমি তোমার সালাত পূর্ণ করতে থাক। কারণ ঐটা তোমার থেকে দূর হবে না যতক্ষণ না সালাত পূর্ণ কর এবং বল যে আমি সালাত পূর্ণ করিনি।
মুয়াত্ত্বা মালেক হা/৩৩২; মিশকাত হা/৭৮; বঙ্গানুবাদ মিশকাক হা/৭২। তাহক্বীক : যঈফ।
১/৪. অধ্যায়ঃ
ওমর ইবনুল খাত্ত্বাব (রাঃ) কে কোরআনের এই আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হল, ‘যখন তোমার প্রভু আদম সন্তানদের পিঠ হতে তাদের সমস্ত সন্তানকে বের করলেন’। ওমর (রাঃ) বলেন, আমি শুনেছি, রাসূল (ﷺ) কে এ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি উত্তরে বলেন, আল্লাহ্ তা’আলা আদম (আঃ) কে সৃষ্টি করলেন। অতঃপর আপন ডান হাত দ্বারা তাঁর পিঠে বুলালেন এবং সেখান থেকে একদল সন্তান বের করলেন। অতঃপর বললেন, এদেরকে আমি জান্নাতের জন্য সৃষ্টি করেছি, জান্নাতের কাজই তারা করবে।এক সাহাবী প্রশ্ন করলেন, হে আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ) তাহলে আমল কেমন হবে? রাসূল (ﷺ) বললেন, আল্লাহ তা’আলা যখন কোন বান্দাকে জান্নাতের জন্য সৃষ্টি করেন তখন তার দ্বারা জান্নাতের কাজই করিয়ে নেন। অবশেষে জান্নাতীদের কোন কাজ করে মৃত্যুবরণ করে। আর আল্লাহ তা’আলা এর দ্বারা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করান। অনুরূপভাবে আল্লাহ যখন কোন বান্দাকে জাহান্নামের জন্য সৃষ্টি করেন, তার দ্বারা জাহান্নামের কাজই করিয়ে নেন। অবশেষে সে জাহান্নামীদের কোন কাজ করেই মৃত্যু বরণ করে এবং আল্লাহ তাকে জাহান্নামে প্রবেশ করান।
তিরমিযী হা/৩০৭৫; আবু দাউদ হা/৪৭০৩; মালেক; মিশকাত হা/৯৫; বঙ্গানুবাদ মিশকাত হা/৮৯, ১/৭৬ পৃ:। তাহক্বীক্ব : যঈফ।
আবু খুযামা তার পিতা হতে বর্ণনা করেন, আমি একদিন রাসূল (ﷺ) কে জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ)! আমরা যে মন্ত্র পাঠ করে থাকি এবং কোন ঔষধি দ্বারা ঔষধ করে থাকি অথবা কোন উপায় দ্বারা আত্মরক্ষা করার চেষ্টা করি, তা কি তাকদীরের কিছু প্রতিরোধ করতে পারে? তিনি বললেন, তোমাদের এ সকল চেষ্টা তাকদীরের অন্তর্ভুক্ত।
আহমাদ হা/২০৬৫; যঈফ তিরমিযী হা/২১৪৮; যঈফ ইবনু মাজাহ হা/৩৪৩৭; মিশকাত হা/৯৭; বঙ্গানুবাদ মিশকাত হা/৯১, ১/৭৮ পৃ:। তাহক্বীক : যঈফ।