১২/৯. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ২০৩০ - জীবিতের কান্না ও মৃতের সতর্কতা
মাইয়্যিতের পরিজনের কান্নাকাটির দরুন মাইয়্যিতকে ক্ববরে শাস্তি দেয়া হয়
জীবিতের কান্না নিয়ে নববী সতর্কতা
সহীহ মুসলিম : ২০৩০
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ২০৩০
وَحَدَّثَنِي عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ السَّعْدِيُّ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي، صَالِحٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ لَمَّا طُعِنَ عُمَرُ أُغْمِيَ عَلَيْهِ فَصِيحَ عَلَيْهِ فَلَمَّا أَفَاقَ قَالَ أَمَا عَلِمْتُمْ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ " إِنَّ الْمَيِّتَ لَيُعَذَّبُ بِبُكَاءِ الْحَىِّ " .
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
যখন ‘উমর (রাঃ) (আততায়ীর আঘাতে) আহত হন এবং সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলেন। লোকেরা চিৎকার করে কান্নাকাটি শুরু করল। যখন তাঁর জ্ঞান ফিরে এল, তিনি বললেন, তোমরা কি জান না রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মৃত ব্যক্তিকে জীবিতদের কান্নার দরুন শাস্তি দেয়া হয়?
ই.ফা. ২০১৩, ই.সে. ২০২০
সহীহ মুসলিম হাদিস ২০৩০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে উমর (রাঃ)-এর আহত হওয়ার ঘটনা এসেছে। তিনি আঘাতের পর সংজ্ঞা হারান, আর লোকেরা চিৎকার করে কান্নাকাটি শুরু করে। যখন তাঁর জ্ঞান ফিরে আসে, তিনি তাদের রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর হাদিস স্মরণ করিয়ে দেন যে, মৃত ব্যক্তিকে জীবিতদের কান্নার দরুন শাস্তি দেওয়া হয়। এখানে বিশেষভাবে ‘চিৎকার করে কান্না’ বা শোককে উচ্চ আওয়াজে প্রকাশ করার বিষয়টি দেখা যায়। হাদিসটি শেখায়, মৃত্যু বা বড় বিপদের মুহূর্তে আবেগকে এমনভাবে প্রকাশ করা উচিত নয়, যা নবীজি (صلى الله عليه وسلم)-এর সতর্কতার আওতায় পড়ে। শোকের আদব, মৃতের অধিকার এবং পরিবারের সংযম—সবই এখানে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বিপদের সময় চিৎকার করে কান্নাকাটি থেকে সতর্ক থাকা দরকার।
- অসুস্থ বা আহত অবস্থাতেও উমর (রাঃ) সুন্নাহ স্মরণ করিয়েছেন।
- মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিবারের আচরণ গুরুত্বপূর্ণ।
- শোক প্রকাশে ইসলামী সীমা মানা উচিত।
