৫/৩৬. অধ্যায়ঃ

সহীহ মুসলিম হাদিস ১৩১৫ - সালাতুল উস্তা আয়াতের বর্ণনা

যারা বলে মধ্যবর্তী সলাত হচ্ছে ‘আসরের সলাত-তার দলীল

সালাতুল উস্তা আয়াত ও আসরের সালাত

সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ১৩১৫

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْحَنْظَلِيُّ، أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، حَدَّثَنَا الْفُضَيْلُ بْنُ مَرْزُوقٍ، عَنْ شَقِيقِ بْنِ عُقْبَةَ، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، قَالَ نَزَلَتْ هَذِهِ الآيَةُ حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَصَلاَةِ الْعَصْرِ . فَقَرَأْنَاهَا مَا شَاءَ اللَّهُ ثُمَّ نَسَخَهَا اللَّهُ فَنَزَلَتْ ﴾ حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَالصَّلاَةِ الْوُسْطَى﴿ فَقَالَ رَجُلٌ كَانَ جَالِسًا عِنْدَ شَقِيقٍ لَهُ هِيَ إِذًا صَلاَةُ الْعَصْرِ . فَقَالَ الْبَرَاءُ قَدْ أَخْبَرْتُكَ كَيْفَ نَزَلَتْ وَكَيْفَ نَسَخَهَا اللَّهُ . وَاللَّهُ أَعْلَمُ .قَالَ مُسْلِمٌ وَرَوَاهُ الأَشْجَعِيُّ عَنْ سُفْيَانَ الثَّوْرِيِّ، عَنِ الأَسْوَدِ بْنِ قَيْسٍ، عَنْ شَقِيقِ بْنِ عُقْبَةَ، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، قَالَ قَرَأْنَاهَا مَعَ النَّبِيِّ ﷺ زَمَانًا . بِمِثْلِ حَدِيثِ فُضَيْلِ بْنِ مَرْزُوقٍ .

বারা ইবনু ‘আযিব (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, এ আয়াতটি এভাবে অবতীর্ণ হয়েছিল- حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَصَلاَةِ الْعَصْرِ। যতদিন আল্লাহর ইচ্ছা ছিল ততদিন এভাবেই আমরা আয়াতটি তিলাওয়াত করতাম। অতঃপর মহান আল্লাহ আয়াতটি ‘মানসূখ’ বা বাতিল ঘোষণা করে এভাবে অবতীর্ণ করলেন, حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَصَلاَةِ الْعَصْرِ (পূর্বোক্ত আয়াতটির অর্থ দাঁড়ায় সালাত সমূহের ও আসরের সালাতের রক্ষণাবেক্ষণ করো। পরবর্তীকালে নাযিলকৃত আয়াতটির অর্থ দাঁড়ায় সালাতসমূহের রক্ষণাবেক্ষণ করো এবং حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَصَلاَةِ الْعَصْرِ বা মধ্যবর্তী কালীন সালাতের রক্ষণাবেক্ষণ করো।বর্ণনাকারী শ্বাক্বীক ইবনু ‘উকবাহ্ এর কাছে জনৈক ব্যক্তি বসেছিল। এ কথা শুনে তিনি বারা ইবনু ‘আযিবকে লক্ষ্য করে বললঃ তাহলে তো এ কথা দ্বারা আসরের সালাতই বুঝায়। বারা ইবনু ‘আযিব তাকে বললেনঃ কী পরিস্থিতিতে কেমন করে পূর্বোক্ত আয়াতটি অবতীর্ণ হয়েছিল এবং কী পরিস্থিতিতে কেমন করে তা ‘মানসূখ’ বা বাতিল হয়েছিল, তা আমি তোমাকে বলে দিয়েছি। আর আল্লাহ তা’আলাই এ সম্পর্কে সমধিক পরিজ্ঞাত। (ই.সে.১৩১৪)ইমাম মুসলিম বলেছেনঃ আশজা’ঈ (রহঃ) …… বারাইবনু ‘আযিব (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বেশ কিছু দিন যাবৎ আমরা ও নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ আয়াতটি (পূর্বোক্তরূপে) পড়তাম। ফুযায়ল ইবনু মারযূক বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ। (ই.ফা.১৩০২, ই.সে.১৩১৪ (ক))

সহীহ মুসলিম হাদিস ১৩১৫-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে বারা ইবন আযিব (রাঃ) একটি আয়াতের পাঠ সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আগে আয়াতটি এভাবে নাযিল হয়েছিল—সালাতসমূহের এবং আসরের সালাতের রক্ষণাবেক্ষণ করো। যতদিন আল্লাহ চেয়েছেন, তারা এভাবেই তা পড়েছেন। পরে আল্লাহ তা মানসূখ করে নাযিল করেন—সালাতসমূহের এবং সালাতুল উস্তার রক্ষণাবেক্ষণ করো। একজন ব্যক্তি বললেন, তাহলে এতে আসরের সালাতই বোঝায়। বারা (রাঃ) জবাবে বলেন, তিনি শুধু কীভাবে নাযিল হয়েছিল এবং কীভাবে মানসূখ হয়েছিল তা জানিয়েছেন; আল্লাহই এ বিষয়ে বেশি জানেন। এই হাদিসের শিক্ষা হলো, সালাতের আয়াত নিয়ে সাহাবীগণ খুব সতর্ক ছিলেন। একই সঙ্গে কোনো বিষয়ে নিশ্চিত সীমা ছাড়িয়ে বলা থেকে সাবধান থাকাও এখানে দেখা যায়। এতে জ্ঞানের ক্ষেত্রে নম্রতা ও সাবধানতার শিক্ষা পাওয়া যায়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • আয়াতের পাঠ ও মানসূখ হওয়ার বিষয়টি সাহাবী সতর্কতার সাথে বলেছেন।
  • সালাতসমূহের হেফাজত মূল শিক্ষা হিসেবে এসেছে।
  • বারা (রাঃ) আল্লাহর জ্ঞানের ওপর বিষয়টি ছেড়ে দিয়েছেন।
  • আসরের সালাতের গুরুত্ব আলোচনায় এসেছে, তবে বাড়তি দাবি করা হয়নি।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন