১৪/৮. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ২৪২৮ - দুই আযানের মাঝে সাহরি
সুবহে সাদিকের পূর্বে পানাহার করা বৈধ, তবে সুবহে সাদিকের সাথে সাথেই সওম আরম্ভ হয়ে যায়, কুরআনে বর্ণিত ‘ফাজ্র’ শব্দের অর্থ হচ্ছে সুব্হি সাদিক, এ সময় হতেই সওম আরম্ভ হয় এবং ফাজ্বরের সলাতের সময় শুরু হয়, সওমের বিধি-বিধানের সাথে সুব্হি কাযিবের কোন সম্পর্ক নেই
দুই মুয়াজ্জিনের আযান ও সাহরির সঠিক সময়
সহীহ মুসলিম : ২৪২৮
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ২৪২৮
حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، - رضى الله عنهما - قَالَ كَانَ لِرَسُولِ اللَّهِ ﷺ مُؤَذِّنَانِ بِلاَلٌ وَابْنُ أُمِّ مَكْتُومٍ الأَعْمَى فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " إِنَّ بِلاَلاً يُؤَذِّنُ بِلَيْلٍ فَكُلُوا وَاشْرَبُوا حَتَّى يُؤَذِّنَ ابْنُ أُمِّ مَكْتُومٍ». قَالَ وَلَمْ يَكُنْ بَيْنَهُمَا إِلاَّ أَنْ يَنْزِلَ هَذَا وَيَرْقَى هَذَا .
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর দু’জন মুয়াজ্জিন ছিলেন, তাঁরা হলেন, বিলাল (রাঃ) ও উম্মু মাকতূমের অন্ধ ছেলে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ বিলাল (রাঃ) রাতেই আযান দেয়। অতএব ইবনু উম্মু মাকতূম আযান না দেয়া পর্যন্ত তোমরা পানাহার কর। বর্ণনাকারী বলেনঃ দু’জনের আযানের ব্যবধান ছিল যে, একজন আযান দিয়ে নামত অপরজন আযান দিতে আরোহণ করত।
ই.ফা. ২৪০৫, ই.সে. ২৪০৫
সহীহ মুসলিম হাদিস ২৪২৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বলা হয়েছে, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর দুইজন মুয়াজ্জিন ছিলেন—বিলাল (রাঃ) এবং ইবনু উম্মু মাকতুম (রাঃ)। বিলাল (রাঃ) রাতে আযান দিতেন, আর ইবনু উম্মু মাকতুমের আযান ছিল সাহরি শেষ হওয়ার দিকনির্দেশক। তাই নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেন, ইবনু উম্মু মাকতুম আযান না দেওয়া পর্যন্ত তোমরা পানাহার কর। বর্ণনাকারী আরও বলেছেন, তাঁদের আযানের ব্যবধান খুব বেশি ছিল না—একজন আযান দিয়ে নামতেন, আরেকজন আযান দিতে উঠতেন। এতে বোঝা যায়, সাহরি শেষ সময়টি ফজরের কাছাকাছি। এই হাদিস সাহরি, ফজর আযান, রোজার সময় এবং নবীজির বাস্তব নির্দেশনাকে সহজভাবে তুলে ধরে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সাহরি বন্ধের ক্ষেত্রে ফজরের আযানকে গুরুত্ব দিতে হবে।
- রাতের আযান ও ফজরের আযানের উদ্দেশ্য আলাদা হতে পারে।
- সাহরি শেষ সময় নিয়ে অযথা ভয় বা বিভ্রান্তিতে পড়া উচিত নয়।
- নবীজির নির্দেশনা মুসলিম সমাজে সময় ব্যবস্থাকে পরিষ্কার করে।
