১২/৯. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ২০৩৮ - পরিবারের কিছু কান্নায় শাস্তির সতর্কতা
মাইয়্যিতের পরিজনের কান্নাকাটির দরুন মাইয়্যিতকে ক্ববরে শাস্তি দেয়া হয়
পরিবারের কিছু কান্নাকাটি নিয়ে সতর্কতা
সহীহ মুসলিম : ২০৩৮
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ২০৩৮
فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ قَدْ كَانَ عُمَرُ يَقُولُ بَعْضَ ذَلِكَ ثُمَّ حَدَّثَ فَقَالَ صَدَرْتُ مَعَ عُمَرَ مِنْ مَكَّةَ حَتَّى إِذَا كُنَّا بِالْبَيْدَاءِ إِذَا هُوَ بِرَكْبٍ تَحْتَ ظِلِّ شَجَرَةٍ فَقَالَ اذْهَبْ فَانْظُرْ مَنْ هَؤُلاَءِ الرَّكْبُ فَنَظَرْتُ فَإِذَا هُوَ صُهَيْبٌ - قَالَ - فَأَخْبَرْتُهُ فَقَالَ ادْعُهُ لِي . قَالَ فَرَجَعْتُ إِلَى صُهَيْبٍ فَقُلْتُ ارْتَحِلْ فَالْحَقْ أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ . فَلَمَّا أَنْ أُصِيبَ عُمَرُ دَخَلَ صُهَيْبٌ يَبْكِي يَقُولُ وَاأَخَاهْ وَاصَاحِبَاهْ . فَقَالَ عُمَرُ يَا صُهَيْبُ أَتَبْكِي عَلَىَّ وَقَدْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " إِنَّ الْمَيِّتَ يُعَذَّبُ بِبَعْضِ بُكَاءِ أَهْلِهِ عَلَيْهِ
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
‘উমর (রাঃ) তো কোন কোন লোকের কথা বলতেন। অতঃপর তিনি হাদীস বর্ণনা করলেন এবং বললেন, আমি একবার ‘উমরের সাথে মাক্কাহ্ থেকে রওয়ানা হয়ে “বায়দা” নামক সমতল ভূমিতে পৌঁছলাম। দেখলাম, একটা গাছের ছায়ায় একদল আরোহী। তাদেরকে দেখে তিনি [‘উমর (রাঃ)] বললেন, গিয়ে দেখ তো, এর কারা? আমি গিয়ে দেখলাম তথায় সুহায়ব (রাঃ)। বর্ণনাকারী বলেন, আমি এসে তাঁকে (‘উমর) খবর দিলাম। তিনি বললেন, তাকে আমার কাছে ডেকে আন। আদেশ পেয়ে আমি সুহায়ব (রাঃ) এর নিকট ফিরে এসে বললাম চলুন, আমীরুল মু’মিনীনের সাথে সাক্ষাৎ করুন।এরপর যখন ‘উমর (রাঃ) আহত হন, সুহায়ব (রাঃ) তাঁকে দেখতে এসে কেঁদে কেঁদে বলছিলেন, আহ! ভাই ‘উমর! আহ! সঙ্গী ‘উমর! ‘উমর (রাঃ) বললেন, হে সুহায়ব! আমার জন্য কাঁদছ? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, মৃত ব্যক্তিকে তার পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনের কান্নাকাটির দরুন আযাব দেয়া হয়।
ই.ফা. ২০১৮, ই.সে. ২০২৫
সহীহ মুসলিম হাদিস ২০৩৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, উমর (রাঃ) কোন কোন লোকের বা কিছু ধরনের কান্নাকাটির কথা বলতেন। এরপর তিনি সুহাইব (রাঃ)-এর ঘটনা বর্ণনা করেন। উমর (রাঃ) আহত হলে সুহাইব (রাঃ) এসে কেঁদে বলছিলেন, ‘আহ! ভাই উমর! আহ! সঙ্গী উমর!’ তখন উমর (রাঃ) বলেন, আমার জন্য কাঁদছ? রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, মৃত ব্যক্তিকে তার পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনের কিছু কান্নাকাটির দরুন আজাব দেওয়া হয়। এই বর্ণনায় ‘কিছু কান্না’ শব্দটি গুরুত্বপূর্ণ। তাই বিষয়টি সাধারণ দুঃখ নয়; বরং বিলাপ, আক্ষেপ ও শোকের সীমা ছাড়ানো প্রকাশের দিকে ইঙ্গিত করে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বিলাপধর্মী ও আক্ষেপপূর্ণ কান্না থেকে সতর্ক থাকা দরকার।
- বর্ণনায় ‘কিছু কান্না’ শব্দটি অর্থ বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
- শোকের ভাষা ও আওয়াজ নিয়ন্ত্রণে রাখা উচিত।
- সাহাবীরা ঘটনার মধ্যেও হাদিসের শিক্ষা স্মরণ করতেন।
