১৬/২৬. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ২৮৮২ - ইবনু উমর রাঃ-এর কিরান হজ
বাধাপ্রাপ্ত হলে হালাল হওয়ার বৈধতা এং হাজ্জে ক্বিরান বৈধ হওয়ার বিবরণ
ইবনু উমর রাঃ-এর কিরান হজ ও এক তাওয়াফের আমল
সহীহ মুসলিম : ২৮৮২
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ২৮৮২
وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رُمْحٍ، أَخْبَرَنَا اللَّيْثُ، ح وَحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، - وَاللَّفْظُ لَهُ - حَدَّثَنَا لَيْثٌ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ ابْنَ عُمَرَ، أَرَادَ الْحَجَّ عَامَ نَزَلَ الْحَجَّاجُ بِابْنِ الزُّبَيْرِ فَقِيلَ لَهُ إِنَّ النَّاسَ كَائِنٌ بَيْنَهُمْ قِتَالٌ وَإِنَّا نَخَافُ أَنْ يَصُدُّوكَ فَقَالَ لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ أَصْنَعُ كَمَا صَنَعَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِنِّي أُشْهِدُكُمْ أَنِّي قَدْ أَوْجَبْتُ عُمْرَةً . ثُمَّ خَرَجَ حَتَّى كَانَ بِظَاهِرِ الْبَيْدَاءِ قَالَ مَا شَأْنُ الْحَجِّ وَالْعُمْرَةِ إِلاَّ وَاحِدٌ اشْهَدُوا - قَالَ ابْنُ رُمْحٍ أُشْهِدُكُمْ - أَنِّي قَدْ أَوْجَبْتُ حَجًّا مَعَ عُمْرَتِي . وَأَهْدَى هَدْيًا اشْتَرَاهُ بِقُدَيْدٍ ثُمَّ انْطَلَقَ يُهِلُّ بِهِمَا جَمِيعًا حَتَّى قَدِمَ مَكَّةَ فَطَافَ بِالْبَيْتِ وَبِالصَّفَا وَالْمَرْوَةِ وَلَمْ يَزِدْ عَلَى ذَلِكَ وَلَمْ يَنْحَرْ وَلَمْ يَحْلِقْ وَلَمْ يُقَصِّرْ وَلَمْ يَحْلِلْ مِنْ شَىْءٍ حَرُمَ مِنْهُ حَتَّى كَانَ يَوْمُ النَّحْرِ فَنَحَرَ وَحَلَقَ وَرَأَى أَنْ قَدْ قَضَى طَوَافَ الْحَجِّ وَالْعُمْرَةِ بِطَوَافِهِ الأَوَّلِ . وَقَالَ ابْنُ عُمَرَ كَذَلِكَ فَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم .
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
হাজ্জাজ ইবনু ইউসুফ যে বছর ইবনু যুবায়র (রাঃ)-এর বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হ’ল- সে বছর ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমর (রাঃ) হজে যাবার সংকল্প করলেন। তাঁকে বলা হ’ল, লোকদের মধ্যে এখন যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে এবং আমাদের আশঙ্কা হচ্ছে- তাঁরা আপনাকে বাধা দিবে।তিনি বললেন, “তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ”- (সূরা আল আহযাব ৩৩ : ২১)।এরূপ পরিস্থিতিতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যা করেছেন, আমিও অনুরূপ করব। আমি তোমাদের সাক্ষী রাখছি যে, নিশ্চয়ই আমি ‘উমরার সংকল্প করেছি। অতঃপর তিনি রওনা হলেন। অবশেষে যখন আল বায়দার উপকণ্ঠে পৌঁছলেন তখন তিনি বললেন, হজ ও ‘উমরার অবস্থা একই, তোমরা সাক্ষী থাক। ইবনু রুম্হের বর্ণনায় আছে : আমি তোমাদের সাক্ষী রাখছি যে, আমি নিশ্চয়ই আমার ‘উমরার সাথে হজ অনিবার্য করে নিলাম।অতঃপর তিনি কুরবানীর পশু সঙ্গে নিলেন যা তিনি কুদায়দ নামক স্থানে ক্রয় করেছিলেন। অতঃপর তিনি হজ ও ‘উমরার একত্রে ইহরাম বেঁধে অগ্রসর হলেন। অবশেষে মাক্কায় পৌঁছে তিনি বায়তুল্লাহ-এর ত্বওয়াফ এবং সাফা-মারওয়ার মাঝে সা’ঈ করলেন, এর অতিরিক্ত কিছু করলেন না। তিনি কুরবানীও করেননি। মাথা মুণ্ডান বা চুল ছাঁটেননি এবং (ইহরামের কারণে) যা কিছু তাঁর জন্য হারাম হয়েছিল, তাঁর কোনটি হালাল করেননি। অবশেষে কুরবানীর দিন এলে তিনি কুরবানী করলেন ও মাথা কামালেন এবং তাঁর মত অনুযায়ী তিন তাঁর প্রথম ত্বওয়াফ দ্বারাই হজ ও ‘উমরার ত্বওয়াফ সম্পাদন করে ফেলেছেন। ইবনু ‘উমর (রাঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এরূপ করেছেন।
ই.ফা. ২৮৫৮, ই.সে. ২৮৫৭
সহীহ মুসলিম হাদিস ২৮৮২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ইবনু উমর (রাঃ)-এর হজের সংকল্পের বিস্তারিত ঘটনা এসেছে। যুদ্ধাবস্থার কারণে তাঁকে সতর্ক করা হলে তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর মধ্যে উত্তম আদর্শ আছে; তিনি রসূলের মতোই করবেন। প্রথমে তিনি উমরার সংকল্প করেন। আল-বায়দার কাছে গিয়ে বলেন, হজ ও উমরার অবস্থা একই; তাই তিনি উমরার সঙ্গে হজও বাধ্যতামূলক করলেন। পরে কুরবানির পশু নিলেন, হজ ও উমরা একত্রে ইহরাম করলেন, মক্কায় গিয়ে বায়তুল্লাহ তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়া সাঈ করলেন। কুরবানির দিন পর্যন্ত তিনি কুরবানি, মাথা মুণ্ডন বা ইহরাম খোলা কিছুই করেননি। শেষে তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) এমন করেছেন। এটি কিরান হজ ও সুন্নাহ অনুসরণের গুরুত্বপূর্ণ বর্ণনা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সঙ্কটের সময় রসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর আদর্শ অনুসরণ করা সাহাবির পথ ছিল।
- ইবনু উমর (রাঃ) উমরার সঙ্গে হজ যুক্ত করেছেন।
- কুরবানির দিন পর্যন্ত তিনি ইহরাম খুলেননি।
- এক তাওয়াফে হজ ও উমরার তাওয়াফ সম্পন্ন মনে করার বর্ণনা এসেছে।
