১/৪১. অধ্যায়ঃ

সহীহ মুসলিম হাদিস ১৭৮ - অন্তর বিচার নয় কালিমার সম্মান

যে কাফির ব্যক্তি বলল, তাকে হত্যা করা হারাম

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলার পর হত্যা: অন্তর চিরে দেখা যায় না

সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ১৭৮

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو خَالِدٍ الأَحْمَرُ، ح وَحَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ أَبِي مُعَاوِيَةَ، كِلاَهُمَا عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي ظِبْيَانَ، عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ، وَهَذَا، حَدِيثُ ابْنِ أَبِي شَيْبَةَ قَالَ بَعَثَنَا رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فِي سَرِيَّةٍ فَصَبَّحْنَا الْحُرَقَاتِ مِنْ جُهَيْنَةَ فَأَدْرَكْتُ رَجُلاً فَقَالَ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ . فَطَعَنْتُهُ فَوَقَعَ فِي نَفْسِي مِنْ ذَلِكَ فَذَكَرْتُهُ لِلنَّبِيِّ ﷺ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " أَقَالَ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَقَتَلْتَهُ " . قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّمَا قَالَهَا خَوْفًا مِنَ السِّلاَحِ . قَالَ " أَفَلاَ شَقَقْتَ عَنْ قَلْبِهِ حَتَّى تَعْلَمَ أَقَالَهَا أَمْ لاَ " . فَمَازَالَ يُكَرِّرُهَا عَلَىَّ حَتَّى تَمَنَّيْتُ أَنِّي أَسْلَمْتُ يَوْمَئِذٍ .قَالَ فَقَالَ سَعْدٌ وَأَنَا وَاللَّهِ لاَ أَقْتُلُ مُسْلِمًا حَتَّى يَقْتُلَهُ ذُو الْبُطَيْنِ . يَعْنِي أُسَامَةَ قَالَ قَالَ رَجُلٌ أَلَمْ يَقُلِ اللَّهُ ﴾ وَقَاتِلُوهُمْ حَتَّى لاَ تَكُونَ فِتْنَةٌ وَيَكُونَ الدِّينُ كُلُّهُ لِلَّهِ﴿ فَقَالَ سَعْدٌ قَدْ قَاتَلْنَا حَتَّى لاَ تَكُونَ فِتْنَةٌ وَأَنْتَ وَأَصْحَابُكَ تُرِيدُونَ أَنْ تُقَاتِلُوا حَتَّى تَكُونَ فِتْنَةٌ .

উসামাহ্ ইবনু যায়দ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে এক জিহাদ অভিযানে পাঠালে আমরা প্রত্যুষে ‘জুহাইনার’ (একটি শাখা গোত্র) ‘আলহুরাকায়’ গিয়ে পৌঁছলাম। এ সময়ে আমি এক ব্যক্তির পশ্চাদ্ধাবন করে তাকে ধরে ফেলি। অবস্থা বেগতিক দেখে সে বলল, ‘লা-ইলা-হা ইল্লাল-হ’ কিন্তু তাকে বর্শা দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে ফেললাম। কালিমা পড়ার পর আমি তাকে হত্যা করেছি বিধায়, আমার মন সংশয়ের উদ্রেক হলো। তাই ঘটনাটি নবী (ﷺ)-এর নিকট উল্লেখ করলাম।তিনি বললেন, তুমি কি তাকে ‘লা-ইলা-হা ইল্লাল-হ’ বলার পর হত্যা করেছো। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! সে অস্ত্রের ভয়ে জান বাঁচানোর জন্য এরূপ বলেছে। তিনি রাগান্বিত হয়ে বললেন, তুমি তার অন্তর ছিঁড়ে দেখেছো, যাতে তুমি জানতে পারলে যে, সে এ কথাটি ভয়ে বলেছিল? (রাবী বলেন), তিনি এ কথাটি বার বার আবৃত্তি করতে থাকলেন। আর আমি মনে মনে অনুশোচনা করতে থাকলাম, ‘হায়! যদি আমি আজই ইসলাম গ্রহণ করতাম!বর্ণনাকারী বলেন, এ সময় সা’দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস (রাঃ) বলেন, আল্লাহর কসম! আমি কখনো কোন মুসলিমকে হত্যা করব না, যেভাবে এ ভুঁড়ি ওয়ালা (উসামাহ) মুসলিমকে হত্যা করেছে। রাবী বলেন, তখন জনৈক ব্যক্তি বলল, আল্লাহ তা’য়ালা কি এ কথা বলেননি যে, “তোমরা তাদের (কাফিরদের) বিরুদ্ধে জিহাদ করো, যে পর্যন্ত ফিৎনা দূরীভূত না হয়, আর আল্লাহর দ্বীন পরিপূর্ণ না হয়ে যায়? এর জবাবে সা’দ (রাঃ) বললেন, আমরা জিহাদ করি, যাতে ফিৎনা না থাকে, কিন্তু তুমি আর তোমার সঙ্গীগণ এ উদ্দেশ্যে যুদ্ধ কর, যাতে ফিৎনা সৃষ্টি হয়।

ই.ফা. ১৭৯; ই.সে. ১৮৫

সহীহ মুসলিম হাদিস ১৭৮-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে উসামা ইবনু যায়দ (রাঃ)-এর ঘটনা এসেছে। এক অভিযানে তিনি একজনকে ধরেন। লোকটি ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বললেও তিনি তাকে হত্যা করেন। পরে বিষয়টি নবী (صلى الله عليه وسلم)-কে জানালে তিনি জিজ্ঞেস করেন, তুমি কি তাকে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলার পর হত্যা করেছ? উসামা (রাঃ) বলেন, সে অস্ত্রের ভয়ে বলেছিল। তখন নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেন, তুমি কি তার অন্তর চিরে দেখেছ? এই কথা বারবার বলা হয়। এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, মানুষের অন্তরের উদ্দেশ্য নিয়ে নিশ্চিত দাবি করা মানুষের কাজ নয়। কালিমার সম্মান রক্ষা করা জরুরি। যুদ্ধের পরিস্থিতিতেও ঈমানের ঘোষণা অবহেলা করা যায় না।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • কেউ কালিমা বললে তার কথাকে গুরুত্ব দিতে হবে।
  • মানুষের অন্তরের উদ্দেশ্য নিয়ে চূড়ান্ত বিচার করা ঠিক নয়।
  • যুদ্ধের উত্তেজনাতেও প্রাণের মর্যাদা রক্ষা জরুরি।
  • কালিমার সম্মান অবহেলা করলে কঠিন জবাবদিহির আশঙ্কা থাকে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন