১৩/৪৫. অধ্যায়ঃ

সহীহ মুসলিম হাদিস ২৩২৩ - দান বণ্টনের প্রজ্ঞা

যাকে না দিলে ঈমান থেকে বিচ্যুত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে তাকে দান করা প্রসঙ্গে

দান বণ্টনে নবীজি (صلى الله عليه وسلم)-এর গভীর প্রজ্ঞা

সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ২৩২৩

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ الْحُلْوَانِيُّ، وَعَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ، - وَهُوَ ابْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سَعْدٍ - حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ صَالِحٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَخْبَرَنِي عَامِرُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ أَبِيهِ، سَعْدٍ أَنَّهُ أَعْطَى رَسُولُ اللَّهِ ﷺ رَهْطًا وَأَنَا جَالِسٌ فِيهِمْ قَالَ فَتَرَكَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ مِنْهُمْ رَجُلاً لَمْ يُعْطِهِ وَهُوَ أَعْجَبُهُمْ إِلَىَّ فَقُمْتُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَسَارَرْتُهُ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا لَكَ عَنْ فُلاَنٍ وَاللَّهِ إِنِّي لأَرَاهُ مُؤْمِنًا . قَالَ " أَوْ مُسْلِمًا " . فَسَكَتُّ قَلِيلاً ثُمَّ غَلَبَنِي مَا أَعْلَمُ مِنْهُ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا لَكَ عَنْ فُلاَنٍ فَوَاللَّهِ إِنِّي لأَرَاهُ مُؤْمِنًا . قَالَ " أَوْ مُسْلِمًا " . فَسَكَتُّ قَلِيلاً ثُمَّ غَلَبَنِي مَا أَعْلَمُ مِنْهُ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا لَكَ عَنْ فُلاَنٍ فَوَاللَّهِ إِنِّي لأَرَاهُ مُؤْمِنًا . قَالَ «أَوْ مُسْلِمًا» . قَالَ " إِنِّي لأُعْطِي الرَّجُلَ . وَغَيْرُهُ أَحَبُّ إِلَىَّ مِنْهُ خَشْيَةَ أَنْ يُكَبَّ فِي النَّارِ عَلَى وَجْهِهِ " . وَفِي حَدِيثِ الْحُلْوَانِيِّ تَكْرَارُ الْقَوْلِ مَرَّتَيْنِ .

সা’দ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার উপস্থিতিতে কতিপয় লোককে কিছু দান করলেন। আমিও তখন তাদের মধ্যে ছিলাম। তিনি এক ব্যক্তিকে দেয়া থেকে বিরত থাকলেন। সে আমার দৃষ্টিতে তাদের মধ্যে সবচেয়ে উত্তম লোক ছিল। সুতরাং আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে বললাম, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আপনি অমুক ব্যক্তিকে দেননি কেন? আল্লাহ্‌র শপথ! আমি জানি সে মু’মিন লোক। তিনি বললেন, বরং সে মুসলিম।অতঃপর আমি সামান্য সময় চুপ করে থাকলাম। কিন্তু তার সৎগুণাবলী ও ঈমানী চরিত্র সম্পর্কে আমার অবগতি আমাকে প্রভাবিত করায় পুনরায় বললাম, “হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আপনি অমুক ব্যক্তিকে কেন দেননি? আল্লাহ্‌র শপথ! আমি জানি সে মু’মিন লোক”। তিনি (এবারও) বললেন, বরং সে মুসলিম।আমি এবারও সামান্য সময় চুপ করে থাকলাম। কিন্তু তার সম্পর্কে আমার অবগতি পুনরায় আমাকে প্রভাবিত করল। তাই আমি বললাম, আল্লাহ্‌র রাসূল! আপনি অমুক ব্যক্তিকে কিছু দেননি কেন? আল্লাহ্‌র শপথ! আমি ভাল করেই জানি সে মু’মিন। তিনি বললেন, বরং সে মুসলিম। তৃতীয়বার বললেন, আমি অধিকাংশ সময় কোন ব্যক্তিকে দেই কিন্তু অপর ব্যক্তি আমার কাছে তার তুলনায় অধিক প্রিয়। এর কারণ হচ্ছে - যদি তাদেরকে না দেই তাহলে হয়তো তাদেরকে উপুড় করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।আল হুলওয়ানীর বর্ণনায় দু’বারের উল্লেখ আছে।

ই.ফা.২৩০১, ই.সে. ২৩০২

সহীহ মুসলিম হাদিস ২৩২৩-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে সা‘দ (রাঃ) দেখলেন, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) কয়েকজনকে দান করছেন, কিন্তু তাঁর দৃষ্টিতে উত্তম এক ব্যক্তিকে দিচ্ছেন না। তিনি বারবার বললেন, তিনি মনে করেন লোকটি মুমিন। নবীজি (صلى الله عليه وسلم) প্রতিবার বললেন, “বরং সে মুসলিম।” এরপর তিনি দান বণ্টনের একটি গভীর কারণ জানালেন। তিনি অনেক সময় এমন ব্যক্তিকে দেন, অথচ অন্য ব্যক্তি তাঁর কাছে বেশি প্রিয়। কারণ, যাকে দেননি তাকে না দিলে হয়তো তার ঈমানি অবস্থার ক্ষতি হতে পারে বা সে আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়ার মতো বিপদের দিকে যেতে পারে—এই আশঙ্কা থাকে। এই হাদিস শেখায়, বাহ্যিকভাবে দান বণ্টনের কারণ সবসময় বোঝা যায় না। নবীজি (صلى الله عليه وسلم)-এর সিদ্ধান্তে মানুষের অন্তর, দুর্বলতা ও দ্বীনি নিরাপত্তা বিবেচনায় ছিল।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • দান বণ্টনের পেছনে গভীর প্রজ্ঞা থাকতে পারে।
  • যাকে বেশি প্রিয়, তাকে সবসময় বেশি দেওয়া হয় না।
  • মানুষের ঈমানি দুর্বলতা বিবেচনায় দান করা হতে পারে।
  • অন্যের সম্পর্কে নিশ্চিত ভাষা ব্যবহারে সতর্ক থাকা দরকার।

এই সম্পর্কিত হাদিসসমূহ

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন