১২/৯. অধ্যায়ঃ

সহীহ মুসলিম হাদিস ২০৩৫ - কিছু কান্নাকাটি নিয়ে উমর (রাঃ)-এর বর্ণনা

মাইয়্যিতের পরিজনের কান্নাকাটির দরুন মাইয়্যিতকে ক্ববরে শাস্তি দেয়া হয়

কিছু ধরনের কান্নাকাটি নিয়ে উমর (রাঃ)-এর সতর্কতা

সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ২০৩৫

فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ كُنَّا مَعَ أَمِيرِ الْمُؤْمِنِينَ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ حَتَّى إِذَا كُنَّا بِالْبَيْدَاءِ إِذَا هُوَ بِرَجُلٍ نَازِلٍ فِي شَجَرَةٍ فَقَالَ لِيَ اذْهَبْ فَاعْلَمْ لِي مَنْ ذَاكَ الرَّجُلُ . فَذَهَبْتُ فَإِذَا هُوَ صُهَيْبٌ. فَرَجَعْتُ إِلَيْهِ فَقُلْتُ إِنَّكَ أَمَرْتَنِي أَنْ أَعْلَمَ لَكَ مَنْ ذَاكَ وَإِنَّهُ صُهَيْبٌ . قَالَ مُرْهُ فَلْيَلْحَقْ بِنَا. فَقُلْتُ إِنَّ مَعَهُ أَهْلَهُ. قَالَ وَإِنْ كَانَ مَعَهُ أَهْلُهُ - وَرُبَّمَا قَالَ أَيُّوبُ مُرْهُ فَلْيَلْحَقْ بِنَا - فَلَمَّا قَدِمْنَا لَمْ يَلْبَثْ أَمِيرُ الْمُؤْمِنِينَ أَنْ أُصِيبَ فَجَاءَ صُهَيْبٌ يَقُولُ وَاأَخَاهْ وَاصَاحِبَاهْ.فَقَالَ عُمَرُ أَلَمْ تَعْلَمْ أَوْ لَمْ تَسْمَعْ - قَالَ أَيُّوبُ أَوْ قَالَ أَوَلَمْ تَعْلَمْ أَوَلَمْ تَسْمَعْ - أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ " إِنَّ الْمَيِّتَ لَيُعَذَّبُ بِبَعْضِ بُكَاءِ أَهْلِهِ " . قَالَ فَأَمَّا عَبْدُ اللَّهِ فَأَرْسَلَهَا مُرْسَلَةً وَأَمَّا عُمَرُ فَقَالَ بِبَعْضٍ

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

আমরা একবার আমীরুল মু’মিনীন ‘উমর ইবনুল খাত্ত্বাব-এর সাথে ছিলাম। যখন আমরা ‘বায়দা’ নামক স্থানে পৌছলাম, হঠাৎ জনৈক ব্যক্তিকে একটা গাছের ছায়ায় অবস্থানরত দেখলাম। ‘উমর (রাঃ) আমাকে বললেন, এগিয়ে যাও তো! গিয়ে দেখ আমাকে জানাও ঐ ব্যক্তি কে? আমি গিয়ে দেখলাম তিনি সুহায়ব (রাঃ)। আমি ফিরে এসে বললাম, আপনি আমাকে আদেশ করেছেন, ঐ ব্যক্তির পরিচয় জেনে আপনাকে জানাতে। তিনি হচ্ছেন, সুহায়ব (রাঃ)। পুনরায় তিনি আমাকে বললেন, তাঁকে আমাদের সাথে মিলিত হতে বল। আমি বললাম, তাঁর সাথে তাঁর পরিবারবর্গ রয়েছে। তিনি বললেন, তাঁর সাথে পরিবারবর্গ থাকলে তাতে কি আছে। কখনও আইয়ূব বলেছেন- “তাঁকে বল- সে যেন আমাদের নিকট আসে।”এরপর যখন আমরা মাদীনায় পৌছলাম, অল্প সময়ের মধ্যেই আমীরুল মু’মিনীন ‘উমর (রাঃ) আহত হলেন। সুহায়ব (রাঃ) তাঁকে দেখতে এসে দীর্ঘ-নিঃশ্বাস ছেড়ে বললেন, আহ! ভাই ‘উমর! আহ! সঙ্গী ‘উমর! ‘উমর (রাঃ) শুনে বললেন, সুহায়ব! তুমি কি অবহিত নও, অথবা শোননি- (আইয়ুব) বলেছেনঃ অথবা বলেছেন, “তুমি কি জান না, তুমি কি শোন না।” রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ মৃত ব্যক্তিকে তাঁর পরিবার-পরিজনের কান্নার দরুন শাস্তি দেয়া হয়। ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, তিনি এ কথাটা সাধারণভাবে বলেছিলেন। কিন্তু ‘উমর (রাঃ) “কোন কোন লোকের” শব্দ উল্লেখ করেছেন।

ই.ফা. ২০১৭, ই.সে. ২০২৪

সহীহ মুসলিম হাদিস ২০৩৫-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে উমর (রাঃ) ও সুহাইব (রাঃ)-এর একটি ঘটনা এসেছে। আগে বাইদা নামক স্থানে সুহাইব (রাঃ)-এর সঙ্গে সাক্ষাতের কথা বলা হয়েছে। পরে মদীনায় উমর (রাঃ) আহত হলে সুহাইব (রাঃ) তাঁকে দেখে আক্ষেপ করে বলেন, ‘আহ! ভাই উমর! আহ! সঙ্গী উমর!’ তখন উমর (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর হাদিস স্মরণ করিয়ে বলেন, মৃত ব্যক্তিকে তার পরিবার-পরিজনের কিছু কান্নাকাটির দরুন শাস্তি দেওয়া হয়। বর্ণনায় উল্লেখ আছে, আবদুল্লাহ (রাঃ) কথাটি সাধারণভাবে বলেছিলেন, আর উমর (রাঃ) ‘কোন কোন’ বা ‘কিছু’ কান্নার কথা বলেছেন। তাই এই হাদিসে বিলাপধর্মী কান্না থেকে সতর্কতার বিষয়টি বেশি স্পষ্ট।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • সব কান্না এক রকম নয়; বিলাপধর্মী কান্না থেকে সতর্কতা এসেছে।
  • শোকের সময় আক্ষেপপূর্ণ ভাষা নিয়ন্ত্রণে রাখা উচিত।
  • উমর (রাঃ) নবীজি (صلى الله عليه وسلم)-এর বাণী দিয়ে সতর্ক করেছেন।
  • বর্ণনার শব্দভেদ বুঝে শিক্ষা গ্রহণ করা দরকার।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন