৬/২৬. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ১৬৭৪ - তাহাজ্জুদ ও আলে ইমরানের আয়াত
রাত্রিকালীণ সলাতে দু‘আ ও ক্বিয়াম
তাহাজ্জুদে নবীজির রাতের আমল
সহীহ মুসলিম : ১৬৭৪
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ১৬৭৪
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنْ مَخْرَمَةَ بْنِ سُلَيْمَانَ، عَنْ كُرَيْبٍ، مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ ابْنَ عَبَّاسٍ، أَخْبَرَهُ أَنَّهُ، بَاتَ لَيْلَةً عِنْدَ مَيْمُونَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ - وَهِيَ خَالَتُهُ -قَالَ فَاضْطَجَعْتُ فِي عَرْضِ الْوِسَادَةِ وَاضْطَجَعَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ وَأَهْلُهُ فِي طُولِهَا فَنَامَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ حَتَّى انْتَصَفَ اللَّيْلُ أَوْ قَبْلَهُ بِقَلِيلٍ أَوْ بَعْدَهُ بِقَلِيلٍ اسْتَيْقَظَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فَجَعَلَ يَمْسَحُ النَّوْمَ عَنْ وَجْهِهِ بِيَدِهِ ثُمَّ قَرَأَ الْعَشْرَ الآيَاتِ الْخَوَاتِمَ مِنْ سُورَةِ آلِ عِمْرَانَ ثُمَّ قَامَ إِلَى شَنٍّ مُعَلَّقَةٍ فَتَوَضَّأَ مِنْهَا فَأَحْسَنَ وُضُوءَهُ ثُمَّ قَامَ فَصَلَّى . قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ فَقُمْتُ فَصَنَعْتُ مِثْلَ مَا صَنَعَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ ثُمَّ ذَهَبْتُ فَقُمْتُ إِلَى جَنْبِهِ فَوَضَعَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يَدَهُ الْيُمْنَى عَلَى رَأْسِي وَأَخَذَ بِأُذُنِي الْيُمْنَى يَفْتِلُهَا فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ أَوْتَرَ ثُمَّ اضْطَجَعَ حَتَّى جَاءَ الْمُؤَذِّنُ فَقَامَ فَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ خَفِيفَتَيْنِ ثُمَّ خَرَجَ فَصَلَّى الصُّبْحَ .
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি একদিন উম্মুল মুমিনীন মায়মুনাহ্ (রাঃ) এর ঘরে রাত কাটালেন। মায়মূনাহ্ (রাঃ) তাঁর খালা। তিনি বলেছেন, আমি বিছানাতে আড়াআড়িভাবে শুলাম। আর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর স্ত্রী এর লম্বা দিকে শুলেন। এরপরে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঘুমিয়ে পড়লেন। রাতের অর্ধেকের কিছু পূর্বে অথবা অর্ধেকের কিছু পর তিনি জেগে উঠলেন এবং মুখমন্ডলের উপর হাত রগড়িয়ে ঘুমের আলস্য দূর করতে থাকলেন। এরপর সূরা আ-লি ‘ইমরান এর শেষ দশটি আয়াত পাঠ করলেন এবং (ঘরে) ঝুলানো একটি মশকের পাশে গিয়ে উত্তমরূপে ওজু করলেন। অতঃপর তিনি উঠে সালাত আদায় করলেন।‘আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) বর্ণনা করেছেন : তখন আমিও উঠে দাঁড়ালাম এবং রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যা যা করেছিলেন আমিও তাই করলাম। তারপর তাঁর পাশে গিয়ে দাঁড়ালাম এবং তাঁর ডান হাত আমার মাথার উপর রাখলেন আর আমার ডান কান ধরে মোচড়াতে থাকলেন।[৩৩] তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করলেন। তারপর আরো দু’ রাকআত সালাত আদায় করলেন। পরে আরো দু’ রাক‘আত, এরপর আরো দু’ রাক‘আত এবং পরে আরো দু’ রাক‘আত, এরপর আরো দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করলেন। আর সর্বশেষে বিত্র পড়লেন।[৩৪]তারপর শুয়ে পড়লেন। অবশেষে মুয়াজ্জিন এসে সালাত সম্পর্কে অবহিত করলে তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) উঠে সংক্ষেপে দু’ রাক‘আত সালাত আদায় করলেন এবং তারপর বাড়ী থেকে (মাসজিদে) গিয়ে ফাজ্রের সালাত আদায় করতেন।
[৩৩] নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইবনু 'আব্বাস (রাঃ)-এর কান মলেছিলেন তার তন্দ্রা দূর করার জন্য কিংবা মামুর বা মুক্তাদী হিসেবে ডান পাশে দাঁড় করানোর জন্য। (মুসলিম শরহে নাবাবী- ১ম ২৬০ পৃষ্ঠা)[৩৪] এ হাদীসের বর্ণনানুযায়ী রাতের সালাত বিত্রসহ তের রাক‘আত আদায় করা যায়। পাঁচ সালামে দশ রাক‘আত, অতঃপর বিতরের নিয়্যাত করে দু’ রাক‘আত আদায় করে সালাম ফিরাবে। আর এগার রাক‘আত আদায় করলে পাঁচ সালামে দশ রাক‘আত পড়ে এক রাক‘আত বিত্র অথবা চার সালামে আট রাক‘আত আর তিন রাক‘আত বিত্র এক সালামেও আদায় করতে পারবে। এ সকল নিয়মে রাতের সালাত এ অধ্যায়ের সবগুলো হাদীসের উপর ‘আমাল হয়ে যাবে।ই.ফা. ১৬৫৯, ই.সে. ১৬৬৬
সহীহ মুসলিম হাদিস ১৬৭৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী صلى الله عليه وسلم-এর রাতের আমলের সুন্দর ধারাবাহিকতা এসেছে। ইবনু আব্বাস রাঃ মাইমূনা রাঃ-এর ঘরে রাত কাটালেন। নবী صلى الله عليه وسلم রাতের অর্ধেকের কাছাকাছি জেগে মুখ থেকে ঘুমের আলস্য দূর করলেন। এরপর সূরা আলে ইমরানের শেষ দশ আয়াত পড়লেন। তারপর ঝুলানো মশক থেকে ভালোভাবে ওজু করে সালাতে দাঁড়ালেন। ইবনু আব্বাস রাঃও তাঁর মতো করলেন এবং পাশে দাঁড়ালেন। নবী صلى الله عليه وسلم তাঁকে মাথায় হাত রেখে, কান ধরে নিজের পাশে রাখলেন। এরপর তিনি দুই রাকাত করে কয়েকবার সালাত পড়লেন, শেষে বিতর পড়লেন। মুয়াজ্জিন আসার পর সংক্ষেপে দুই রাকাত পড়ে ফজরের সালাতে গেলেন।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রাতের সালাতের আগে কুরআন তিলাওয়াত করা এই বর্ণনায় এসেছে।
- নবী صلى الله عليه وسلم রাতের সালাত দুই রাকাত করে আদায় করেছেন।
- তাহাজ্জুদের শেষে বিতর আদায়ের কথা বর্ণিত হয়েছে।
- ফজরের আগে সংক্ষিপ্ত দুই রাকাত সালাতের আমল দেখা যায়।
