৫/৩৭. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ১৩২০ - ফজর-আসর ও রবকে দেখার শিক্ষা
ফজর ও ‘আসর সলাতের ফযীলত এবং এ দু’টির প্রতি যত্নবান হওয়া
ফজর-আসর সালাত ও রবকে দেখার আশা
সহীহ মুসলিম : ১৩২০
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ১৩২০
وَحَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا مَرْوَانُ بْنُ مُعَاوِيَةَ الْفَزَارِيُّ، أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي خَالِدٍ، حَدَّثَنَا قَيْسُ بْنُ أَبِي حَازِمٍ، قَالَ سَمِعْتُ جَرِيرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، وَهُوَ يَقُولُ كُنَّا جُلُوسًا عِنْدَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ إِذْ نَظَرَ إِلَى الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ فَقَالَ " أَمَا إِنَّكُمْ سَتَرَوْنَ رَبَّكُمْ كَمَا تَرَوْنَ هَذَا الْقَمَرَ لاَ تُضَامُّونَ فِي رُؤْيَتِهِ فَإِنِ اسْتَطَعْتُمْ أَنْ لاَ تُغْلَبُوا عَلَى صَلاَةٍ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ غُرُوبِهَا " . يَعْنِي الْعَصْرَ وَالْفَجْرَ ثُمَّ قَرَأَ جَرِيرٌ ﴾ وَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ غُرُوبِهَا﴿.
জারীর ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদিন আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর কাছে বসেছিলাম। এক সময় তিনি পূর্ণিমার চাঁদের দিকে তাকিয়ে বললেনঃ অচিরেই (জান্নাতে) তো তোমরা তোমাদের প্রভু আল্লাহ তা’আলাকে এমন স্পষ্টভাবে দেখতে পারবে যেন এ চাঁদকে অবাধে দেখতে পাচ্ছ। (সুতরাং যদি এরূপ চাও) তাহলে সাধ্যমত সূর্যোদয়ের পূর্বের সালাত এবং সূর্যাস্তের পূর্বের সালাত উত্তম সময়ে আদায়ের মাধ্যমে আয়ত্তে রাখ। এ কথা দ্বারা তিনি ফজর ও আসরের সালাত বুঝালেন।অতঃপর জারীর ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) এ আয়াতটি পাঠ করলেন, وَسَبِّحْ بِحَمْدِ رَبِّكَ قَبْلَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَقَبْلَ غُرُوبِهَا “তুমি তোমার প্রভুর পবিত্রতা বর্ণনা ও প্রশংসা কর সূর্যোদয়ের পূর্বে এবং সূর্যাস্তের পূর্বে - (সূরা ত্ব-হা ২০:১৩০) ”।
ই.ফা.১৩০৭, ই.সে.১৩১৯
সহীহ মুসলিম হাদিস ১৩২০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) পূর্ণিমার চাঁদের দিকে তাকিয়ে একটি বড় বিষয় বলেছেন। তিনি জানান, জান্নাতে তোমরা তোমাদের রবকে এমন স্পষ্টভাবে দেখতে পাবে, যেমন এই চাঁদকে দেখতে পাও; দেখায় কোনো ভিড় বা কষ্ট হবে না। এরপর তিনি বলেন, যদি পারো, সূর্যোদয়ের আগের সালাত এবং সূর্যাস্তের আগের সালাতের ব্যাপারে যেন পরাজিত না হও। বর্ণনায় ব্যাখ্যা এসেছে—এতে ফজর ও আসরের সালাত বোঝানো হয়েছে। তারপর জারীর (রাঃ) সূরা ত্ব-হা ২০:১৩০ আয়াত পাঠ করেন। এই হাদিসে রবকে দেখা, ফজর সালাত, আসরের সালাত এবং আল্লাহর প্রশংসা—সবই একসাথে এসেছে। মূল শিক্ষা হলো, বড় আশার সাথে দৈনন্দিন সালাতের যত্ন জুড়ে আছে। তাই এই হাদিস আশা, ভয় এবং দৈনন্দিন নামাজের যত্নকে এক জায়গায় এনে দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- জান্নাতে রবকে স্পষ্টভাবে দেখার কথা হাদিসে এসেছে।
- ফজর ও আসরের সালাতের প্রতি বিশেষ যত্নের নির্দেশ এসেছে।
- পূর্ণিমার চাঁদের উদাহরণ দিয়ে বোঝানো হয়েছে।
- সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের আগের সালাতকে হারিয়ে না ফেলার শিক্ষা পাওয়া যায়।
