১৬/১৭. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ২৮২৩ - এক তাওয়াফে হজ ও উমরা
ইহরামের প্রকারভেদ, ইফরাদ, ক্বিরান ও তামাত্তু‘ হাজ্জের জন্য ইহরাম বাঁধা জায়িয, একত্রে ‘উমরাহ ও হাজ্জের ইহরাম বাঁধাও জায়িয এবং ক্বিরান হাজ্জ পালনকারী কখন ইহরাম মুক্ত হবে
এক তাওয়াফে হজ ও উমরা: আয়িশা (রাঃ)-এর ঘটনা
সহীহ মুসলিম : ২৮২৩
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ২৮২৩
حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، حَدَّثَنَا بَهْزٌ، حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ طَاوُسٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، - رضى الله عنها - أَنَّهَا أَهَلَّتْ بِعُمْرَةٍ فَقَدِمَتْ وَلَمْ تَطُفْ بِالْبَيْتِ حَتَّى حَاضَتْ فَنَسَكَتِ الْمَنَاسِكَ كُلَّهَا . وَقَدْ أَهَلَّتْ بِالْحَجِّ . فَقَالَ لَهَا النَّبِيُّ ﷺ يَوْمَ النَّفْرِ " يَسَعُكِ طَوَافُكِ لِحَجِّكِ وَعُمْرَتِكِ» . فَأَبَتْ فَبَعَثَ بِهَا مَعَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ إِلَى التَّنْعِيمِ فَاعْتَمَرَتْ بَعْدَ الْحَجِّ .
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি ‘উমরার ইহরাম বাঁধলেন, এরপর (মাক্কায়) পৌঁছলেন এবং বায়তুল্লাহ ত্বওয়াফ না করতেই ঋতুবতী হলেন। এরপর তিনি হজের ইহরাম বাঁধলেন এবং এর যাবতীয় অনুষ্ঠান সম্পন্ন করলেন (ত্বওয়াফ ব্যতীত)। নবী (ﷺ) মিনায় অগ্রসর হবার দিন তাঁকে বললেন, তোমার (একবারের) ত্বওয়াফই তোমার হজ ও ‘উমরাহ্ উভয়ের জন্য যথেষ্ট। কিন্তু তিনি তাতে তৃপ্ত হলেন না। তাই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে ‘আবদুর রহমানের সাথে তান‘ঈম পাঠালেন। অতএব তিনি হজের পর (এখান থেকে) ইহরাম বেঁধে ‘উমরাহ্ করলেন।
ই.ফা. ২৮০০, ই.সে. ২৭৯৮
সহীহ মুসলিম হাদিস ২৮২৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আয়িশা (রাঃ)-এর উমরার ইহরাম, হায়জ এবং পরে হজের আমল করার কথা এসেছে। তিনি উমরার ইহরাম বেঁধে মক্কায় পৌঁছলেন, কিন্তু বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করার আগেই ঋতুবতী হলেন। এরপর তিনি হজের ইহরাম করেন এবং তাওয়াফ ছাড়া অন্যান্য অনুষ্ঠান সম্পন্ন করেন। মিনার দিকে অগ্রসর হওয়ার দিন নবী (صلى الله عليه وسلم) তাঁকে বলেন, তাঁর তাওয়াফ তাঁর হজ ও উমরা উভয়ের জন্য যথেষ্ট। কিন্তু তিনি এতে তৃপ্ত হননি। তাই রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাঁকে আবদুর রহমান (রাঃ)-এর সঙ্গে তানঈম পাঠান। এরপর তিনি হজের পর উমরা করেন। এই হাদিসে তাওয়াফ, হায়জ ও তানঈম উমরার বিষয় একসঙ্গে এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- উমরার তাওয়াফের আগে হায়জ হলে তাওয়াফ অপেক্ষা করতে হয়।
- আয়িশা (রাঃ) পরে হজের ইহরাম করে হজের কাজ করেন।
- নবী (صلى الله عليه وسلم) তাঁর তাওয়াফকে হজ ও উমরার জন্য যথেষ্ট বলেছেন।
- তবুও তাঁর মনের চাহিদা দেখে তানঈম থেকে উমরার সুযোগ দেওয়া হয়।
